হাজীগঞ্জে ব্যবসায়ীকে হয়রানি করার অভিযোগ

সম্পত্তিগত বিরোধের জের

হাজীগঞ্জ ব্যুরো
আব্দুল কাদের নামের হাজীগঞ্জ বাজারের এক বিশিষ্ট ব্যবসায়ীকে সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকার পরও এক মামলার বিবাদীসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই অভিযোগে আব্দুল কাদের ও তার পরিবারসহ বিল্লাল হোসেন নামের অপর একজনকে বিবাদী করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ও ওই এলাকাবাসীর মাঝে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি পৌরসভাধীন ৪নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর ঘর নির্মাণ সংক্রান্ত এক ঘটনায় ওই ওয়ার্ডের সিরাজুল ইসলাম ও আজাদ হোসেন নামের দু’পরিবারের মাঝে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ঘর নির্মাণে বাঁধা প্রদান করেন, সিরাজুল ইসলাম ও তার পরিবার। বাঁধা উপেক্ষা করে আজাদ হোসেন ঘর নির্মাণ করতে গেলে তাদের মাঝে বাক-বিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে সিরাজুল ইসলামের পরিবার জাতীয় জরুরি নম্বর ‘৯৯৯’ এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সিরাজুল ইসলাম ও আজাদ বেপারীকে থানায় নিয়ে আসে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাগ্রহণ করে।
পরবর্তীতে এ ঘটনায় সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী আসমা বেগম বাদী হয়ে আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চাঁদপুর শাখাকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশনা প্রদান করেন। অভিযোগে বিবাদীরা হলেন- আবদুল কাদের (৩৯), বিল্লাল হোসেন (৫২), আনোয়ার হোসেন (৪৫), খোরশেদ আলম রুবেল (২৬), মো. সোহেল (৩৪) ও মো. হান্নান (৩০)।
অথচ ওই ঘটনায় পুলিশ সিরাজুল ইসলাম ও আজাদ বেপারীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাগ্রহণ করে। কিন্তু অভিযোগে আজাদকে বিবাদী না করে আব্দুল কাদের ও তার পরিবারের লোকজন এবং বিল্লাল হোসেনকে বিবাদী করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, আবদুল কাদেরের মদদে আজাদ বেপারী দলবল নিয়ে সম্পত্তির উপর ঘর নির্মাণ করতে যায়। আবার অভিযোগের আরেকাংশে বলা হয়েছে, আবদুল কাদের ও তার পরিবার সিরাজুল ইসলামের ঘর প্রবেশ করে লুটতরাজ করে। এ ব্যাপারে মামলার বাদী আসমা বেগম মুঠোফোনে বলেন, আজাদ ও আমার স্বামী সিরাজুল ইসলামকে পুলিশ ধরে নেয়ার পর আবদুল কাদের আমাদের ঘরে লুটতরাজ করে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. আলমগীর হোসেন ও আবদুল মান্নান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার পর সিরাজুল ইসলাম ও আজাদ বেপারীকে থানায় নিয়ে যায়। এরপর সেখানে কোন ধরনের হামলা বা হট্টগোল হয়নি। তাছাড়া এ ঘটনায় আবদুল কাদের ও তার পরিবারের কেউ ছিলো না।
ভুক্তভোগী আবদুল কাদের জানান, মূলত সিরাজুল ইসলামের সাথে আমাদের সম্পত্তিগত বিরোধ রয়েছে। তিনি বলেন, আমি এবং সিরাজুল ইসলাম, বিল্লাল ও আজাদসহ যৌথভাবে সম্পত্তি ক্রয় করি। ওই সম্পত্তির মধ্যে আমার সাড়ে চার শতাংশ ভূমি রয়েছে। সিরাজুল ইসলাম আমার সম্পত্তি বুঝিয়ে না দিয়ে তালবাহানা করে আসছে এবং আমিসহ অন্য শরিকদারদের নামে বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা ও বানোয়াট কথা ছড়াচ্ছে। যার ফলে আমি তার বিরুদ্ধে, পৌরসভা, ব্যবসায়ী সমিতির এবং সর্বশেষ থানায় লিখিত অভিযোগ করি।
তিনি আরো বলেন, সিরাজুল ইসলাম থানা, পৌরসভা এবং ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ের বৈঠকে আমার বিরুদ্ধে ছড়ানো একটি কথারও প্রমাণ দিতে পারেনি। সবশেষে গত মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) আজাদ তার পাওনাকৃত সম্পত্তিতে ঘর তুলতে যায়। সেখানে সিরাজুল ইসলাম ও তার পরিবার বাঁধা দেয়। শুনেছি, তাদের দু’পক্ষের মধ্যে বাক-বিতন্ডা হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সিরাজুল ইসলাম ও আজাদসহ দুজনকেই থানা নিয়ে যায়।
আব্দুল কাদের আরো বলেন, উল্লেখিত ঘটনার দিন আমি ও আমার পরিবারের কেউ ছিলো না। যার প্রমাণ স্থানীয় ও এলাকার লোকজন। অথচ বাদীপক্ষ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে, আমি ও আমার পরিবারের লোকজনকে বিবাদী করে আদালতে অভিযোগ এবং বিভিন্নভাবে আমাদের হয়রানি করে আসছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে বলেন, বাদীপক্ষ আমার সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা করছেন। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধশীল, তাই উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত কামনা করছি।
অভিযোগের আরেকজন বিবাদী হলেন, বিল্লাল হোসেন। তিনি জানান, ঘটনার দিন চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমরা চারজন মিলে সম্পত্তি ক্রয় করি। অথচ সিরাজুল ইসলাম আমাদের সম্পত্তি বুঝিয়ে না দিয়ে আদালতে স্থিতাবস্থা চেয়েছে। আমি ও আব্দুল কাদের আইনীভাবে তার জবাব দিচ্ছি। আজাদ তার পাওনা সম্পত্তিতে ঘর তুলতে যায়। এতে সিরাজ ও তার পরিবার বাঁধা দেয়।
এ ব্যাপারে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মোহাম্মদ জাহিদুল আযহার (আলম) মুঠোফোনে বলেন, ওইদিন ঘর নির্মাণ নিয়ে সিরাজুল ইসলাম ও আজাদ বেপারীসহ দু’পক্ষের মাঝে বাক-বিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। পরে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে সিরাজুল ইসলাম ও আজাদ বেপারীকে থানায় নিয়ে যায়। ওই সময় আমার পিয়ন সেখানে উপস্থিত ছিল। তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার পর, সেখানে আর কোন ঝামেলা (হামলা বা ভাংচুর) হয়নি।