মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে হাজীগঞ্জে উপজেলায় গত তিনে দিনের টানা বৃষ্টিতে আলু, সরিষা, পেঁয়াজ, রসুন ও শীতকালীন সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। বিশেষ করে আলু, সরিষা ও শীতকালীন সবজির বীজতলা জমিতে পানি জমে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বপনকৃত বীজ। এতে করে কৃষকেরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। কৃষকদের পাশাপাশি ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ।
উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, তিন দিনের অনাকাক্সিক্ষত বৃষ্টিতে কৃষি ক্ষেতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। ফলে আলু, সরিষা, শাকসবজি, পেঁয়াজ, রসুন ও বোরো ধানের বীজতলার জমি প্রায় ডুবুডুবু অবস্থা। ক্ষেতের এই জলাবদ্ধতায় ইতোমধ্যে আলু, সরিষা, শীতকালীন সবজি ও রসুনের প্রায় ৮০ ভাগ নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া পেঁয়াজের বীজতলা প্রায় ৫০ ভাগ এবং বোরো ধানের বীজতলা প্রায় ২০ ভাগ নষ্ট হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলায় ২৮০ হেক্টর জমিতে আলুর বীজ বপন করা হয়েছিলো। গত তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে সবগুলো বীজ নষ্ট হয়ে গেছে। ৪০৫ হেক্টর জমিতে সরিষা বীজ বপনের মধ্যে প্রায় ৮০ ভাগ বীজ নষ্ট হয়েছে। ৬১০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি ও ১৫ হেক্টর জমির রসুনের প্রায় সবই নষ্ট হয়ে গেছে। ছাড়াও ৪০ হেক্টর জমির বপনকৃত পেঁয়াজের অর্ধেকেরও বেশি নষ্ট এবং ৫০৫ হেক্টর জমির বোরধানের বীজতলার প্রায় ১০ শতাংশ নষ্ট হয়েছে।
এ বিষয়ে কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা হলে তারা জানান, মাত্র কয়েকদিন আগে এবং গত শনিবার পর্যন্ত যারা আলু, সরিষা ও শীতকালীন সবজির বীজ রোপণ করেছেন। এখন তাদের কৃষি জমিগুলোতে বৃষ্টির পানি জমে আছে। টানা বৃষ্টির ফলে পানি সরতেও পারেনি। যার ফলে বীজতলাগুলো কদমাক্ত হয়ে বীজ নষ্ট হয়ে গেছে।
কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নের কৃষক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান পলাশ জানান, গত সপ্তাহ জুড়ে আমিসহ এই এলাকার কৃষকেরা ধারদেনা করে আলুর বীজ রোপণ করেছি। এই বীজ এখন পানিতে ডুবে আছে। তিনি বলেন, একদিকে বীজতলা নষ্ট, অপরদিকে বীজের দাম বেড়ে যাওয়ার কারনে আমরা এখন দুই দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ দিলরুবা খানম জানান, এ বছর আলু, মিষ্টিআলু ও শীতকালীন সবজিসহ উন্নতজাতের বীজ সংগ্রহ করে কৃষকদের দেয়া হয়েছে। অথচ গত তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার কৃষকেরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিশেষ করে আলু, সরিষা, রসুন ও শীতকালীন সবজিসহ তেরশ (এক হাজার তিনশ’) হেক্টর জমির বীজ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে।
তিনি বলেন, ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এছাড়া জেলা প্রশাসন থেকেও তথ্য চেয়েছে। সেখানেও আমরা তথ্য দিয়েছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কৃষকদের সহযোগিতার লক্ষ্যে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে আন্তরিক। যদি কোন বরাদ্দ আসে তাহলে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে পৌঁছে দিবো।
০৯ ডিসেম্বর, ২০২১।
