জঙ্গিবাদের তকমা আর মৌলবাদের উত্থানের কথা বলে সরকারে থাকতে চায় আ.লীগ
……..বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
গত ১৩ অক্টোবরের ঘটনায় হাজীগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির পরিদর্শন করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। শনিবার (২৩ অক্টোবর) বিকালে হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন রাজা লক্ষ্মী নারায়ন জিউর আড়খা ও রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম পরিদর্শন করেন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পূনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক হাজি ইয়াছিন রশীদ, সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমেলন্দ্র দাস অপু, সদস্য দেবাশীষ রায় মধু, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া, নির্বাহী কমিটির প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জি. মো. মমিনুল হক ও নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তফা খান।
পরিদর্শন শেষে সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, কুমিল্লা নানুয়ার দিঘীর পাড়ে পূজামন্ডপে পবিত্র কোরআন অবমাননা এবং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যা ঘটেছে, তা দুঃখজনক ও মর্মান্তিক এবং বাংলাদেশের জনগণের জন্য অপমানজনক ও অসম্মানজনক। যে ঘটনাটি ঘটেছে, এই ঘটনা নিয়ে বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব আছে এবং সাধারণ লোকজন ও রাজনৈতিক সচেতন, সুশীল সমাজ কেউই এটি বিশ্বাস করতে পারছেনা।
কারণ যে ইকবালকে ধরলো। তারা (সরকার) একবার বলছে সে ভবঘুরে, একবার বলছে মানসিক বিকারগ্রস্থ, আবার বলে মাদকাসক্ত। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই ধরনের একটা উন্মাদ প্রকৃতির লোক পবিত্র কোরআন চিনলো কেমনে, আর কেন এই কোরআন শরীফ মন্দিরে নিয়ে রাখলো? এই রকম একটি ট্রাজেডির পরে আরেকটা ড্রামার মধ্য দিয়ে আশপাশের দেশ থেকে বাংলাদেশকে মৌলবাদী, জঙ্গিবাদী ইত্যাদি আকারে তুলে ধরা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কোন স্পর্শকাতর বিষয় দেখা দিলে প্রশাসন প্রথম সেটা চাপা দেয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। অথচ ওসি নিজেই ঢোল পিটিয়ে দিলো পবিত্র কোরআন অবমাননা করা হয়েছে। আমি কোরআন শরীফ মন্দিরে পাইছি। এটার মধ্যে দিয়ে সারা দেশে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের মধ্যে একধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। যারা বুঝেন তারা চুপ করেন, আর কিছু অবুঝ লোক-তো থাকে সমাজে। তারা সংগঠিত হয়ে এই ঘটনা দুঃখজনক ঘটনাটি ঘটিয়েছে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরো বলেন, আমি ঢাকা থেকে রওয়ানা দিলে প্রশাসন খবর পায় আমি হাজীগঞ্জে আসছি। কাউকে না জানিয়ে আসলেও খবর পায় আমার গাড়িটা কোন দিক দিয়ে আসছে। আর প্রশাসনের নাকের ডগায় বার-বার মিছিল করে এই হামলাগুলো হয়েছে, প্রশাসন চোখে দেখতে পারলোনা কেন? তাদের যে গোয়েন্দা সোর্স আছে এবং এই ছোট্ট জায়গা, এখান থেকে থানায় পায়ে হাটার পথ ১০ মিনিট। প্রশাসন নিশ্চুপ থাকলো কিসের ইঙ্গিতে।
সুতরাং আমি মনে করি, বাংলাদেশ একটা অসাম্প্রদায়িক দেশ এবং এই যে জঙ্গিবাদের তকমা আর মৌলবাদের উত্থানের কথা বলে সরকার ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার মধ্য দিয়ে আরো দীর্ঘ সময় তারা (আওয়ামী লীগ) সরকারে থাকতে চায়। তাদের ভোটের কোন বালাই নেই। জনগণের উপর তাদের কোন দায়িত্বও নেই।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার ছিল। তখন তিনটি বছর গেছে রোজা আর পূজা পাশাপাশি এবং দুই তিন দিনের ব্যবধানে তিনটি বছর গেছে কোরবানীর ঈদ আর পূজা। তখন দেশের কোথাও মসজিদের আজান আর মন্দিরের ঘন্টা নিয়ে বাদ-বিবাদ অথবা কোথাও কোন দূর্ঘটনা ঘটেনি। আজকে কেন এই ঘটনা ঘটলো, অবশ্যই এটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
