কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির আশংকায় ভুগছেন কৃষকরা
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ও পর্যাপ্ত পানি পাওয়ায় হাজীগঞ্জে এবার ইরি-বোরো ধান লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। হাজীগঞ্জ পৌরসভারসহ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে দিগন্তজুড়ে এখন সোনালী ও সবুজের সমারোহ। যেদিকে তাকাই, সেদিকে শুধু ধানের সোনালি রঙ চড়ে গেছে। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ধান কাটা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে ধানের আবাদ ও ফলন ভালো পাওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটেছে সোনালি হাসি।
কৃষকরা আশা করছেন, এই মাসের মধ্যেই তাদের কাক্সিক্ষত সোনালি ফসল (ধান) কেটে ঘরে তুলতে পারবেন। এখন বাজারে ভালো দাম পেলে স্বপ্ন শতভাগ পূর্ণ হবে বলে আশা করছেন তারা। চলতি বছরে সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে সাড়ে ৬ লাখ টন ধান ক্রয় করবে এবং মিলারদের কাছ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে ১০ লাখ টন সিদ্ধ চাল, ৩৯ টাকা কেজি দরে দেড় লাখ টন আতপ চাল কিনবে। এছাড়া গো-খাদ্য হিসেবে ধানের খড় ও ভাঙ্গা চালের (খুদ) ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে হাজীগঞ্জ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি না হওয়ায় এবং জমিতে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ না থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যেই ধান পাকতে শুরু করায় কৃষক ধান কাটতে শুরু করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে (২০২০-২১) ইরি-বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৯ হাজার ৪শ’ ৫০ হেক্টর ধরা হয়েছে। সেখানে চাষাবাদ হয়েছে ৯ হাজার ৮শ’ ৮০ হেক্টর। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ছিল ৬ টন। যার ফলে এ বছর চাল উৎপাদন হবে প্রায় ৪১ হাজার মেট্রিক টন। এছাড়া এ বছর এই প্রথম আধুনিক জাতের ব্রি ধান- ৮৯, ৯২, ৯৬, ৮১ ও ৮৪ উৎপাদন হয়েছে।
এ বিষয়ে বেশ কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা হলে তারা জানান, ধান পেকেছে, ধান কাটা শুরু করেছি। ফলনও ভালো পাচ্ছি। বাজারে দামও বেশ ভালো। তবে আধা-পাকা হওয়ায় অধিকাংশ ধান এখনো মাঠে রয়ে গেছে। তাই কালবৈশাখী ঝড়ের আশংকায় ভুগছেন তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাজেদুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে কৃষক যাতে লাভবান হয় সেজন্য আমরা সার্বক্ষণিক নজর রেখেছি ও পরামর্শ দিয়েছি। যার ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে ধানা কাটা শুরু হয়েছে। আশাকরি আগামি সপ্তাহের মধ্যে শতভাগ ধান ঘরে উঠবে।
তিনি বলেন, কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির সতর্কতার বিষয়ে আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছি এবং তাদের বলেছি ধানের শীষ ৮০-৮৫ শতাংশ পাকলেই ধান কেটে ফেলা যাবে।
১০ মে, ২০২১।
