মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
যে বয়সে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার কথা, সে বয়সে সংসারে দায়িত্বভার কাঁধে তুলে নিলেন। সাংসারিক ব্যয়, ভাই-বোনের পড়ালেখার খরচ যোগাতে নেমে পড়তে হলো জীবন যুদ্ধে। পরিবারিক কিছু সঞ্চয়, আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতায় এবং ধার-দেনা করে মুদি, হার্ডওয়্যার ও স্যানেটারী মালামালসহ ভ্যারাইটিজ পণ্যের দোকান দিলেন মো. ফাহিম হোসেন।
প্রতিদিন কাকডাকা ভোর থেকে রাত পর্যন্ত বেচা-বিক্রি করে যে টাকা আয় হতো তা দিয়েই ছোট বোনের পড়ালোখাসহ সাংসারিক ব্যয় নির্বাহসহ মোটামুটি ভালোই চলছিলো। কিন্ত না, সে সুখ আর কপালে সইলো না। মাত্র এক ঘণ্টায় সবকিছু শেষ। পথে বসে গেলো ফাহিম। আগুনে তার জীবিকার একমাত্র সম্বল দোকান-ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে গেলো।
এতে করে আবারো অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে ফাহিম ও তার পরিবার। সে উপজেলার হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের খাকবাড়ীয়া গ্রামের বেপারীর বাড়ির মৃত আরিফ হোসেনের মেঝ ছেলে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে আগুন লেগে তার দোকানঘর ও মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক সর্ট-সার্কিটে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এত প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয় বলে জানান ফাহিম।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে বেপারী বাড়ির সামনের দোকান ঘরটি হঠাৎ করে আগুনে জ্বলতে দেখে বাড়ির লোকজন ও স্থানীয়রা ছুটে আসেন। তারা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। কিন্তু আগুনের ভয়াবহতার কাছে স্থানীয়দের কোন চেষ্টায় কাজে আসেনি। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততোক্ষণে দোকানসহ সব মালামাল পুড়ে ভস্মীভূত হয়।
স্থানীয়রা জানান, ফাহিমের বাবা মারা যাওয়ার পর তার উপর নির্ভরশীল ছিল পরিবার। কিন্তু দোকান ঘরটি পুড়ে নিঃস্ব হয়েছে সে। তাই সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম, জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশসহ বিত্তবান প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে ক্ষতিগ্রস্ত ফাহিমের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতার অনুরোধ জানান তারা।
এদিকে জীবিকা নির্বাহের একমাত্র সম্বল দোকানঘরটি পুড়ে যাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে ফাহিম ও তার পরিবারের লোকজন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফাহিম জানান, বেঁচে থাকার জন্য আমাদের আর কিছুই রইলো না।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ সদর ইউপির চেয়ারম্যান আলহাজ সফিকুল ইসলাম মীর জানান, আমি ঢাকায় আছি। তবে আগুন লাগার বিষয়টি জানতে পেরেছি। ক্ষতিগ্রস্ত ফাহিমের উপর নির্ভরশীল তার পরিবার। আমি এলাকায় আসলে তাদের বাড়িতে যাবো এবং ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতার চেষ্টা করবো। তিনি বলেন, এছাড়া প্রশাসনিকভাবে সহযোগিতার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহযোগিতা করা হবে।
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১।
