হাজীগঞ্জে বদরপুর দরবার শরীফের মসজিদ ও মাদারাসা দখলের পাঁয়তারা!


নিজস্ব প্রতিনিধি
ট্রাস্টের অজুহাত তুলে হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন বদরপুর (টোরাগড়) দরবার শরীফ কমপ্লেক্সের মসজিদ ও মাদরাসা দখলের অভিযোগ করেছেন কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। দরবারের প্রতিষ্ঠাতা শায়েখ মাও. আবু সুফিয়ান খাঁন আল কাদেরীর পক্ষে গতকাল শনিবার সংবাদকর্মীদের কাছে ওই এলাকার স্থানীয় শাহিন ও বারেক গংদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন।
কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ বলেন, বদরপুর গ্রামের শিক্ষা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ১৯৯৯ সালে কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাতা মাও. আবু সুফিয়ান খাঁন আল কাদেরী তার কষ্টার্জিত উপার্জন দিয়ে ভূমি ক্রয় এবং স্থানীয়দের রেজিস্ট্রিকৃত দলিলমূলে দানকৃত ভূমিতে বদরপুর কাদেরীয় চিশতীয়া হোসাইনীয় মাদ্রাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করেন। ওই কমপ্লেক্সে এম.এ.এস কাদেরীয়া চিশতীয়া হোসাইনীয়া সুন্নীয়া দাখিল মাদ্রাসা নামে একটি ইবতেদায়ী সংযুক্ত মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করেন।
মাদ্রাসার পাশে মসজিদে গাউছুল আজম জিলানী নামে একটি মসজিদ রয়েছে। যা ১৯৯৯ সাল থেকে কমপ্লেক্সের আওতাধীন। এই মসজিদকে কেন্দ্র করে ট্রাস্টের অজুহাত তুলে স্থানীয় শাহিন ও বারেক গং কমপ্লেক্সের আওতাধীন মসজিদ ও মাদ্রাসা দখলের পাঁয়তারা করে আসছে। তারা কমপ্লেক্স পরিচালনাকারী লোকজনসহ মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গালমন্দ ও হামলাসহ বিভিন্ন সময়ে জোরপূর্বক কার্যক্রম করে আসছে।
তাই শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে হাজীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ (নন জিআর ২২/১৮) দায়ের করা হয়। যা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরেকটি মামলা (১১৬৬/২০১৮) করি। যার রায় কমপ্লেক্স তথা প্রতিষ্ঠাতার পক্ষে এসেছে। রায়ের পর মাও. আবু সুফিয়ান খাঁন আল কাদেরী ওমরায় যান। এ রায়ে তারা (বিবাদী পক্ষ) ক্ষিপ্ত হয়ে এবং আদালতের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রতিষ্ঠাতার নাম সংযুক্ত মসজিদের ন্যামপ্লেটটি ভাঙচুর করে এবং আমাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতন করে আসছে।
যার ফলে শান্তি ও শৃঙ্খলার স্বার্থে আবারো হাজীগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আরেকটি মামলা (১১৭/২০১৯) করেন কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাতা। যা এখনো বিচারাধীন রয়েছে। এই মামলার নোটিশ পাওয়ার পর তারা কমপ্লেক্সের নালিশী ভূমিতে প্রবেশ করে মাদ্রাসার এক ছাত্রকে মারধর করে। এর আগেও তারা মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়ন কাজে বাঁধাগ্রস্ত করেছে। যা এখনো চলমান রয়েছে।
তাই মসজিদ ও মাদ্রাসার রক্ষায় এবং কমপ্লেক্সের লোকজন ও মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আইনের আশ্রয় নেওয়ার লক্ষ্যে আহত ছাত্র দিদারের বাবা আব্দুল কুদ্দুস একটি মামলা (নন জিআর ১৯২/২০১৯) করেন। এই মামলায় তারা জামিনে এসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মাও. আবু সুফিয়ান খাঁন আল কাদেরীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এমনকি সংবাদকর্মীদের ভুল তথ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাতা ও কমপ্লেক্সের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করাচ্ছে।
