মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে নিহত মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের বিএলএফ বাহিনীর কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মোহন (৭০) কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) বাদ জোহর পৌরসভাধীন ৩নং ওয়ার্ড ধেররা হাজী বাড়ির সামনে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। তিনি সবার কাছে মোহন সিরাজ নামে পরিচিত ছিলেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়ার নেতৃত্বে মরহুম মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মোহনকে রাষ্ট্রীয় সম্মান (গার্ড অব অনার) প্রদান করেন হাজীগঞ্জ থানার ওসি মো. আলমগীর হোসেন রনি। এর আগে তিনি মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
মরহুম সিরাজুল ইসলাম মোহন স্ত্রী, দুই ছেলে এবং পাঁচ মেয়ে ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি পৌরসভাধীন ৩নং ওয়ার্ড খাটরা-বিলওয়াই গ্রামের হাজি বাড়ির বাসিন্দা। জানাজায় অংশ নিয়ে মরহুম সিরাজুল ইসলাম মোহনের মাগফিরাত কামনা করে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা এমএ ওয়াদুদ।
বক্তব্য রাখেন হাজীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী মো. মাইনুদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ হেলাল উদ্দিন মিয়াজী, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক মুরাদ প্রমুখ। এ সময় মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বক্তব্য রাখেন পরিবারের সদস্যরা।
উপস্থিত ছিলেন হাজীগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ রায়হানুর রহমান জনি, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব খোকন বিএসসি, নুরুল আমীন, মাহবুবুল আলম চুননু, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন খাঁনসহ কয়েকশ’ মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী।
উল্লেখ্য, কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে গত ১৫ ডিসেম্বর হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারে উপজেলা আওয়ামী লীগ প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশে বিবাদমান আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
সংঘর্ষকালীন সময়ে ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হন মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম ওরফে মোহন সিরাজ। ঘটনার পর তিনি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। এরপর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গত ১৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার দুপুরে মারা যান তিনি।
৩১ ডিসেম্বর, ২০২০।
