নারায়ন রবিদাস
সৌদি আরব, দুবাই এবং কাতারে প্রবাস জীবন কাটলেও সর্বশেষ দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে ফিরেন খালি হাতে। অন্যদিকে কয়েকবার প্রবাসে যাওয়ার জন্য নিজের পৈত্রিক ভূমির প্রাপ্ত সবটুকু
সম্পদও বিক্রি করে শেষ করেন। ফলে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব মহসীন মিয়া বর্তমানে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করছেন। নিজের পিতৃভ‚মিতে মাঝে মাঝে এসে থাকার জন্য একটু জমি চাইলেও ভাই-বোনদের কাছে তা পাননি।
মহসিন জানান, নিজেদের পৈত্রিক ভূমির পাশেই ১৫ শতক সরকারি খাস ভূমি রয়েছে। যা তিনি নিজেই দেখভাল করেন এবং গাছপালা রোপণ করে বাগান সৃজন করেছেন। একসময় ঐ ভূমিটি তাদের পৈত্রিক ভূমি ছিলো। সেই ভূমিতে একটি ঘর করে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর স্থায়ী বন্দোবস্ত চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু এতেই ঝামেলা বাঁধে সরকারি ভূমিতে মহসীন হোসেনের সৃজনকৃত বাগানের গাছপালা কেটে ফেলে তার বোন জামাইসহ লোকজন। শুধু তাই নয় সেখানে জমি বিক্রির সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয় তারা। ফলে বাধ্য হয়ে তিনি ফরিদগঞ্জ থানার আশ্রয়প্রার্থী হয়েছেন। ঘটনাটি উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ গ্রামের।
জানা গেছে, সাহেবগঞ্জ গ্রামের আলা বক্স হাজী বাড়ির মমতাজ মিয়ার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। এর মধ্যে মহসীন মিয়া সবার বড়। বর্তমানে তিনি ঢাকা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সানসিটি রোজ ভেলী গার্ডেনে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করেন। তিনি জানান, পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে তিনি সবার দেখভাল করলেও এখন তিনি অসহায়। ৫-৬ বছর সৌদি আরব, দুবাই এবং সর্বশেষ কাতারে প্রবাস জীবন কাটান। বেশ কয়েকবার বিদেশ যাওয়ার সময় তিনি অর্থাভাবে নিজের পৈত্রিক সম্পত্তির (ভাই-বোনদের অংশ ছাড়া) নিজের সব অংশটুকু বিক্রি করে ফেলেন। ৪ বছর আগে কাতারে অবস্থানকালে দুর্ঘটনায় পড়ে তিনি নিঃস্ব অবস্থায় দেশে ফিরে আসেন। পরে তিনি জীবিকার টানে ঢাকা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সানসিটি রোজভেলী গার্ডেনে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে চাকরি নেন। বর্তমানে সেখানেই তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। কিন্তু নিজের জন্মস্থানে একটি ঠিকানার জন্য তিনি তাদের পৈত্রিক সম্পত্তির পাশে ১৫ শতক সরকারি খাস ভূমিতে স্থায়ী বন্দোবস্ত পাওয়ার জন্য চাঁদপুর জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছেন। যা এখন প্রক্রিয়াধীন।
বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিন গেলে মহসীন মিয়া জানান, তিনি সরকারি এই খাস জমিটি দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছেন। রাস্তার পাশের এই স্থানে সৃজনকৃত বাগান তৈরি করেছেন। তিনি ভূমিহীন হিসেবে সরকারি খাস জমিতে বন্দোবস্ত পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন, এই সংবাদ শুনে গত মঙ্গলবার তার বোন জামাতাসহ লোকজন সৃজনকৃত বাগানের গাছপালা কেটে ফেলে। শুধু তাই নয় সেখানে জমি বিক্রির সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয় তারা। তিনি এখন আইন ও জেলা প্রশাসকের কাছে আশ্রয় প্রার্থী।
স্থানীয় আ. হান্নান, আ. আজিজ, আলমগীর, রুহুল আমিন ও বাবুল মিয়াসহ লোকজন জানান, মহসীন মিয়া সবকিছু হারিয়ে এখন ভূমিহীন। তাই সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার জন্য আবেদন করেছে বলে আমরা জেনেছি। কিন্তু এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তার বোন জামাতাসহ লোকজন তার ক্ষতিসাধন করছে।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে মহসীন মিয়ার বোন ও বোন জামাতাকে কয়েকবার মোবাইলে ফোন দিলেও তা তারা রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য জানা যায়নি। অন্যদিকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর গত মঙ্গলবার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন করেন বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সেলিম মিয়া।
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১।