বিএনপি নেতাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে উল্লেখ করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, হাজীগঞ্জ থানাসহ দেশের যে কয়টা স্থানে মামলা হয়েছে। সেকল মামলায় জ্ঞাতের মধ্যেই সিংহভাগ বিএনপির নেতা-কর্মীর নাম। বিএনপির যে সকল নেতাকর্মীরা মন্দির ও মানুষদের রক্ষা করছে, তাদেরকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। সরকার প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের না করে এবং তাদের আড়াল করার জন্য রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে অর্থাৎ রাজনৈতিক দলগুলোকে দূর্বল করার জন্য চেষ্টা করছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। আমরা সরকারকে বলছি, সরকার দায়িত্ব পালনে অবহেলা করছে এবং ঘটনার পর সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই। আমরা সরকারে নাই এবং পুলিশের ভয়ে পালিয়ে থাকি। আমাদের নেতাকর্মীরা যদি বাহির হতে পারতো। এই ভয়টা যদি না থাকতো। তাহলে সারা দেশের মন্দির রক্ষা করার জন্য আমাদের নেতাকর্মীরাই যথেষ্ট ছিল।
আগেও দেখা গেছে এবং ‘৯১ সালে আমরা ক্ষমতায় ছিলাম। বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার মতো ঘটনায়ও বাংলাদেশের কোন গাছের পাতা নড়ে নাই। তার মানে সরকার সেদিন গুরুত্ব দিয়ে জনগণকে প্রটেকশন দিয়েছে। সুতরাং এখানে বিএনপি-আওয়ামী লীগের দোষে এবং আওয়ামী লীগ বিএনপির দোষে, তা নয়। আওয়ামী লীগ এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীকে জেলহাজেত ঢুকানোর জন্য একটা পরিকল্পনা করছে।
আমরা তাদের বলবো এটা তাদের দায়িত্ব, তারা দায়িত্বে পালনে ব্যর্থ হয়েছে। অথবা দায়িত্ব পালনে তারা আন্তরিক না। অথবা দায়িত্ব পালন না করার মধ্য দিয়ে আমাদের বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নির্যাতন, নিস্পেষিত করার একটা হাতিয়ার হিসেবে পরিকল্পিতভাবে সরকার এই পৃষ্টপোষকতা করছে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি কর্মসূচী দেওয়ার আগেই সরকার গ্রেফতার শুরু করছে। আমাদের পার্টির মহাসচিবসহ আমরা প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের সর্বস্তরের আলেম-ওলামা ও বিভিণ্ন রাজনৈতিক দলেরকে নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের জনগণকে আহবান করেছি, ঐক্যবদ্ধভাবে এই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমরাও দল থেকে তাদের সহযোগিতা করবো।
এ সময় তিনি আরো বলেন আমরা ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও নিহতের বাড়িতে যেতে পারি নাই। আমরা যাবো কিন্তু প্রশ্ন আছে। কারণ আমরা গেলেও দোষ, না গেলেও দোষ। এখন পুলিশ বলবে, যারা হামলা করছে তাদের মারছি। তাদের বাড়িতে বিএনপি গেছে। এখানে বিএনপির ইন্ধন আছে। এখানে বিএনপির অর্থ যোগান আছে।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম.এ রহিম পাটওয়ারী, পৌর বিএনপির সভাপতি নাজমুল আলম চৌধুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল খায়ের মজুমদার, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম.এ নাফের শাহ, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সুমন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেনসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
২৪ অক্টোবর, ২০২১।