এ ব্যাপারে মাও. আবু সুফিয়ান খাঁন আল কাদেরী বলেন, তারা (শাহিন ও বারেক গং) ট্রাস্টের অজুহাতে কমপ্লেক্সের বিরুদ্ধে যে অপ-প্রচার চালাচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। প্রকৃতপক্ষে ১৯৬৯ সালে বদরপুর গ্রামে মসজিদ করার লক্ষে ফয়জুন্নেসা বিবি যে ৬ শতাংশ ভূমি দিয়েছেন, তা ওই অবস্থায় আছে। তৎকালীন সময়ে মসজিদের মোতওয়াল্লী ছিলেন মরহুম কামিজ উদ্দিন। তিনি নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার পর তার ছোট ভাই মরহুম কলিম উদ্দিন মোতওয়াল্লী নিযুক্ত হন।
পরবর্তীতে আমি ওখানে (বদরপুর) কমপ্লেক্স (১৯৯৯ইং) করার পর ২০০১ সালের ১০ জানুয়ারি তৎকালীন মসজিদের মোতওয়াল্লী মরহুম কলিম উদ্দিন, স্থানীয় মরহুম মোখলেছুর রহমান, মরহুম জাহাঙ্গীর ম্যানেজার ও সিরাজুল ইসলাম মেম্বার (দলিল লেখক) সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আমার কমপ্লেক্স অফিসে এসে উন্নয়নের জন্য মসজিদটি কমপ্লেক্সের আওতায় নিয়ে, আমাকে মসজিদের মোতওয়াল্লী হওয়ার অনুরোধ করেন।
পরে সবার সম্মিলিত সিদ্ধান্তক্রমে আমি রাজী হই এবং ১৪/০২/২০০১ তারিখে গাউছুল আজম জামে মসজিদের পক্ষে আমাকে মোতওয়াল্লী করে ৩ শতাংশ ভূমি ১১৬৮ নং দলিলমূলে আমার নামে রেজিস্ট্রি করে দেন মরহুম কলিম উদ্দিন গং এবং বদরপুর কাদেরীয় চিশতীয়া হোসাইনীয় মাদ্রাসা, এতিমখানা কমপ্লেক্সের উন্নয়নকল্পে ০১/০২/২০০৭ইং সালে আব্দুল কুদ্দুস সর্দার ৫৯৪ নং দলিলমূলে কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাতার নামে অর্থাৎ আমার নামে ৩ শতাংশ ভূমি রেজিস্ট্রি করে দেন।
এরপর ০৮/১২/২০১০ইং তারিখে আব্দুল কুদ্দুস সর্দার, শামছুল হক, আব্দুল বারেক, মরহুম মোখলেছুর রহমান ও বিল্লাল হোসেন বেপারী গাউছুল আজম জামে মসজিদের পক্ষে আমাকে মোতওয়াল্লী করে ৫ শতাংশ ভূমি ৯৩৭২ নং ওয়াকফনামা দলিলমূলে আমার নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। তারই ধারাবাহিকতায় ৩০/০৫/২০১১ইং তারিখে মো. আকবর আলী গং মসজিদে গাউছুল আজম জিলানির (রহ.) পক্ষে আমাকে মোতওয়াল্লী করে ৭ শতাংশ ভূমি ৪১৫৬ নং দলিলমূলে আমার নামে রেজিস্ট্রি করে দেন।
মাও. আবু সুফিয়ান খাঁন আল কাদেরী বলেন, এ রকম বেশ কয়েকটি দলিল রয়েছে। অথচ শাহিন ও বারেক গং ট্রাস্টের অজুহাতে মসজিদ ও মাদ্রাসা দখলের পাঁয়তারা করে আসছে। ইতোমধ্যে তারা নিজেরা না এসে, নারীদের ব্যবহার করে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। এমনকি নারী নির্যাতনসহ হত্যা মামলার ভয় দেখাচ্ছে আমি ও আমার ছেলেদের। সেই সাথে তারা মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়ন কাজসহ চলমান ও গতানুগতিক কাজে বাঁধাগ্রস্ত করছে। তাই, আমি আশংকা করছি, তারা যে কোন সময় হামলা করে মসজিদ ও মাদ্রাসা দখলে নিতে পারে।
তিনি বলেন, তারা যে বলে ট্রাস্ট্রের নামে এলাকার মানুষ ফুসে উঠছে, আসলে তা ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। মূলত ওই এলাকার মানুষ ভদ্র ও শান্তিপ্রিয়। তাদের সন্তানেরাই আমার মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে এবং তারাই মসজিদ ও মাদ্রাসার বিভিন্ন কাজে সহায়তা করে।
অভিযোগের বিষয়ে শাহিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রকৃতপক্ষে মসজিদটি কমপ্লেক্সের নয়, এলাকাবাসীর। মাও. আবু সুফিয়ান মসজিদের মোতওয়াল্লীও নন। তিনি বিভিন্নভাবে দলিল সৃজন মাধ্যমে এবং নিজেকে মোতওয়াল্লী দাবি করে, মসজিদটি ট্রাস্টের নামে নিয়ে ভূমিসহ মসজিদ দখলের চেষ্টা করছেন। যা এলাকাবাসী মেনে নেয়নি। যার ফলে মাও. আবু সুফিয়ান, এলাকার ৫৩ জনের নামে দেওয়ানী ও ফৌজদারীসহ কয়েকটি মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছেন।

 

৩০ জুন, ২০১৯।