মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জসহ দেশের ১১২ উপজেলাকে শতভাগ বয়স্ক ও বিধবা ভাতার আওতায় এনেছে সরকার। সামাজিক নিরাপত্তার বেষ্টনীর আওতায় ভাতা পাওয়ার জন্য হাজীগঞ্জ উপজেলার ১৩ হাজার ৫৮ জন বয়স্ক এবং বিধবা, স্বামী নিগৃহীতা নারীদের তালিকা করেছে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়। এর মধ্যে বয়স্ক ৬,৪৮৬ ও বিধবা ৬,৫৭২ জন।
এর আগে ২০২০-২০২১ অর্থবছর থেকে শতভাগ বয়স্ক এবং বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতাভোগী নীতিমালা অনুসারে যাচাই-বাছাইপূর্বক এই তালিকা করা হয়। উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মাইনুদ্দিনের সভাপতিত্বে সব ইউনিয়ন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়ার সভাপতিত্বে পৌর এলাকার তালিকা সম্পন্ন করা হয়।
সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ১৩,০৫৮ জনের মধ্যে ১২টি ইউনিয়ন থেকে ১১৩১৯ জনের তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে বয়স্ক ৫,৮০৩ জন ও বিধবা ৫,৫১৬ জন এবং পৌর এলাকায় ১,৭৩৯ জনের তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে বয়স্ক ৬৮৩ জন ও বিধবা ১,০৫৬ জন।
রাজারাগাঁও ইউনিয়নের তালিকায় রয়েছেন ১,০১৭ জন। এর মধ্যে বয়স্ক ৬১৩ জন ও বিধবা ৪০৩ জন। বাকিলা ইউনিয়নে ১,০৩৪ জন। এর মধ্যে বয়স্ক ৫৩০ জন ও বিধবা ৫০৪ জন। কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নে ৬০৪ জন। এর মধ্যে বয়স্ক ২৮৮ জন ও বিধবা ৩১৬ জন। কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নে ১,৩০১ জন। এর মধ্যে বয়স্ক ৭১৩ জন ও বিধবা ৫৮৮ জন।
হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের তালিকায় রয়েছেন ১,৮০২ জন। এর মধ্যে বয়স্ক ৯৬৩ জন ও বিধবা ৮৩৯ জন। বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নে ৮৬৯ জন। এর মধ্যে বয়স্ক ৪৬৭ জন ও বিধবা ৪০২ জন। বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নে ৬৮৫ জন। এর মধ্যে বয়স্ক ৩৮৩ জন ও বিধবা ৩০২ জন। হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নে ১,০১৪ জন। এর মধ্যে বয়স্ক ৩৫১ জন ও বিধবা ৬৬৩ জন।
গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের তালিকায় রয়েছেন ৮৭৮ জন। এর মধ্যে বয়স্ক ৪৭৩ জন ও বিধবা ৪০৫ জন। গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে ৭৭৬ জন। এর মধ্যে বয়স্ক ৪৫২ জন ও বিধবা ৩২৪ জন। হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়নে ৭৯৮ জন। এর মধ্যে বয়স্ক ৩৩৮ জন ও বিধবা ৪৬০ জন। দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়নে ৫৪২ জন। এর মধ্যে বয়স্ক ২৩২ জন ও বিধবা ৩১০ জন।
উল্লেখ্য, দেশের ১১২ উপজেলায় শতভাগ ভাতার আওতায় নতুন করে সাড়ে ৮ লাখ সুবিধাভোগী সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে যুক্ত হয়েছে। করোনা মহামারীর প্রভাব থেকে এসব দুর্বল জনগোষ্ঠীকে রক্ষার অংশ হিসেবে ১১২ উপজেলায় শতভাগ ভাতার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সে সময় তিনি বলেন, বয়স্কভাতা এবং বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের জন্য ভাতা কর্মসূচির আওতায় দারিদ্র্যপ্রবণ ১০০টি উপজেলায় শতভাগে উন্নীত করবে সরকার। করোনাভাইরাসের কারণে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি।
করোনা মহামারী শুরুর পর গত ৫ এপ্রিল ১০০ উপজেলায় শতভাগ ভাতা প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিসিএস) কর্তৃক প্রকাশিত ‘পোভার্টি ম্যাপস অব বাংলাদেশ-২০১০’ (দারিদ্র্যের মানচিত্র) অনুযায়ী বিশেষ বিবেচনায় আরো ১২ উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
৮ অক্টোবর, ২০২০।
