হাজীগঞ্জে ইমামের বিরুদ্ধে শিশু শিক্ষার্থীদের বলৎকারের অভিযোগ

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে মসজিদের ভিতরে একাধিক শিশু শিক্ষার্থীকে বলৎকারের (ধর্ষণ) অভিযোগ উঠেছে মাও. হারুন অর রশিদ (৪০) নামের এক ইমামের বিরুদ্ধে। উপজেলার হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়নের কাঁঠালী বাদামতলী বায়তুন নূর জামে মসজিদের এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই মসজিদের খতিব ও পেশ ইমাম এবং মসজিদ সংশ্লিষ্ট মাদরাসার পরিচালক ও প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা গেছে, ওই ইউনিয়নের কাঁঠালী বাদামতলী বাজারস্থ বায়তুন নূর জামে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নূরাণী ও হাফেজীয়া বিভাগে মোট ৪২ জন শিশু শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছেন। এর মধ্যে হাফেজীয়া বিভাগে ২৩ জন শিক্ষার্থী পবিত্র কোরআন মাজিদ মুখস্ত করছেন। এই হাফেজিয়া বিভাগের একাধিক শিশু শিক্ষার্থীকে বলৎকারের অভিযোগ উঠায় মসজিদের ইমাম মাও. হারুন অর রশিদ গত শনিবার রাত থেকে পলাতক রয়েছেন।
মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হলে তারা জানান, ঘটনার কতটুকু সত্য, তা তারা জানেন না। তবে মাদরাসার বেশ ক’জন শিক্ষার্থীর সাথে বড় হুজুর (মাও. হারুন অর রশিদ) খারাপ কাজ (বলৎকার) করেছেন, এমন কথা তারা এলাকার মানুষের কাছ থেকে শুনেছেন। এরপর শনিবার এশার নামাজের পর থেকে হুজরাখানা (ইমামের থাকার ঘর) তালাবদ্ধ এবং বড় হুজুরও মসজিদ-মাদরাসায় আসেননি।
কথা হয় বলৎকারের শিকার এক শিশুর পরিবারের সাথে। এসময় তার দাদা জানান, নাতি প্রায় সময় এমন কথা (বলৎকার) বলতো। কিন্তু আমরা বিশ^াস করিনি। তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার নাতি মাদরাসা থেকে বাড়িতে চলে আসে এবং বড় হুজুর তার সাথে খারাপ কাজ করছে উল্লেখ করে সে মাদরাসায় যাবে না বলে আমাদের জানায়। তার সাথে জিহাদ নামের অপর এক শিশুর সাথেও বড় হুজুর একই কাজ করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।
এদিকে মাও. হারুন অর রশিদকে মসজিদ, মাদরাসা ও বাড়িতে খোঁজ করে না পাওয়ায় এবং ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর দুইটি (০১৭২৪—-৫৬০, ০১৮২৭—-৬৩৭) বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়া বাড়িতে গিয়ে তার ভাতিজার সাথে কথা হলে তিনি মাও. হারুন অর রশিদের বসতঘর থেকে ফিরে এসে জানান, চাচা বাড়িতে নেই এবং চাচি কথা বলবেন না বলে সংবাদকর্মীদের জানান।
ইমাম সাহেব গত দুইদিন ধরে মসজিদে আসছেন না উল্লেখ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মুসুল্লী বলেন, তার (ইমাম) বেশ সুনাম রয়েছে। কিন্তু তিনি এমন কাজ করেছেন, তা ভাবতেও অবাক লাগে।
মসজিদ ও মাদরাসার তো দোষ নেই, এখানে ব্যক্তির সমস্যা। তাই সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে মসজিদ ও মাদরাসার দাতা পরিবারের একজন সদস্য বলেন, আমাদের কাছে অভিযোগ (বলৎকার) আসায় সাময়িকভাবে তাকে (মাও. হারুন অর রশিদ) মসজিদ ও মাদরাসায় আসতে নিষেধ করেছি।
তিনি বলেন, এলাকার মানুষকে অনুরোধ জানিয়েছি। কেউ যেন উত্তেজিত হয়ে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না করে। সবাই কথা রেখেছেন। আগামি শুক্রবার মিটিং আছে, ওই মিটিংয়ে তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি (ইমাম) যে অসম্মানিত হয়েছেন, এতে তার বিচার এমনিতেই হয়ে গেছে বলে তিনি জানান।
মসজিদ ও মাদরাসার সেক্রেটারী সিরাজ মৃধার মুঠোফোনে (০১৮২৩—২৭৬) একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়, কিন্তু তিনি ফোনকল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. হেলাল পাটোয়ারীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, লোকমুখে এবং এলাকাবাসীর মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পেরেছি। তবে ওই শিশুদের পরিবারের কেউ আমাকে জানায়নি। তিনি বলেন, বরং আমি জিহাদের বাবার সাথে কথা বলেছি, তিনি আমার সাথে পরে কথা বলবেন বলে জানান।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ জানান, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। তবে আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি।

২৪ অক্টোবর, ২০২৩।