চাঁদপুরে পিবিআই’র প্রেস ব্রিফিং
স্টাফ রিপোর্টার
শাহরাস্তি উপজেলায় ৪ মাস আগে খুন হন নূরুল আমিন (৬৯) ও তার স্ত্রী কামরুন্নাহার (৫৯)। এ ঘটনাটি ব্যাপক তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চাঁদপুর জেলার কর্মকর্তারা উদঘাটন করে ৩জনকে আটক করেন।
বিষয়টি শনিবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে জানাতে চাঁদপুর জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এ পুলিশ সুপার খন্দকার নূর রেজওয়ানা পারভিন শহরের বাবুরহাট এলাকার (পিবিআই) কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, আমরা দায়িত্ব পাওয়ার পর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ ঘটনায় চুরি হওয়া একটি মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে প্রথমে এলাকার চিহ্নিত চোর মো. আবদুল মালেক (৩৪) কে শাহরাস্তি উপজেলার মেহের ঘুঘুসাল গ্রাম থেকে আটক করি। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পরবর্তীতে অপর আসামি মো. ইলিয়াছ হোসেন (৫৩) কে ও মো. বশির (৪৫) কে (বাড়ি বরিশাল জেলার চরবাড়ীয়া গ্রামে হলেও তাকে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে) গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের আদালতে পাঠালে আদালত তাদের জবানবন্দী শেষে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
শাহরাস্তি উপজেলার পৌরসভায় নিজ বাড়িতে গত ৪ মাস আগে খুন হন গৃহকর্তা নূরুল আমিন (৬৯) ও তার স্ত্রী কামরুন্নাহার (৫৯)। এ ঘটনাটি শাহরাস্তি থানার পুলিশ দীর্ঘদিন চেষ্টা করে উদঘাটন করতে না পারায় এ দায়িত্ব অর্পিত হয় চাঁদপুর জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর উপর। তারা ব্যাপক তদন্ত শেষে একটি চুরি হওয়া মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে খুনের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে।
পিবিআইএর হাতে আটক আবদুল মালেক খুনের কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। সে শাহরাস্তি উপজেলার ঘুঘুশাল গ্রামের আবদুর রব ও রেজিয়া বেগমের ছেলে।
মালেক এলাকায় ছিঁচকে চোর হিসেবে পরিচিত। খুনি গ্রেফতার হওয়ায় এলাকা স্বস্তি নিঃশ্বাস আসে। এর আগে সন্দেহভাজন হিসেবে জোড়া খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ২ জনকে আটক করে পুলিশ। সেই সময় মামলার তদন্তের স্বার্থে তখন পুলিশ কিছুই বলতে রাজি হননি।
আরো জানা যায়, মূলত মালেক এলাকার ছিঁচকে চোর। গত ২৯ জুন নাওড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিনের বাড়িতে চুরির উদ্দেশে ঢুকে। চুরি করার এক পর্যায়ে মালেক ধরা পড়ে গেলে নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী কামরুন নাহারের মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই নুরুল আমিন মারা যায় এবং তার স্ত্রী কামরুন নাহারকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। ৩ দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান কামরুন নাহার।
শুক্রবার রাতে পিবিআই মালেককে সাথে নিয়ে দম্পতির বাড়িতে হাজির হয়। মালেকের জবানবন্দির ভিত্তিতে পুকুর থেকে খুনে ব্যবহৃত রডটি উদ্ধার করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী, সাধারন সম্পাদক রহিম বাদশা, দৈনিক ইল্শেপাড়ের প্রধান সম্পাদক রোটারিয়ান মাহবুবুর রহমান সুমনসহ স্থানীয়, জাতীয় পত্রিকার ও টেলিভিশন সাংবাদিকরা।
উল্লেখ্য, উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রাম থেকে পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের নাওড়া গ্রামে বাড়ি তৈরি করে বসবাস করে আসছেন মৃত আ. মজিদের ছেলে নিহত নুরুল আমিন। তিনি ৫/৬ বছর আগে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় হতে অবসরে যান। স্ত্রী কামরুন নাহার পার্শ্ববর্তী কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে অবসরজনিত ছুটিতে রয়েছিলেন। নিহত দম্পতির ১ ছেলে ও ৩ মেয়ে রয়েছে। গত ২৯ জুন নিজ বাড়ির ছাদ হতে নুরুল আমিনের (৬৯) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করা হয় স্ত্রী কামরুন নাহারকে (৫৯)। ঘটনার পরের দিন ১ জুলাই নিহত দম্পতির ছেলে মো. জাকারিয়া বাবু থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
২৪ অক্টোবর, ২০২১।
