হাজীগঞ্জে সাংবাদিক ও জনতার আদালতের কাঠগড়ায় কাউন্সিলর জনি

সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে জবাবদিহিতা

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে এই প্রথম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে জবাবদিহিতার উদ্দেশে সাংবাদিক ও জনতার আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের (খাটরা, বিলওয়াই ও ধেররা) কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-১ রায়হানুর রহমান জনি। শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পৌরসভাধীন ধেররা বাজারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপজেলায় কর্মরত সংবাদকর্মী এবং তাঁর ওয়ার্ডের জনগণের মুখোমুখি হন তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফেজ মো. মহিউদ্দিন আল আজাদ। পবিত্র কোরআন তেলওয়াত শেষে কাউন্সিলর রায়হানুর রহমান জনি তাঁর দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে গ্রামভিত্তিক (খাটরা, বিলওয়াই ও ধেররা) বিভিন্ন উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কার্যক্রমসহ (২০১৬-২০২১) তার জীবনবৃত্তান্তের একটি অনুলিপি সংবাদকর্মীদের প্রদান করেন।
এরপর রায়হানুর রহমান জনি তার পারিবারিক অবস্থান তুলে ধরেন। এ সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং ওয়ার্ডের সবাইকে তাঁর আপনজন (পরিবারের সদস্য) বলে উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে উপস্থিত সাংবাদিক ও জনতার মাঝে তার আমলে উল্লেখিত একটি লিখিত উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন এবং লিখিত এই উন্নয়নের চিত্র ওয়ার্ডের সবার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়া হবে বলে তিনি জানান।
রায়হানুর রহমান জনি তার বক্তব্যে বলেন, অসংখ্য উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি গত ১৯ বছরে তার ওয়ার্ডে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় প্রাপ্ত যে ভাতার কার্ড (প্রতিবন্ধী, বিধবা ও বয়স্ক) দেয়া হয়েছে, তার আমলে এরচেয়ে বেশি অর্থাৎ দ্বিগুণ দেয়া হয়েছে। করোনাকালীন সময়ে ওয়ার্ডবাসীর পাশে থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি সহযোগিতার পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগতভাবে ১৫ হাজার ৯৯৫ কেজি চাল বিতরণ এবং ১২শ’ পরিবারের মাঝে সামর্থ অনুযায়ী খাদ্রসামগ্রী (চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, লবণ ও সাবান ইত্যাদি) পৌছে দিয়েছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে রায়হানুর রহমান জনি বলেন, আপনারা (ভোটার) যদি আমাকে আগামিতে পূণরায় নির্বাচিত করেন, তাহলে আমি প্রথমেই ড্রেনেজ ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দিবো। এরপর গ্রামের সব প্রধান সড়কগুলো দ্বিগুণ চওড়া, হাইস্কুল স্থাপনের উদ্যোগ এবং শিশুদের খেলা ও বিনোদনের জন্য সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সু-সজ্জিতকরণ (মিনি পার্ক) ব্যবস্থা করবো।
এছাড়া তিনি বলেন, মাদক ও অপরাধমুক্ত গ্রাম গঠনে নিজস্ব অর্থায়নে গ্রামের প্রধান প্রধান রাস্তায় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন, হত-দরিদ্রদের পৌর করের টাকা নিজের পকেট থেকে দেয়ার ব্যবস্থা এবং সরকারি হালট যদি থাকে, তা খুঁজে বের করে নতুন করে রাস্তা নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আগের মতো নিজস্ব অর্থায়নে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও বিদ্যালয়গুলোতে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অব্যাহত রাখবেন বলে জানান।
বক্তব্যের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম, পৌর মেয়র আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন, উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বক্তব্য শেষে রায়হানুর রহমান নিজের ভুল-ক্রটি তুলে ধরে ভোটারদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন এবং যে কোন পরিস্থিতিতে তাদের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
১৫ নভেম্বর, ২০২০।