করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির প্রার্থনা
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
জেলার সবচে বড় জামাতের মাধ্যমে হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদে জুমআ’তুল বিদা’র নামাজ আদায় করেছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। গত শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা জুম’আতুল বিদা’র নামাজে অংশগ্রহণ করে। জুময়ার নামাজের খুতবা পূর্ববর্তী আলোচনা এবং খুতবা পাঠ, নামাজ আদায় শেষে করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি ও মুসলিম উম্মাহ এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করেন মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মুফতি আবদুর রউফ।
এর আগে বৈশি^ক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রখর রোদ ও প্রচণ্ড তাপমাত্রা উপেক্ষা করে শুক্রবার জুমআ’তুল বিদা’আ উপলক্ষে আশে পাশের জেলা, উপজেলা এবং বিভিন্ন স্থান থেকে উপেক্ষা করে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এই মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসে। এদিন সকাল ১১টার মধ্যেই বিশাল মসজিদের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় কানায়-কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে মসজিদের মাঠ, আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ ও ভবন, জামেয়া আহমাদীয়া কওমী মাদ্রাসা ভবন, হাজীগঞ্জ টাওয়ার, রজনীগন্ধ্যা মার্কেট, হাজীগঞ্জ প্লাজা, বিজনেস পার্ক মকিম উদ্দিন শপিং সেন্টার, প্রাইম ব্যাংক ভবন, রয়েল রওশন সুপার মার্কেট, হাজীগঞ্জ পৌর সুপার মার্কেটের কানায় কানায় মুসল্লিরা নামাজের কাতারে দাঁড়িয়ে যান।
এরপর দুপর ১টায় কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের হাজীগঞ্জ বাজারস্থ স্টেশন রোডের সম্মুখ থেকে শুরু করে পূর্ব বাজারস্থ বড় ব্রিজ পর্যন্ত (হাজীগঞ্জ বাজার সেতু) মুসল্লিদের নামাজের কাতার ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে সব প্রকার যানবাহন চলা-চল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রখর রোদ উপেক্ষা করে মুসল্লিরা মাঠ ও মহাসড়কে নামাজ আদায় করে।
নামাজ শেষে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্তি এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা মোনাজাতের সময় ‘আমিন, আমিন’ ধ্বনীতে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে উঠে পুরো মসজিদ এলাকা। এ সময় আল্লাহর দরবারে পানা’হ চেয়ে জুম’আতুল বিদা’র মোনাজাতে মুসল্লিদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠে।
জুমআ’তুল বিদা’র জামায়াত প্রসঙ্গে হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের ভারপ্রাপ্ত মোতাওয়াল্লী প্রিন্স শাকিল আহমেদ বলেন, আলহামদুলিল্লাহ্ প্রখর রোদ উপেক্ষা করে বিশাল জামায়াতে নামাজ আদায় করেছি। অন্যান্য বছরের চেয়েও এবার বৈশি^ক মহামারির করোনার কারণে জুমআ’তুল বিদা’র নামাজ আদায়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা আমাদের সাধ্যমতো মুসল্লিদের সেবা দেয়ার চেষ্টা করেছি।
তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে নামাজ আদায়ে আমাদের হাজীগঞ্জ পৌরসভা, হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় সংস্থাসমূহ, বাজারের ব্যবসায়ী পর্যাপ্ত সহযোগিতা প্রদান করেছে। আমি তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং ভবিষ্যতেও তাদের এমন সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।
৯ মে, ২০২১।
