হাজীগঞ্জে হত্যার অভিযোগে পলাতক বড় ভাই গ্রেফতার

সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে মারামারিতে নিহত

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে সম্পত্তি বিরোধের জেরে বড় দুই ভাইয়ের কিল-ঘুষিতে ছোট ভাই ও উপজেলা পরিষদ বাইতুল মামুর জামে মসজিদের সহকারী ইমাম (মুয়াজ্জিন) মো. সেলিম হোসেন (৪৫) নিহতের ঘটনায় বড় ভাই নজরুল ইসলামকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে আদালত। গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের হাড়িয়াইন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ।
নিহত মুয়াজ্জিন মো. সেলিম হোসেন ওই গ্রামের নতুন মিজি বাড়ির মৃত সামছুল হকের ছেলে। এর আগে গত ১৭ এপ্রিল সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে ওই বাড়িতে মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই সময়ে নিহতের আপন বড় ভাই মো. নজরুল ইসলাম (৫২) ও তার পরিবারের সদস্য এবং তার চাচাতো ভাই মৃত ছেরাজুল ইসলামের ছেলে সোলেমান মিয়াজি (৫৮) কে দায়ী করেন নিহত সেলিম হোসেনের পরিবারের লোকজন।
এরপর থেকে থেকেই তারা সবাই পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার সকালে নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে হাজীগঞ্জ থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোপী দাস। এদিন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠায়। সংবাদকর্মীদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল।
উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল সকালে সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে বড় ভাই নজরুল ইসলাম ও ছোট ভাই সেলিমের সালিসি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। নজরুল ইসলামের পক্ষের লোকজন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য খোরশেদ সালিসি বৈঠকে উপস্থিত হলেও সেলিমের পক্ষের লোকজন সময়মতো না আসায় বৈঠকের কিছুটা দেরী হয়।
এর মধ্যে নজরুল ইসলাম ও মো. সেলিমের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ের মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে দুজনেই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে নিজ পরিবাবরের লোকজন তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সেলিমকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় আহত নজরুল ইসলাম প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
পরে মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর খবর জানতে পেরে বড় ভাই নজরুল ইসলাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পালিয়ে যান। এদিকে নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মো. সেলিম হোসেন হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি মারধরে আহত হয়ে নাকি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে আসলে তা জানা যাবে। তবে এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় হত্যার অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

২৫ জুন, ২০২২।