হাজীগঞ্জে লকডাউন অমান্য করায় ১৩ দোকানীকে জরিমানা

ইলশেপাড়ে সংবাদ প্রকাশের পর

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জ বাজারে লকডাউন অমান্য করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখায় ১৩ দোকানীকে ২৩ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজিজুন্নাহার শম্পা ও মোরশেদুল ইসলাম। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ও বিকালে পৃথক-পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।
এ দিন সকালে হাজীগঞ্জ বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজিজুন্নাহার শম্পা। এ সময় তিনি লকডাউন অমান্য করে বিকিকিনি করার অপরাধে ৭ দোকানীকে নগদ ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
একই দিন বিকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদুল ইসলাম। তিনিও লকডাউন অমান্য করে বিকিকিনি করার অপরাধে ৬ দোকানীকে নগদ ৫ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা করোনা ভাইরাসের সংক্রমন প্রতিরোধে লকডাউন মেনে চলার নির্দেশনা প্রদান করেন এবং উপস্থিত ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, চাঁদপুর জেলায় প্রাণঘাতী এই করোনা ভাইরাসের সংক্রমন হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণে গত ১০ মে সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সব শপিং মল, বিপণী বিতান, মার্কেট, দোকান-পাট, ব্যবসা কেন্দ্র আবশ্যিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
এর আগে সংক্রামক ঝুঁকি মোকাবেলায় গত ৯ এপিল চাঁদপুর জেলাকে অবরুদ্ধ (লকডাউন) ঘোষণা করা হয়। লকডাউনের পাশাপাশি নিয়মিত চলছে প্রশাসনের অভিযান, সশস্ত্রবাহিনী ও পুলিশের টহল এবং জনপ্রতিনিধিসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সচেতনতামূলক কার্যক্রম।
এমন পরিস্থিতিতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং জরুরি কাজ ছাড়া বের না হওয়ার সরকারি নির্দেশ থাকলেও তা মানছে না হাজীগঞ্জবাসী।
সরকারি নির্দেশনা ও স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক লকডাউনের মাঝে গত কয়েকদিনে হাজীগঞ্জ বাজারসহ উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। খুলে গেছে বিপণী বিতান, মার্কেট ও দোকানপাটসহ সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। চলছে রিকশা, অটোরিকশাসহ প্রায় সব ধরনের যানবাহন। হচ্ছে জনসমাগম এবং এই জনসমাগমের কারণে সড়কে দেখা গেছে যানজট।
গতকাল বৃহস্পতিবার ‘লকডাউন মানছে না হাজীগঞ্জবাসী’ শিরোনামে দৈনিক ইলশেপাড়ের প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে সংবাদ প্রকাশের পর নিউজটি ভাইরাল হয়। শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
এরপর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন ও পুলিশ। শুরু হয় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও পুলিশের কঠোর অবস্থান। এতে বাজার ফাঁকা হয়ে যায়। প্রশাসন ও পুলিশের এই কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতনমহল। এই অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

১৫ মে, ২০২০।