হাজীগঞ্জে আদালতের রায়ের পরেও একাধিক মামলার আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে

স্টাফ রিপোর্টার

হাজীগঞ্জে পাওনা টাকা আদায়ে চেক ডিজউনার মামলায় আদালতের রায় অনুযায়ী আসামি গ্রেফতার ও পাওনা টাকা পরিশোধ করার নির্দেশনা এলেও তা অজ্ঞাত কারণে আসামি গ্রেফতার হচ্ছে না বলে মামলার বাদীপক্ষ জানান। এতে করে ভুক্তভোগী মামলার বাদী তার পাওনা টাকা ও আসামি গ্রেফতারের দাবিতে দ্বারে-দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
অভিযোগের আলোকে জানা যায়, মামলার বাদী মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার (পিতামৃত আবু তাহের ভূঁইয়া, সাং বড়কুল, থানা হাজীগঞ্জ, জেলা চাঁদপুর) সাথে পরিচয়ের সুবাদে আসামি মো. আতাউল করিম মিয়াজীকে (পিতামৃত হাজি শামসুল হক, সাং পশ্চিম হাটিলা, পোঃ হাটিলা, টঙ্গীরপাড়, থানা হাজীগঞ্জ) ৫ বছর আগে ব্যবসার কাজে ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা হাওলাদ বাবদ দেন। পরবর্তীতে আসামি ঐ টাকা পরিশোধ না করে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বাদীকে দিনের পর দিন হয়রানী করতে থাকে। ২০১৫ সালে ১ নভেম্বর সকাল ৯টায় হাজীগঞ্জ বাজারে মেসার্স করিম এন্ড সন্সে আসামি বাদীকে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক হাজীগঞ্জ শাখার (হিসাব নং ০৮২১০২০০০১৫৯৯, চেক নং ৫৭৮৫৩৪৬) ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকার একটি চেক প্রদান করে। পরবর্তীতে বাদী ২০১৬ সালের ৩১ মার্চ চেকটি ব্যাংকে জমা দিতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানান আসামির নামীয় হিসাবে টাকা নেই। তাই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি ডিজউনার করে একটি স্লিপ প্রদান করে। বাদী ঐ ডিজউনার কপি নিয়ে ২০১৬ সালের ৫ এপ্রিল আসামিকে ৩০ দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধের জন্য একটি লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন। তাতেও আসামি বাদীর টাকা পরিশোধ করেন নাই। বাদী উপায়ন্ত না দেখে হাজীগঞ্জ আমলী আদালতে সিআর মোকদ্দমা নং ৯৭/১৬ইং, দঃবিঃ এন আই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার পরবর্তী এস/সি নং ৫৫৮/২০১৬ইং বদলি হয়ে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ কোর্টে রায় ঘোষণা করা হয়।
মামলার রায় অনুযায়ী আসামি মো. আতাউল করিমের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ২০১৭ সালের ২৬ নভেম্বর আদালত দোষী সাব্যস্ত করে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও চেকে উল্লেখিত ২২,৮০,০০০/- (বাইশ লাখ আশি হাজার) টাকা জরিমানা দণ্ড প্রদান করে। যে টাকা বাদী মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া পাবে। কিন্তু আদালতের আদেশের পরও আসামি আতাউল করিম আজ পর্যন্ত গ্রেফতার হয়নি এবং চেকের টাকাও বাদীপক্ষ পায়নি।
প্রশাসনের কাছে বাদী আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার আকুল আবেদন আসামি আতাউল করিমকে গ্রেফতার ও চেকে উল্লেখিত পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য আকুতি জানান। বাদী আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া আরো জানান, আসামি আতাউল করিমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সে আসামি হয়ে সে বাদীকে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি-ধমকি ও প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাই পুলিশের সহযোগিতায় আসামি আতাউল করিমকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণের অনুরোধ জানান বাদী।
২২ অক্টোবর, ২০২০।