হাজীগঞ্জে গণ-টিকার ক্যাম্পেইনে ৮,২০৪ জনের টিকা গ্রহণ

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
সারাদেশে মতো হাজীগঞ্জেও গণ-টিকার ক্যাম্পইন সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে শনিবার (৭ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত পৌরসভাসহ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টি ইউনিয়নে মোট ৮ হাজার ২০৪ জন পচিঁশোর্ধ্ব মানুষ টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেন। তাদের সবাইকে সিনোফার্মের টিকা দেওয়া হয়। এই টিকা গ্রহণের ৪ সপ্তাহ (১ মাস) পর দ্বিতীয় ডোজ নিতে হয়।
এর আগে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পৌরসভায় ওয়ার্ড প্রতি ২০০ জন করে ১২টি ওয়ার্ডে মোট ২ হাজার ৪০০ জন মানুষকে টিকার প্রথম ডোজ প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ৩০৬ জন টিকা গ্রহণ করেছেন। হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতায় এই টিকা প্রদানে ২৪ জন টিকাদানকারী, ৩৬ জন স্বেচ্ছাসেবক ও ১২ জন সুপারভাইজার দায়িত্ব পালন করেন।
অপরদিকে ইউনিয়নের ওয়ার্ড প্রতি ২০০ জন করে ৩টি ওয়ার্ডের জন্য মোট ৬০০ জনকে টিকা প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে মোট ৬ হাজার টিকার মধ্যে ৫ হাজার ৮৯৮ জন মানুষ টিকা গ্রহণ করেছেন। এই টিকা প্রদানে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ, আনসার বাহিনীর সদস্য ও গ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় ৬০ জন টিকাদানকারী, ৯০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও ১০ জন সুপারভাইজার দায়িত্ব পালন করেন।
বড়কুল পূর্ব ইউনিয়ন ও গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে আজ রোববার ও আগামিকাল সোমবার ৬শ’ করে দুই ইউনিয়নে মোট ১ হাজার ২শ’ জনকে টিকা প্রদান করা হবে। এ দিকে শনিবার সকালে হাজীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় গণ-টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন, পৌর মেয়র আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন ও ইউনিয়ন পর্যায়ে গণ-টিকার উদ্বোধন করেন, উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মাইনুদ্দিন।
পৌরসভা ও ইউনিয়নের এই অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন, চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াত উল্যাহ্, হাজীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস.এম সোয়েব আহমেদ চিশতী, হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ। এ ছাড়াও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন ইউনিয়নে গণ-টিকা কার্যক্রমের তদারকি করেন, উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
টিকা কার্যক্রমে পৌরসভায় পৌর মেয়রসহ স্ব-স্ব ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে সকল ইউপি চেয়ারম্যান ও স্ব-স্ব ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও গণ-টিকা কার্যক্রমে ইউনিয়ন পর্যায়ের মনিটরিং সেলের দায়িত্ব পালন করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. শাহাজান মিয়া ও পৌরসভার মনিটরিং সেলের দায়িত্ব পালন করেন, পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শক আব্দুল মালেক।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস.এম সোয়েব আহমেদ চিশতী বলেন, সবার সার্বিক সহযোগিতায় প্রথম পর্যায়ে গণ-টিকার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্র্তীতে টিকা প্রাপ্তি ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া হাসপাতালের টিকা কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।
সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক এবং সবার সার্বিক সহযোগিতায় সু-শৃখঙ্খলভাবে গণ-টিকার ক্যাম্পেইন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। টার্গেট অনুযায়ী যে কজন ( পৌরসভা এলাকায় ৯৪ ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ১০২ জন) বাদ পড়েছেন, তাদেরকে আগামিকাল (আজ) টিকা দেওয়া হবে।
সবাইকে মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে আপনারা যারা এখনো টিকা গ্রহণ করেন নি, তারা দ্রুত সুরক্ষা ওয়েবসাইটে বা এ্যাপে গিয়ে নিবন্ধণ করে নিন। এ ছাড়াও প্রবাসীদের পার্সপোর্ট দিয়ে আমি প্রবাসী ও পরবর্তীতে সুরক্ষা ওয়েবসাইটে বা এ্যাপে নিবন্ধণ গ্রহণের পর টিকা গ্রহণের আহবান জানান তিনি।
০৭ আগস্ট, ২০২১।