হাজীগঞ্জে সেই নারী প্যানেল চেয়ারম্যানের বয়স্ক ভাতা বাতিল হচ্ছে!

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
চাঁদপুরের বহুল প্রচারিত দৈনিক ‘ইল্শেপাড়’ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর হাজীগঞ্জের সেই নারী প্যানেল চেয়ারম্যানের বয়স্ক ভাতা বাতিল করা হচ্ছে। বয়স না হওয়ার পরও গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে নিয়মিত বয়স্ক ভাতা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত এবং বিষয়টি তিনি স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত বক্তব্য দেওয়ার পর তাঁর প্রাপ্ত ভাতার কার্ডটি বাতিল করার নির্দেশনা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার।
গতকাল বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে গত মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) দৈনিক ইল্শেপাড় পত্রিকার প্রথম পাতায় ‘হাজীগঞ্জে বয়স না হলেও বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন এক নারী প্যানেল চেয়ারম্যান’ শিরোনামের একটি সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিতকরণ ও সংশ্লিষ্ট নারী প্যানেল চেয়ারম্যানকে লিখিত জবাব (বক্তব্য) দেওয়ার নির্দেশান দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
মোসা. মাহফুজা বেগম নামের ওই নারী প্যানেল চেয়ারম্যান হাজীগঞ্জ উপজেলার ৫নং হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সংরক্ষিত-৩ (ওয়ার্ড নং- ৭, ৮ ও ৯) ওয়ার্ডের নারী সদস্য। তিনি ওই ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের তালুকদার বাড়ির মৃত হাফিজ উদ্দিন তালুকদারের মেয়ে। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বর্তমান বয়স গতকাল বুধবার পর্যন্ত ৫২ বছর ৭ মাস ২৮ দিন। অর্থাৎ তার জন্ম তারিখ ২ আগস্ট ১৯৬৯।
জানা গেছে, যদিও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নারীদের বয়স্কভাতা পাওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ৬২ বছর। মোসা. মাহফুজা বেগম হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের গত পরিষদে অর্থ্যাৎ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ সফিকুল ইসলাম মীর দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে তার মা মরহুম তফুরেন্নেছার প্রাপ্ত বয়স্ক ভাতার কার্ডটি তার নামে প্রতিস্থাপন করার জন্য উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন।
এরপর তফুরেন্নেছার নামে তার মায়ের বয়স্ক ভাতার কার্ডটি প্রতিস্থাপন হলে তিনি ২০২০ সাল থেকে ভাতার টাকা ভোগ করে আসছেন। অথচ জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্মতারিখ অনুযায়ী ওই সময়ে তার বয়স ছিল প্রায় ৫১ বছর। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৩০ জুনের আগে অনলাইন (ডিজিটাল) সিস্টেম না থাকার কারণে কিছু অনিময় হয়েছে। যার ফলে অনেকে ভাতা ভোগ আসছিলেন।
পরবর্তী সময়ে এসব লোকদের চিহিৃত বা কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভাতার কার্ড বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু ২০২০ সালের ৩০ জুনের পর থেকে তথ্য গোপন করে নতুনভাবে ভাতা ভোগ করার সুযোগ নেই। অর্থাৎ নিয়ম অনুযায়ী বয়স না হলে কারো পক্ষে বয়স্ক ভাতার সুবিধাটি গ্রহণের কোন সুযোগ নেই।

৩১ মার্চ, ২০২২।