এস.এম চিশতী
হাজীগঞ্জে কামরুল হাসান বাবু (১৬) নামের এক কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহত বাবু উপজেলার ৯নং গর্ন্ধব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের আহম্মদপুর গ্রামের আশকর বেপারী বাড়ি কামাল হোসেন বড় ছেলে।
এর আগে বুধবার বাদ মাগরিব গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর হরিপুর মাঠের আতিক শাহ ব্রিকফিল্ড থেকে বিদ্যুৎপৃষ্টে আহত হওয়ায় বাবুকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে তার বন্ধু শাহপরান (২৮) ও ফয়সাল (২২)। পরে কর্তব্যরত ডাক্তার মুহাম্মদ আজাদুল হক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বাবুকে মৃত ঘোষণা করে পুলিশে খবর দেন।
নিহতের পিতা কামাল হোসেনসহ তার আত্মীয়-স্বজন হাসপাতালে ছুটে আসেন এবং তার ছেলে নিহতের ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ বাবুর লাশ থানায় নিয়ে আসে এবং শাহপরান ও ফয়সালকে আটক করেন। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তারা একই বাড়ির বাসিন্দা।
নিহতের পিতা কামাল হোসেন জানান, বুধবার মাগরিবের পর শাহপরান ও ফয়সাল আমার ছেলে বাবুকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপরেই ফয়সালের বড় ভাই কাউছার আমার ছেলের দূর্ঘটনায় আহত হওয়ার খবর নিয়ে আসে। তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, হাসপাতালে এসে দেখি আমার ছেলে জীবিত নেই।
শাহপরান ও ফয়সালের উপর সন্দেহ হলে তিনি জানান, আমার ছেলেকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে, নাকি সত্যিই বিদ্যুৎপৃষ্টে মারা গেছে, তার প্রকৃত কারন জানতে চাই।
তবে স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে, মটর চুরির উদ্দেশ্যে আতিক শাহ্ ব্রিক ফিল্ডে যায় শাহপরান, ফয়সাল ও বাবু। সেখানে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা যায় বাবু। আবার কেউ কেউ বলছেন, বাবুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে শাহপরান ও ফয়সাল মাদক সেবন ও চুরির সাথে জড়িত বলে এলাকাবাসী নিশ্চিত করেন।
ব্রিক ফিল্ডের পরিচালক নেছার আহমেদ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবী জানান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মুহাম্মদ আজাদুল হক বলেন, কামরুল হাসান বাবুকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি।
এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসার প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।