
স্টাফ রিপোর্টার
হাজীগঞ্জের রাজারগাঁও ইউনিয়নের মুকন্দসার গ্রামে ঘুষের টাকাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। ঘটনাটি সমাধানের জন্য বসতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ ৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর ছকিনা বেগম (৫০) বর্তমানে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার সাথে জড়িত আবু বেপারী ও রুহুল আমিনকে রাতেই আটক করেছে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ।
গত রোববার দিনগত রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ওই গ্রামের বোয়াল বাড়ি ও বেপারী বাড়ি সংলগ্ন মসজিদের সামনে এই ঘটনায় ঘাটে। এই ঘটনায় আহত নারীর ভাসুর আব্দুর রহিম হাজীগঞ্জ থানায় ৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
আহতদের স্বজনরা জানান, গত কয়েকদিন আগে মামলার বাদী আব্দুর রহিমের দোকানের সামনে তার ছোট ভাতিজার সাথে স্থানীয় একটি রাস্তা নির্মাণ কাজে ঘুষের টাকা লেনদেনের কথা নিয়ে প্রতিপক্ষের কয়েকজনের সাথে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে রহিম উভয়কে শান্ত করে দেন। বিষয়টি মিমাংসার জন্য রহিমের দোকানের সামনে বসার কথা বললেও তারা রাজি হননি। পরে মসজিদের সামনে উভয়পক্ষ বসে বিষয়টি সমাধান করবেন এমন মুহূর্তে প্রতিপক্ষ একই এলাকার আবু বেপারী, রহুল আমিন, হৃদয় বেপারী ও মাঈনুদ্দিন সংঘবদ্ধ হয়ে আব্দুর রহিম, ছকিনা বেগম, স্কুল ছাত্রী সুইটি আক্তারসহ তার আরেক বড় বোনের উপর হামলা চালায়। আহতদের মধ্যে রহিম ছাড়া কোন পুরুষ লোক না থাকায় তারা মারপিট করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত ছকিনা বেগমকে উদ্ধার করে রাতেই চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপালে এনে ভর্তি করা হয়। ছকিনা বেগমের মাথা পেটে যায় এবং পুরো শরীরে বিদেশী চার্জ লাইটের আঘাতে মারাত্মক জখম হয়। অন্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়।
মামলার বাদী আ. রহিম বলেন, মূল ঘটনা হচ্ছে আমার ভাতিজি সুইটিকে সব সময় বিয়ে করার জন্য এবং স্কুলে যাওয়া-আসার পথে বিরক্ত করে হৃদয় বেপারী নামের বখাটে। কিন্তু ভাতিজির বয়স মাত্র ১২। মেনাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। এমন আপত্তিকর বিষয় নিয়ে প্রতিপক্ষ লোকজন আমাদের পরিবারের মাঝে অশান্তি সৃষ্টি করে রেখেছে। প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ যাতে করে আটক ব্যক্তিসহ জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করার জন্য হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন (রনি) বলেন, রাতেই আমি খবর পেয়ে থানা থেকে পুলিশ পাঠিয়েছে। ঘটনায় জড়িত দুইজনকে ঘটনাস্থল এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। আহতদের পক্ষ থেকে অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
