রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে স্বামী ও দেবর
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জের গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের তারালিয়া গ্রামের গৃহবৃধূ মিশু আক্তারের (২০) হত্যার ঘটনায় মামলার আসামিদের পক্ষে
আপোষ-মিমাংসা প্রস্তাব দেয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীসহ বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে মিশুর পরিবারকে আপোষ-মিমাংসার জন্য চাপ-সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন মামলার বাদী ময়ুরী বেগম। তবে তিনি আপোষ নয়, হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
ময়ুরী বেগম হত্যাকাণ্ডের শিকার মিশু আক্তারের মা। তিনি গত ৭ ফেব্রুয়ারি তার মেয়ে মিশু আক্তারকে হত্যার অভিযোগ এনে হাজীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা (নং-৫) দায়ের করেন। একই দিন সকালে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মিশু আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মিশু আক্তার ওই ইউনিয়নের মৈশামুড়া গ্রামের ইয়াছিন বেপারী বাড়ির প্রবাসী লাল মিয়ার মেয়ে।
মামলায় মিশু আক্তারের স্বামী মো. রাছেল মিয়া (২৭), দেবর মো. রাজু (২৪) ও শশুর ওছমান গণির (৬০) নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জন আসামি করা হয়। বর্তমানে রাছেল মিয়া ও রাজু জেলহাজতে রয়েছেন। হত্যার রহস্য উন্মোচনের জন্য জেলহাজতে থাকা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সম্প্রতি রিমান্ডে আনে পুলিশ। রিমান্ডে তারা মিশুকে যৌতুকের জন্য মারধরে স্বীকারোক্তিসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। যা (তথ্য) পুলিশ যাচাই-বাছাই করছে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১২ জুন মিশু আক্তার ও রাছেল মিয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিবাহের সময় তাদের সুখের কথা চিন্তা করে রাছেল মিয়াকে আসবাবপত্র ও স্বর্ণালংকার দেয় মিশুর পরিবার। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস পরে ব্যবসার কথা বলে স্ত্রী মিশুর কাছে ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে রাছেল মিয়া। মিশুর পরিবার ১ লাখ টাকা প্রদান করে বাকি ১ লাখ টাকা না দেওয়ার মিশুকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে রাছেল ও তার পরিবার।
সবশেষ গত ৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্বামী রাছেল মিয়ার সাথে বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে যায় মিশু আক্তার এবং এদিন রাতেই যৌতুকের বাকি ১ লাখ টাকার জন্য মিশুকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেয়া হয় বলে মা ময়ুরী বেগমকে মুঠোফোনে জানান মিশু। পরদিন ৭ ফেব্রুয়ারি মিশু মারা গিয়েছে এবং তার মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে বলে বিবাদীরা জানান।
সম্প্রতি মিশুর বাবার বাড়ি মৈশামূড়া সরজমিন পরিদর্শনে গেলে হত্যাকাণ্ডের শিকার মিশুর মা ময়ূরী বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, আমার মেয়ের (মিশু) গলায় আঘাতের চিহ্ন এবং ঘাড় মটকানো ছিলো। তারা আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তারা (বিবাদীরা) আমার মেয়েকে মেরে এখন আপোষ-মিমাংসার জন্য লোক পাঠায়। তারা (বিবাদী পক্ষের লোকজন) বলে টাকার বিনিময়ে আপোষ-মিমাংসার প্রস্তাব দেয় এবং আমাদের চাপ-সৃষ্টি করে।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ জানান, রিমান্ডে আনা আসামিদের দেয়া বক্তব্যের সূত্র ধরে বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পরবর্তীতে তদন্তপূর্বক এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
০৭ মার্চ, ২০২১।
