হাজীগঞ্জে ৩ লাখ টাকায় সমঝোতা করলেন চিকিৎসক পদবী ব্যবহারকারী আলাউদ্দিন

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
৩ লাখ টাকা আর্থিক সহযোগিতা করে বাক প্রতিবন্ধী শিশুর পরিবারের সাথে সমঝোতা করেছেন হাজীগঞ্জের ডাক্তার পদবী ব্যবহারকারী সেই চিকিৎসক মো. আলাউদ্দিন। গত রোববার শিশুর পরিবারকে এই টাকা বুঝিয়ে দেয়া হয়। সমঝোতা বৈঠকে শিশুর বাবা হাছান মিয়া, ফারুক হোসেন, ডিপ্লোমা চিকিৎসক আলাউদ্দিন ও অভিজিৎ পোদ্দার, কামরুজ্জামানসহ ফার্মেসীর পরিচালক ফারুক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি ‘হাজীগঞ্জে অপ-চিকিৎসায় প্রতিবন্ধী শিশুর হাতে পচন’ শিরোনামে দৈনিক ইলশেপাড়ের প্রথম পাতায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই শিশুর পরিবারের সাথে সমঝোতার জন্য আগ্রহী হন মো. আলাউদ্দিন। শিশু আরাফাত হোসেন (১৩) ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব গুপ্টি ইউনিয়নের মানুরী গ্রামের নোয়া বাড়ির হাছান মিয়ার ছেলে।
এদিকে সমঝোতার বিষয়টি সংবাদকর্মীদের নিশ্চিত করেছেন শিশুর বাবা হাছান মিয়া। তিনি বলেন, ডাক্তারের পরিবারের পক্ষ থেকে তিন লাখ টাকা পেয়েছি। এই টাকা দিয়ে আমার ছেলের (আরাফাত) চিকিৎসা করাবো। বর্তমানে সে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এজন্য তিনি সবার কাছে দোয়া চান।
এ বিষয়ে ডিপ্লোমা চিকিৎসক মো. আলাউদ্দিন বলেন, শিশু আরাফাতাকে আর্থিক সহযোগিতা করে এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ।
উল্লেখ্য, গত ৩ ডিসেম্বর (২০২১) প্রতিবন্ধী শিশু আরাফাত হোসেন খেলতে গিয়ে তার ডান হাতের কনুই ভেঙ্গে ফেলে। এরপর হাজীগঞ্জ বাজারে ডাক্তার পদবী ব্যবহারকারী মো. আলাউদ্দিন ও চাঁদপুুর সদর উপজেলার মৈশাদী গ্রামে এক কবিরাজের অপ-চিকিৎসায় শিশুটির হাতে পচন ধরেছে। ইতোমধ্যে তার হাতের দুইটি আঙ্গুল কেটে ফেলা হয়েছে। হাতের অপারেশনও সফল হয়েছে।
এই ঘটনায় শিশুটির বাবা মো. হাছান মিয়া কথিত চিকিৎসক মো. আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এসএম সোয়েব আহমেদ চিশতীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে তিনি ওই অভিযোগে কবিরাজের কথা উল্লেখ করেননি।
শিশুটির ব্যবস্থাপত্রে (প্রেসক্রিপশন) দেখা যায়, মো. আলাউদ্দিন ডাক্তার পরিচয়ে হাজীগঞ্জ বাজারের ডিগ্রি কলেজ রোডস্থ জান্নাত ফার্মেসীতে প্রতিদিনি সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত (সোমবার বন্ধ) রোগী দেখেন। তিনি তার যোগ্যতা হিসেবে ডি.এম.এফ (ঢাকা), বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ এক্স.এফ.টি (জেনারেল হাসপাতাল, কুমিল্লা), জেনারেল ফিজিসিয়ান, বিএমএন্ডডিসি রেজিস্ট্রেশন নং- ডি-২০৭৩৯ উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শিশু আরাফাত একজন বিশেষায়িত প্রতিবন্দ্বী। গত ৩ ডিসেম্বর অসাবধনাতবশত তার হাত ভেঙ্গে যায়। আর্থিক সমস্যার কারনে হাসপাতালে না নিয়ে হাজীগঞ্জ বাজারস্থ জান্নাত ফার্মেসি নিয়ে আসলে মো. আলাউদ্দিন নিজেকে ডাক্তার পরিচয়ে শিশুটিকে চিকিৎসা সেবার নামে অপ-চিকিৎসা দেন। এতে করে শিশু আরাফাতের অবস্থা ক্রমশ খারাপ হয়ে গেলে তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে নেয়া হয়।
এর আগে শিশুটিকে জান্নাত ফার্মেসিতে চিকিৎসার দেয়ার পর বাড়িতে নিয়ে আসলে অসহ্য ব্যথার কারণে ৫ ডিসেম্বর ব্যান্ডেজ খুলে দেন তার চাচাতো ভাই কামরুজ্জামান কায়েসসহ শিশুর পরিবারের লোকজন। এরপর তাকে মৈশাদীর এক কবিরাজের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শিশুর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ৯ ডিসেম্বর বাড়িতে আনার পর ওই দিনই জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান কামরুজ্জামান কায়েস।

২৫ জানুয়ারি, ২০২২।