বিশেষ প্রতিনিধি
হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের আওতাধীন রজনীগন্ধা মার্কেট, ক্কওমী মাদরাসা মার্কেট ও টাওয়ার মার্কেটের ব্যবসায়ীদের নিয়ে
বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ওয়েল ফ্রি রেস্টুরেন্টে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের মোতাওয়াল্লী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মো. আলমগীর কবির পাটওয়ারী।
তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, জেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হাজীগঞ্জ। হাজীগঞ্জ বাজারে যতো সুযোগ-সুবিধা রয়েছে চাঁদপুর জেলা শহরেও এতো সুযোগ-সুবিধা নেই। হাজীগঞ্জ বাজারের মধ্য দিয়ে এক সময় চলাচলের জন্য অতি সরু পথ ছিল। যা দিয়ে মানুষ হেঁটে মাইলের পর মাইল যেতেন। প্রতি শুক্রবার এখানে জুমার আগে সকালে এক বেলার বাজার বসতো। কালক্রমে মানুষ বেড়েছে, পথও প্রশস্ত হয়েছে।
সময়ের প্রয়োজনে মানুষের চলাচল বেড়ে যায়। যানবাহন চলাচলের বৃহত্তর স্বার্থে হাজীগঞ্জ বাজারের দু’পাশের দোকান-পাট ভেঙ্গে রাস্তা প্রশস্ত করতে হয়েছে। জনসংখ্যা এবং বিভিন্ন মুখী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধির গতির সাথে যানবাহন চলাচল বৃদ্ধির হার দ্রুত থেকে দ্রুত বেড়েছে। সে যাত্রায় বর্তমানে হাজীগঞ্জ ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র হলেও যানজট জনজীবনকে দুর্বিসহ করে তুলেছে। হাজীগঞ্জ বাজারে হাজার হাজার পুরুষ-নারী সম্মানিত ক্রেতা, রিক্সা, সিএনজি, ঠেলাগাড়ী, বাস-ট্রাকসহ সব প্রকার মালবাহী যান ও যাত্রীদের যান চলাচল একটিমাত্র প্রধান সড়ক দিয়েই চলতে হয়। ফলে হাজীগঞ্জ বাজারে যানজট লেগেই থাকে।
এ যানজট দূর করতে প্রশাসনকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। হাজীগঞ্জ বাজারকে যানজটমুক্ত করতে বাজরের হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদেরই ভাবতে হবে, এসব হকাররা কোথায় যাবে। তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে কোথায় দাঁড়াবে। তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা চিন্তা করে আমি হকারদের অস্থায়ীভাবে হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের সামনে বসতে দিয়েছি। এখানেও তাদের জায়গার সংকুলান হয় না।
তাই তিনি বলেন, হাজীগঞ্জ বাজারের উত্তর পাশে অবস্থিত পরিত্যক্ত খালের (যেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে) আশেপাশের বসবাসকারীরা খালটি দখল করে নিচ্ছেন এবং তারা খালটি গিলে খাচ্ছেন।
এখালে ৯০% সরকারি জায়গা। তাই খালটি ভরাট করে যদি হকারদের পুনর্বাসন করা হয় তাহলে তারা উপকৃত হবে, তারা আর প্রধান সড়কে বেচা-কেনার জন্য বসতে হবে না, বাজারের যানজটও কমে যাবে। এ বিষয়ে তিনি জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আবেদন জানান খালটি ভরাট করে এখানে বাজারের হকারদের পুনর্বাসন করা হউক। তার বক্তব্যকে সব ব্যবসায়ী হাত তুলে সাধুবাদ জানান।
উল্লেখ্য, গত প্রায় ২০ বছর যাবত পরিত্যক্ত এ খালটিতে বিকল্প সড়ক তৈরী করে হাজীগঞ্জ বাজারের যানজট নিরসনের জন্য লেখা-লেখি করে আসছেন,তার প্রস্তাবনা অনুযায়ী খালটিতে যদি বিকল্প সড়ক হতো তাহলে- ১) হাজীগঞ্জ বাজারের যানজট দ্রুত নিরসন হবে, ২) বিকল্প বা প্রস্তাবিত বাইপাস রাস্তার পাশে বহু সংখ্যক নতুন মার্কেট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আধুনিক নির্মাণ শৈলী গড়ে উঠবে, ৩) হাজীগঞ্জ বাজারের পরিধি দ্রুত সম্প্রসারিত হবে অর্থাৎ- বাজারের দক্ষিণ নদী এবং উত্তর রেল সড়ক এর মাঝে পুরো এলাকা বাণিজ্যিক এলাকায় পরিনত হবে। ৪) ব্যবসার গতি আরও বৃদ্ধি পেয়ে শুধু হাজীগঞ্জ বাজারেরই নয় বরং হাজীগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নতুন মাত্রা যোগ হবে।
সর্বশেষ হাজীগঞ্জ বাজারের হকারদে পুনর্বাসনের জন্য তিনি জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেন, যদি হাজীগঞ্জ বাজারের উত্তর পাশের পাটওয়ারী বাড়ী সংলগ্ন খালটি ভরাট করে হকার পুনর্বাসন করা হয় তাহলে হাজীগঞ্জ বাজার বেশিরভাগ হকারই ব্যবসার সুযোগ পাবে। ফলে হকাররা আর কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে ব্যবসা করতে বসবে না।
থানা প্রশাসন এবং ট্রাফিক সদস্যরা অনেক কষ্ট লাঘব হবে। হাজীগঞ্জ বাজারে অসহনীয় যানজট সৃষ্টি হবে না।
মতবিনিময় সভায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ীবৃন্দ ছাড়া আহমাদ আলী পাটওয়ারী ওয়াক্ফ এস্টেটের ভারপ্রাপ্ত মোতাওয়াল্লী ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রিন্স শাকিল আহমেদ, আহমাদ আলী পাটওয়ারী ওয়াক্ফ এস্টেটের আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহরিয়ার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১।
