স্টাফ রিপোর্টার
হাজীগঞ্জে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কৃষকের মেয়েকে চাকরি দেয়ার নাম করে নগদ দুই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স¤প্রতি উপজেলার বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির হোসেন গাজীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেন ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা গোবিন্দপুর গ্রামের আব্দুর রহিম ভূঁইয়া। তিনি ওই গ্রামের মৃত নুরুল হক ভুঁইয়ার ছেলে।
আব্দুর রহিম ভূঁইয়া জানান, তিনি পেশায় একজন কৃষক। তার তিন মেয়ে রয়েছে এবং কোন ছেলে নেই। তিনি কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ ও মেয়েদের পড়ালেখা করাচ্ছেন। তাই মেয়েদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বড় মেয়েকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি জন্য চেয়ারম্যান মনির হোসেন গাজীর সাথে ২০১৮ সালে ৫ লাখ টাকা কন্ট্রাক্ট করেন। এরপর তিনি ২ লাখ টাকা চেয়ারম্যানকে দেন, বাকি টাকা চাকরি হলে দিবেন।
পরবর্তীতে মেয়ের চাকরি না হওয়ায় চেয়ারম্যানের কাছ থেকে তিনি এই দুই লাখ টাকা ফেরত চান। কিন্তু চেয়ারম্যান টাকা না দিয়ে তাল-বাহানা শুরু করেন। বিষয়টি তার এলাকার অনেকেই জানেন বলে জানান আব্দুর রহিম ভূঁইয়া। তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমি অন্যের কাছ থেকে সুদে টাকা এনে চেয়ারম্যান মনির হোসেন গাজীকে ২ লাখ টাকা দিয়েছি। এর মধ্যে আমি মেয়ের বিয়েও দিয়েছি। এখন আমি ঋণগ্রস্ত।
এদিকে পাওনা টাকা আদায়ের লক্ষ্যে চেয়ারম্যান মনির হোসেন গাজীকে উকিল নোটিশও দেন আব্দুর রহিম ভূঁইয়া। তিনি ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর চাঁদপুর জজ কোর্টের অডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজীর মাধ্যমে এই উকিল নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশে বলা হয়, চেয়ারম্যান তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিধি বৃদ্ধির জন্য আব্দুর রহিম ভূঁইয়ার কাছ থেকে ২০১৮ সালের ১৮ মে ২ লাখ টাকা হাওলাত নেন।
পরবর্তীতে নির্দিষ্ট সময়ের পর টাকা পরিশোধ না করে দেই-দিচ্ছি বলে কালক্ষেপণ করেন চেয়ারম্যান। এরপর ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আব্দুর রহিম ভূঁইয়া টাকা চাইলে চেয়ারম্যান টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন।
আব্দুর রহিমের অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে জানান, ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন গাজী। তিনি বলেন, আমার একটি পুরানো বসতঘর ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আব্দুর রহিমের মাধ্যমে তার জামাতার (মেযের স্বামী) কাছে বিক্রি করি। পরে ঘর বিক্রি বাবদ সে নগদ ৫০ হাজার এবং তার বেয়াই ও জামাতা ৮০ হাজার টাকাসহ মোট ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা আমাকে পরিশোধ করে।
তিনি আরো বলেন, ওই ঘর বিক্রি বাবদ আমি এখনো ২০ হাজার টাকা পাওনা আছি। এই পাওনা টাকা চাইতে গেলে আব্দুর রহিমের সাথে আমার বাক-বিতন্ডা হয়। যার স্বাক্ষী তার বেয়াই ও জামাতা। তাছাড়া আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে তার প্রতিপক্ষরা আব্দুর রহিমকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ দাঁড় করিয়েছে বলে তিনি জানান।
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১।
