মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে ‘আরএইচডি (রোডস এন্ড হাইওয়ে ডিপার্টমেন্ট, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর), জরুরি রাস্তার কাজে নিয়োজিত’ লেখা স্টিকার লাগানো একটি
প্রাইভেটকার থেকে ৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ ২জনকে গ্রেফতার করেছে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ। রোববার (১৮ জুলাই) গ্রেফতারকৃত চিহ্নিত মাদক কারবারী মো. সালাউদ্দিন রাজু (৩৩) ও গাড়ির চালক মো. আবির হোসেন (২১) কে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
এর আগে শনিবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৯নং ওয়ার্ড আলীগঞ্জ বাজারস্থ উপজেলা পরিষদ গেইট সংলগ্ন মীর হোসেনের চা দোকানের সামনে কুমিল্লা চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে ইয়াবাসহ এই ২জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ দিন রাতেই তাদের বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ থানায় ২০১৮ইং সনের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ৩৬(১) এর ১০(খ)/৩৮ একটি নিয়মিত মামলা (নং- ১৬/২১২) দায়ের করা হয়।
আটক মাদক কারবারী মো. সালাউদ্দিন রাজু ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাচিয়াখালী গ্রামের সুজাত আলী পাটওয়ারী বাড়ির আব্দুল হাই পাটোয়ারীর ছেলে এবং গাড়ির চালক মো. আবির হোসেন হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন টোরাগড় গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে। সালাউদ্দিন রাজু ওই এলাকার চিহিৃত মাদক কারবারী। এর আগে ২০১৯ সালে ফরিদগঞ্জে ২ হাজারেরও বেশি পিস ইয়াবাসহ তাকে আটক করে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ।
এদিকে ৭ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় রোববার দুপুর ১২টায় সংবাদকর্মীদের প্রেস ব্রিফিং করে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ। প্রেস ব্রিফিং সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ সার্কেল) মো. সোহেল মাহমুদ ও হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পৌরসভাধীন আলীগঞ্জ বাজারের কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে বিভিন্ন পরিবহন মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।
অভিযান চলাকালীন সময়ে ‘আরএইচডি (রোডস এন্ড হাইওয়ে ডিপার্টমেন্ট, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর), জরুরি রাস্তার কাজে নিয়োজিত’ লেখা স্টিকার লাগানো একটি প্রাইভেট কারের (ঢাকা মেট্রো গ-২৬-৬১৫৮) গতিরোধ করে পুলিশ। পরে গাড়ির যাত্রী ও চালকের কথা-বার্তা অসংলগ্ন হওয়ায় পুলিশ তল্লাশী চালায়। এ সময় যাত্রী সালাউদ্দিন রাজুর প্যান্টের পকেট থেকে ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
একই সময়ে গাড়ির চালক আবির হোসেনের প্যান্টের পকেট থেকে ১ হাজার পিস ইয়াবা এবং গাড়ির সিটের নিচ থেকে ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ মোট ৭ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ২১ লাখ টাকা। পুলিশ মাদক পাচারে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার এবং মাদক কারবারী সালাউদ্দিন রাজু ও চালক আবির হোসেনের ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধারপূর্বক জব্দ করে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ সার্কেল) মো. সোহেল মাহমুদ জানান, সালাউদ্দিন রাজু চিহ্নিত মাদক কারবারী। তার পরিবারের অনেকেই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। কিছুদিন আগে মাদক মামলায় ১৭ মাস জেল খাটার পর রাজু জামিনে বের হয়ে এসে আবারো মাদক ব্যবসা শুরু করে। সে চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা এনে চাঁদপুর, ফরিদগঞ্জ ও হাজীগঞ্জ উপজেলাসহ আশ-পাশের এলাকায় বিক্রি করে।
তিনি বলেন, আমরা সালাউদ্দিন রাজুর কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছেনা। আশাকরি তদন্ত সাপেক্ষে মাদক কারবারীর সাথে জড়িত এই পুরো চক্রটাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারবো। চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদের নেতত্বে¡ পুলিশ বিভাগ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স। এ সময় তিনি তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ সার্কেল) মো. সোহেল মাহমুদ এবং হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশীদের সার্বিক তত্ত্ববধানে ও থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল, সেকেন্ড অফিসার (উপ-পরিদর্শক) সৈয়দ মোশারফ হোসেন, উপ-পরিদর্শক জাকারিয়া, মো. জয়নাল আবেদীন-১, সহকারী উপ-পরিদর্শক গোলাম সামদানীসহ অন্যান্য কর্মকর্তা এই মাদক বিরোধী অভিযানে অংশ নেয়।
অভিযানে ৭ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় হাজীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সৈয়দ মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃত ২ জনের বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হলেন থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল।
১৯ জুলাই, ২০২১।
