‘ফি’ ফেরৎ পাবে শিক্ষার্থীরা
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
দৈনিক ইল্শেপাড়ে সংবাদ প্রকাশের পর হাজীগঞ্জে স্থগিত (বন্ধ) করা হয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা। সাথে শিক্ষার্থীরা ফেরৎ পাবে পরীক্ষা ‘ফি’ এবং জবাবদিহীতার আওতায় আসছে পরীক্ষা নেওয়া সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা। রোববার (১২ ডিসেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাজীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু সাইদ চৌধুরী।
এর আগে এদিন দৈনিক ইল্শেপাড়ের প্রথম পাতায় সরকারি নির্দেশ অমান্য করে ‘শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ‘ফি’ আদায়, হাজীগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেওয়া হচ্ছে বার্ষিক পরীক্ষা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হলে সোমবার থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা স্থগিত এবং তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের নির্দেশনা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার।
উল্লেখ্য, কোভিড-১৯ মহামারি কারণে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (বার্ষিক) পরীক্ষা বাতিল করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রাণালয়। কিন্তু সরকারি নির্দেশনা অমান্য হাজীগঞ্জের রাজারগাঁও ও রামপুর ক্লাস্টারের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ‘ফি’ আদায় করে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু করে এবং গত শনিবার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা এবং তৃতীয়, চতুথ ও পঞ্চম শ্রেণির গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
বিষয়টি সংবাদকর্মীরা জানতে পেরে উপজেলার কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নের ভাটরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চিলাচোঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে পরীক্ষারত অবস্থায় শিক্ষার্থীদের পাওয়া যায় এবং দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়নের কাপাইকাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে পরীক্ষা নেওয়ার সত্যতা পাওয়া যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়গুলোতে বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা এবং তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এজন্য প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষা ফি বাবদ জনপ্রতি ২০ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণির ৩০ টাকা, তৃতীয় শ্রেণির ৪০ টাকা, চতুর্থ শ্রেণির ৫০ টাকা এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৬০ করে নেওয়া হয়েছে।
চিলাচোঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মানহা ও জিহাদ, তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল রাব্বী ও মারিয়া, ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মেশকাত ও নুরজাহান, পঞ্চম শ্রেণি শিক্ষার্থী ইউনুস ও আব্দুর রহমানসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা জানান, আজ তাদের যথাক্রমে বাংলা ও গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত এবং বার্ষিক পরীক্ষার ফি বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ক্রমান্বয়ে জনপ্রতি ৩০, ৪০, ৫০ ও ৬০ টাকা নেওয়া হয়েছে।
১৩ ডিসেম্বর, ২০২১।
