হাজীগঞ্জে ৭ মাস পর স্কুল মাঠ থেকে অপসারণ হচ্ছে মেলার স্টল ও সরঞ্জামাদী

ইল্শেপাড়ের প্রিন্ট ও অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
জেলার পাঠকপ্রিয় দৈনিক ‘ইল্শেপাড়’ পত্রিকার প্রিন্ট ও অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর হাজীগঞ্জে ৭ মাস পর স্কুল মাঠ থেকে মেলার স্টল ও অন্যান্য সরঞ্জাম অপসারণ করা হচ্ছে। শনিবার (৯ অক্টোবর) দিনব্যাপী পৌরসভাধীন বলাখাল জেএন স্কুল এন্ড কারিগরি কলেজ মাঠ থেকে প্রায় অর্ধ শতাধিক স্টল ও বিভিন্ন রাইডসহ প্রায় ৮০ ভাগ সরঞ্জামাদী সরিয়ে নেন মেলার আয়োজক।
আজ রোববার বাকি সরঞ্জামাদী সরিয়ে নেবা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খোদেজা বেগম। গত ৪ অক্টোবর ‘ইল্শেপাড়’ পত্রিকার প্রিন্ট ও অনলাইনে ‘মেলার নামে ৭ মাস ধরে বলাখাল জে.এন উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের খেলার মাঠ দখল’ খেলাধুলাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা এবং রাতে মাদকসেবীদের আড্ডাখানা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেই সংবাদের সূত্র ধরেই মেলার সরঞ্জামাদী সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হয়।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খোদেজা বেগম জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুনির্মল দেউরীর উপস্থিতিতে শনিবার মেলার অধিকাংশ মালামাল সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। বাকি মালামাল সরাতে তারা (মেলার আয়োজক) এক দিনের সময় চেয়েছে। আশা করি রোববার মধ্যে মেলার সম্পূর্ণ মালামাল সরিয়ে নিয়ে মাঠ খালি করে দিবে।
তিনি বলেন, আমাদের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তারের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে দীর্ঘ ৭ মাস পর মাঠটি খালি হচ্ছে। এ সময় তিনি মাঠটির বিষয়ে সংবাদ পরিবেশন করায় সংশ্লিষ্ট পত্রিকা ও সংবাদকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি মাসব্যাপী মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে মেলা আয়োজন জন্য মাঠ ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন অধ্যক্ষ মো. আবু তাহের মজুমদারের (বর্তমানে তিনি অবসরে আছেন) কাছে একটি লিখিত আবেদন করেন হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহতাব হোসেন সবুজ।
ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির মৌখিত অনুমতি সাপেক্ষে গত ৩ মার্চ থেকে ১০ জুন পর্যন্ত মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেন অধ্যক্ষ। কিন্তু মার্চ মাস থেকে করোনার সংক্রমণ তীব্র হওয়ায় এবং কঠোর লকাডউনের কারণে মেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। এর মধ্যে মাঠ ব্যবহারের সময়সীমা পরেও আরো প্রায় চার মাস অতিক্রম হয়। অর্থাৎ মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেয়ার পর ৭ মাস পার হলে মাঠ থেকে স্টল অপসারণ করা হয়নি।
যার ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় ও এলাকার শিশু-কিশোরেরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত এবং রাতের আঁধারে মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয় বিদ্যালয়ের মাঠটি। এছাড়াও মেলার স্টল ও বিভিন্ন উপকরণ অরক্ষিত থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকতে স্থানীয়রা ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে করে ক্ষুব্ধ ছিলেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষকসহ স্থানীয় ও এলাকাবাসী।
পরবর্তীতে মাঠ খালি করতে মেলা কর্তৃপক্ষকে বেশ কয়েকবার মৌখিক নির্দেশনা দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তারা খালি না করায় গত ২৪ আগস্ট লিখিতভাবে প্রথম নোটিশ দেয়া হয়। তারা নোটিশ হাতে পেয়ে সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখের মধ্যে মাঠ খালি করার কথা জানায়। কিন্তু যথাসময়ে মাঠ খালি না করায় ১ অক্টোবর দ্বিতীয় নোটিশ দেয়া হয়েছে। এরপর সংবাদকর্মীরা বিষয়টি জানার পর গত ৩ ও ৪ অক্টোবর জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।
১০ অক্টোবর, ২০২১।