নতুন বই বুঝে নিচ্ছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
সারা দেশের মতো এবার বই উৎসব ছাড়াই হাজীগঞ্জে আসছে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে ৪৩ হাজার নতুন বই পাবে প্রাথমিকের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা। ইতোমধ্যে বই
বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়। করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে উৎসব ছাড়াই আগামি পহেলা জানুয়ারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্ব-স্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে এই নতুন বই তুলে দেয়া হবে।
তবে বই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলেও করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে এখনো সব বই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কার্যালয়ে এসে পৌঁছেনি। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই চাহিদা মোতাবেক সব বই হাতে পাবেন বলে জানান শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ চৌধুরী। এই শিক্ষাবর্ষে (২০২১) শিক্ষাবর্ষে ১৫৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সব কেজি স্কুল ও ব্র্যাক স্কুলসহ প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী নতুন বই পাবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় প্রাথমিক, কেজি স্কুল ও ব্র্যাক স্কুল মিলিয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ২৯ হাজার ৯শ’ ৮৫ জন। এই শিক্ষার্থীরা ৪৩ হাজার ৫৬টি নতুন বই পাবে। এই বইয়ের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাহিদা ৩০ হাজার ৩৬টি, কেজি স্কুলের ১১ হাজার ৫৯০টি ও ব্র্যাক স্কুলের ১ হাজার ৪৩০টি বই রয়েছে।
উপজেলার ৭টি ক্লাস্টারের মধ্যে রোববার (২৭ ডিসেম্বর) হাজীগঞ্জ সদর, বলিয়া, বাকিলা ও রান্ধুনীমূড়াসহ ৪টি ক্লাস্টারের বই বিতরণ করা হয়েছে। আজ সোমবার রামপুর, রাজারগাঁও ও পালিশারাসহ তিনটি ক্লাস্টার বই বিতরণ করা হবে। এর পরদিন আগামিকাল মঙ্গলবার সব কেজি স্কুল ও ব্র্যাক স্কুলের বই বিতরণ করা হবে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে আরো জানা গেছে, ইতোমধ্যে বেশিরভাগ বই হাতে এসে পৌঁছালেও প্রাক প্রাথমিকের অনুশিলন বই, ৩য় শ্রেণির তিনটি বিষয় ও ৫ম শ্রেণির কোন বই এখনো আসেনি। আশা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যে চাহিদা মোতাবেক বাকি বইগুলো চলে আসবে বলে জানান শিক্ষা কর্মকর্তা।
রান্ধুনীমূড়া ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, রোববার থেকে ক্লাস্টারভিত্তিক বই বিতরণ করা হচ্ছে। ১ জানুয়ারি স্ব-স্ব বিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট সময় মাস্ক পরিধান ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সেট হিসেবে শিক্ষার্থী কিংবা অভিভাবকদের হাতে বই তুলে দিবেন শিক্ষকরা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, আমরা বই বিতরণ শুরু করেছি। আশা কারি আগামি দুই/তিন দিনের মধ্যে সব বিদ্যালয়ে বই পৌঁছে যাবে। এরপর পহেলা জানুয়ারী স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ করা হবে। তবে করোনারভাইরাসের কারণে এবারে বই উৎসব হচ্ছে না।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিশু শ্রেণির (প্রাক-প্রাথমিক) অনুশীলন বই, ৪র্থ শ্রেণির ৩ বিষয় ও ৫ম শ্রেণির বই ছাড়া অন্য সব বই হাতে পেয়েছি। আশা করি চলতি সপ্তাহের মধ্যেই বাকি বইগুলো হাতে এসে পৌঁছাবে। করোনা মহামারির কারণে এ বছর বই হাতে পৌঁছাতে একটু দেরি হচ্ছে বলে তিনি জানান।
২৮ ডিসেম্বর, ২০২০।
