হাজীগঞ্জে তথ্যদাতা সিএনজি চালককে পুরস্কৃত করলো পুলিশ

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে এক তরুণীকে (২০) রাতভর দলবেধে ধর্ষণের অভিযোগে দুই ধর্ষককে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করায় সিএনজি ড্রাইভার ইসমাঈল হোসেনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাকে শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করেছে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ সার্কেল) মো. সোহেল মাহমুদ বৃহস্পতিবার দুপুরে তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।
এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সিএনজি চালক ইসমাঈল হোসেন। তিনি বলেন, পুলিশের প্রতি আমার যে বিরূপ মনোভাব ছিল, আজ তা দূর হয়ে গেছে। আমি স্যারদের ধন্যবাদ জানাই। সেদিন তাৎখনিক ব্যবস্থা নেয়ার ফলে একটি বোন তাৎখনিক আইনি সুবিধা পেয়েছে। এ সময় তিনি আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সবাইকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে সোহেল মাহমুদ বলেন, একজন তথ্যদাতাকে উৎসাহিত করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সামান্য উপহার দেয়া হয়েছে। আশাকারি এই সিএনজি চালক ভাইয়ের মতো, আমরা সবাই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করি, তাহলে যে কোন অপরাধমূলক কার্যক্রমে তাৎখনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। এতে করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির স্থলে উন্নতি হবে।
এ সময় তিনি ফৌজদারী (সিআরপিসি) কার্যবিধি ৪২নং ধারার কথা উল্লেখ করে সর্বস্তরের জনসাধারণকে পুলিশি কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহবান জানান। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) কার্যালয়ে শুভেচ্ছা উপহার প্রদানকালে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হারুনুর রশিদসহ উপজেলায় কর্মরত জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ফরিদগঞ্জ উপজেলার জয়শরা গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা এক তরুণী গত শনিবার (২২ মে) সকালে হাজীগঞ্জ উপজেলার নদী বাড়ি ক্যাফেতে ঘুরতে এসে স্থানীয় শাকিল হোসেনের সাথে পরিচয় হয়। পরে দিনভর ক্যাফেতে খাওয়া-দাওয়া শেষে ওই ক্যাপে এলাকায় ঘোরাফেরা করে। এ সময় শাকিলের বন্ধু হিসেবে মো. ইসমাঈল হোসেন, মো. মহিন উদ্দিন ও মো. কালু মিয়ার সাথে পরিচয় হয় ওই তরুণীর।
এরপর সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলে ওই তরুণী বাড়ী যেতে চাইলে মো. শাকিল হোসেন ও তার সহযোগিরা কৌশলে পৌরসভাধীন রান্ধুনীমূড়া গ্রামের বৈষ্ণব বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় বালুর মাঠে নিয়ে দলবেধে ধর্ষণ করে। একই রাতে ওই তরুণীকে নোয়াদ্দা গ্রামের একটি বাড়িতে নিয়ে আবারো তারা দলবেধে ধর্ষণ করে রোববার সকাল ১১টায় হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের পাশে বালুর মাঠে রেখে ধর্ষণকারীরা চলে যায়।
এ সময় ধর্ষণের শিকার তরুণীকে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পেয়ে সিএনজি চালক সংবাদকর্মী ও থানায় ফোন দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ওই তরুণীকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোহেল মাহমুদের দিক-নির্দেশনায় এবং থানার ওসি মোহাম্মদ হারুনুর রশিদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মহিন উদ্দিন ও শাকিল হোসেনকে আটক করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল।

৩১ মে, ২০২১।