হাজীগঞ্জে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

হাজীগঞ্জ ব্যুরো
হাজীগঞ্জে পুকুরের পানিতে ডুবে গোলাম রাব্বী (৪) ও মো. হাবিব উল্যাহ্ (২) নামের দুই শিশু মারা গেছে। মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) সকালে এবং সোমবার বিকালে উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ডাটরা-শিবপুর গ্রামের নিজ নিজ বাড়ির পুকুরের পানিতে ডুবে এই দুই শিশু মারা যায়।
নিহত শিশু গোলাম রাব্বী ওই ইউনিয়নের ডাটরা-শিবপুর গ্রামের মেহেদী হাছানের ছোট ছেলে এবং অপর নিহত শিশু মো. হাবিব উল্যাহ্ একই এলাকার কাশিমপুর গ্রামের মো. হারুন অর রশিদের ছেলে। খবর পেয়ে সোমবার বিকালে ও মঙ্গলবার সকালে পুলিশ নিহত শিশুদের মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির উঠানে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় গোলাম রাব্বী। পরে শিশুটিকে খুঁজতে বের হয় পরিবারের লোকজন। এরপর বাড়ির পুকুরের পানিতে শিশুটিকে ভাসতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরিক্ষা শেষে মৃত ঘোষনা করেন।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চার বছর আগে মেহেদী হাসানের ঘর আলোকিত করে জন্ম নেয় রায়হান ও রাব্বী। তারা দুই জমজ শিশু এক সাথেই বেড়ে উঠে। কিন্তু আজ (মঙ্গলবার) সকালে রাব্বী নিজ বাড়ির পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যায়।
এদিকে সোমবার বিকালে নিজ ঘরেই খেলাধুলা করছিলো শিশু মো. হাবীব উল্যাহ্। পরে পরিবারের লোকজনের অগোচরে শিশুটি ঘর থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে শিশুটিকে বাড়ির লোকজন পুকুরের পানিতে ভাসতে দেখে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরিক্ষা শেষে মৃত ঘোষনা করেন।
দুই শিশু নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আহমেদ তানভির হাসান জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার অনেক আগেই শিশু গোলাম রাব্বী ও মো. হাবীব উল্যাহ্র মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ আমরা তাদের হাসপাতালে মৃত অবস্থায় পেয়েছি।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ জানান, খবর পেয়ে নিহত শিশুদের মরদেহ থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে। পরে স্ব-স্ব পরিবারের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে এবং তাদের কোন অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
পারিবারিক সচেতনতার কথা উল্লেখ করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস.এম সোয়েব আহমেদ চিশতী বলেন, হাজীগঞ্জে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনক। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে শিশুদের চোখের নজরে রাখতে হবে এবং অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২১।