হাজীগঞ্জে আবারো বিয়ে বাড়ির খাবার গেলো এতিমখানায়

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে আবারো বিয়ে বাড়ির খাবার গেলো এতিমখানায়। দশম শ্রেণিতে পড়ুুুয়া এক ছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করে মেহমানদের জন্য রান্নাকৃত খাবার এতিমদের মাঝে বিতরণ করা হয়। গতকাল সোমবার বিকালে উপজেলার কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়ার নির্দেশে এ বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সানজিদা মজুমদার। এ সময় তিনি প্রাপ্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেয়ার শর্তে ওই ছাত্রীর বাবা-মায়ের কাছ থেকে মুচলেকা নেন।
জানা গেছে, বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া ওই ছাত্রী পিরোজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন কার্ড অনুযায়ী তার বয়স ১৫ বছর ৯ মাস ২৭ দিন। গতকাল সোমবার বিকালে তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া তাৎক্ষনিক ব্যবস্থাগ্রহণ করেন।
বরপক্ষ আসার আগেই উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সানজিদা মজুমদারসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এ বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়। পরে মেহমানদের জন্য রান্নাকৃত খাবার এতিমদের জন্য পিরোজপুর দারুল উলুম কওমী মাদরাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্সে প্রদান করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মানিক হোসেন প্রধানীয়া, পিরোজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান পাটওয়ারীসহ স্থানীয় ইউপি সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য, এর আগে গত শুক্রবার উপজেলার হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের লাউকরা গ্রামে দশম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়। ওই ঘটনায় ছাত্রীর বাবাকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং মেহমানদের জন্য রান্নাকৃত খাবার এতিমখানায় প্রদান করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া।