মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
ফুটফুটে কোমলমতী শিশু জোবায়েরা আক্তার। বয়স মাত্র ১৩ মাস। ভালো-মন্দ কিছুই বুঝে না। শুধু ঘুম আর খেলাধুলা করেই তার সময় কাটে। খাবার-দাবার আর ঘুম পাড়ানি থেকে শুরু করে সবকিছুতেই বুকের মধ্যে আগলে রাখেন মা। কিন্তু অভাব-অনটনের মুখে পড়ে শিশুটিকে টাকার বিনিময়ে দত্তক দেওয়ার কথা ভাবেন বাবা।
কারণ অভাব ও অনটন তার পরিবারের নিত্যসঙ্গী। বাবা ২০১৬ সালে সিএনজিচালিত স্কুটারের চাপায় গুরুতর আহত হন। এরপর চিকিৎসাজনিত কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি টাকার অভাবে চিকিৎসা এবং ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না। এছাড়া তিনি অসুস্থতার কারণে আয়-রোজগার করতে পারছেন না।
অবশেষে যেই ভাবনা সেই কাজ। গত সোমবার (২১ মার্চ) দুপুরে চাঁদপুর নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ের মাধ্যমে রাজধানীতে বসবাসকারী নিঃসন্তান এক পরিবারের কাছে নগদ ১ লাখ টাকার বিনিময়ে সন্তান জোবায়েরা আক্তারকে দত্তক দেন শিশুটির বাবা মো. বশির ও মা আছমা আক্তার দম্পতি।
মো. বশির ও আছমা আক্তার নামক এই দম্পত্তি হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৩নং ওয়ার্ড ধেররা খাটরা-বিলওয়াই এলাকার ইউনুস মজুমদার বাড়ির বাসিন্দা। এদিকে টাকার বিনিময়ে সন্তান দত্তক দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনাটি জানতে পেরে সংবাদকর্মীরা ওই বাড়িতে ছুটে যায়।
এরপর ঘটনার সত্যতা জেনে সংবাদকর্মীরা বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও হাজীগঞ্জ থানায় জানায়। পরবর্তীতে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেন হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ। তিনি শিশুটিকে রাজধানী থেকে হাজীগঞ্জে নিয়ে আসার জন্য একজন কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছেন।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ জানান, দত্তক নেয়া পরিবারের সাথে কথা বলে শিশুটিকে হাজীগঞ্জে নিয়ে আসা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তারা পথে রয়েছেন (এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত)। পরবর্তীতে শিশুটি দত্তক দেয়া ও নেয়া দুই পরিবারের সাথে কথা বলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, শিশুটির বাবা মো. বশির জানান, ২০১৬ সালে সিএনজিচালিত স্কুটারের চাপায় গুরুতর আহত হন তিনি। এরপর চিকিৎসাজনিত কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি টাকার অভাবে চিকিৎসা এবং ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না। এছাড়া অসুস্থতার কারণে তিনি আয়-রোজগারও করতে পারছেন না।
তিনি বলেন, আমার সাড়ে ৩ বছর ও ১৩ মাস বয়সী দুইটি কন্যা সন্তান রয়েছে। টাকার অভাবে আমার চিকিৎসা, ঋণ পরিশোধ ও বাচ্চাদের খাবার কিনতে পারছি না। এদিকে অসুস্থতার কারণে কাজও করতে পারছি না। তাই ছোট মেয়েকে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে দত্তক দিয়ে দিয়েছি। বিনিময়ে তারা আমার চিকিৎসার জন্য ১ লাখ টাকা দিয়েছে।
শিশুটির মা আছমা আক্তার জানান, মেয়ের জন্য পরান পড়ে (মায়া লাগে)। কিন্তু কি করবো, আমার স্বামীর চিকিৎসা দরকার। তিনি অসুস্থতার জন্য কোন কাজ-কর্ম করতে পারেন না। তিনি সুস্থ থাকলে আমাদের খাওয়া-পড়া হবে। আর তিনি অসুস্থ থাকলে আমরা কি খাবো, কোথায় যাবো? তাই বাধ্য হয়ে মেয়েটারে দত্তক দিয়েছিলাম।
২৩ মার্চ, ২০২২।
