হাজীগঞ্জে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় সমাবেশ

সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের সামাজিকভাবে প্রতিহত করা হবে
….মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এমপি

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় হাজীগঞ্জে সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারস্থ চৌরাস্তায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এদেশে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে একত্রে বসবাস করে আসছে। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা যখন উন্নয়ন ও অগগ্রতির দিকে ধাবিত হচ্ছি ঠিক তখনই স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি সেই উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে রুখে দিতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে ব্যাহত করার চেষ্টা করেছে।
তিনি আরো বলেন, ষড়যন্ত্রের অন্যতম মাধ্যম ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টকরণ। কিন্তু তাদের কোন ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। প্রধানমন্ত্রীর সাহসি ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি এবং এগিয়ে যাবো। কারণ, জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির বাংলাদেশে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সমগ্র জাতি আজ সজাগ। আমরা তাদের সামাজিকভাবে প্রতিহত করবো। এজন্য সবাইকে সচেতন থাকাতে হবে।
এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, গত বছর হাজীগঞ্জে যে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে, আমরা তার পুনরাবৃত্তি চাই না। আমাদের সম্প্রীতি শত-শত বছর টিকে থাকুক। কেউ যেন আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে। সেজন্য আমাদের সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি পবিত্র কোরআন মাজিদ ও মহাভারতের উদৃতি দিয়ে আরো বলেন, কোন ধর্মেই মানুষের ক্ষতির কথা উল্লেখ নেই। সব ধর্মেই মানুষের কল্যাণের কথা বলা হয়েছে। এখন আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করা। যার যার ধর্মীয় মূল্যবোধ অনুযায়ী তাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমরা আমাদের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে কোনক্রমেই ব্যহত হতে দিবো না।
পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ বলেন, আমাদের সতর্কতার সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে হবে। অনাকাক্সিক্ষত কোন ঘটনা বা পোস্ট দেখতে পেলে তার সত্যতা নিশ্চিত করতে হবে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে তাৎক্ষনিক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাবেন। আমরা ব্যবস্থাগ্রহণ করবো।
তিনি আরো বলেন, সম্প্রীতি রক্ষায় আমাদের ঐতিহ্য রয়েছে। আমরা জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে একসাথে চলাফেরা এবং উৎসবে আনন্দ উপভোগ করি। তাই, ভবিষ্যতেও যার যার ধর্মীয় উৎসব যেন সম্প্রীতির মাধ্যমে পালন করতে পারি। সেজন্য সচেষ্ট থাকবো। এসময় কোরআন ও হাদিসের আলোকে উদৃতি দিয়ে বক্তব্য রাখেন এবং বিভিন্ন উৎসবে সবার সহযোগিতায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার কথা উল্লেখ করেন।
হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসাবে আরো বক্তব্য রাখেন পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন, হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের খতিব ও পেশ ইমাম মুফতি আব্দুর রউফ, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রোটারিয়ান সুভাষ চন্দ্র রায় ও সাধারণ সম্পাদক রোটারিয়ান তমাল কুমার ঘোষ।
এসময় আরো বক্তব্য রাখেন হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রোটা. রুহিদাস বণিক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌ. মো. জাকির হোসাইন ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুনির্মল দেউরীর যৌথ উপস্থাপনায় সমাবেশের শুরুতেই পবিত্র কোরআন মাজিদ থেকে তেলাওয়াত করেন হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. আনাস এবং গীতা পাঠ করেন পুরোহিত অমিত চক্রবর্তী।
সমাবেশের আগে উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ, হাজীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন। এসময় অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
সম্প্রীতির এই সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ রোটা. আহসান হাবীব অরুন, হাজীগঞ্জ উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক স্বপন কুমার পাল, সাধারণ সম্পাদক সত্যব্রত ভদ্র মিঠুন, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আহম্মেদ খসরু, মুন্সী মোহাম্মদ মনির, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাজি জসিম উদ্দিনসহ উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাসুদ আহাম্মদ, রাজারগাঁও ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাও. আনিছুর রহমান, হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল পাইলট হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবু ছাইদ, উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জাকির হোসেন সোহেল, পৌর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তাজুল ইসলাম, পৌর ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহেল আলম বেপারী, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাব্বি উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক প্রান কৃষ্ণ মনা, পৌর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি রাধা কান্ত দাস রাজু, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল সাহাসহ উপজেলার বিভিন্ন দফতরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন স্কুল, মাদরাসা ও কলেজের শিক্ষকসহ সর্বস্তরের জনগণ সম্প্রীতির এ সমাবেশে অংশ নেন।

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২।