মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ ও পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ। বুধবার (১৩ অক্টোবর) বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত দুই উপজেলার পূজামন্ডপগুলো পরিদর্শন করেন তারা। এ দিন বিকালে শাহরাস্তি এবং সন্ধ্যার পরে হাজীগঞ্জের পূজামন্ডপগুলো পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার।
পূজামন্ডপ পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল থেকে নানা জাতি-গোষ্ঠী ও ধর্মানুসারীরা পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে মিলেমিশে একত্রে বসবাস এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য সংহত রেখে যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করে আসছে। আমাদের সরকার সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ যাতে সমানভাবে তাদের সুযোগ-সুবিধা পায় এবং সবাই যেন ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারে, তার জন্য অঙ্গিকারাবদ্ধ। আমরা আপনাদের পাশে আছি। আপনারা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে নিজেদের ধর্মীয় উৎসব পালন করুন। সেখানে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
সবাইকে সজাগ থাকার অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, আমাদের শান্তি বিনষ্ট এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য কিছু চক্র সবসময় থাকে। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় যেমন সক্রিয় এবং বাস্তবেও সক্রিয়। কাজেই আমাদের সর্তক থাকতে হবে। তারা যেন আমাদের শান্তি-শৃঙ্খলা কোনভাবেই বিনষ্ট করতে না পারে।
চাঁদপুরে সুন্দরভাবে দুর্গোৎসব পালন হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে ২৪ ঘন্টা পূজামন্ডপের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। সাথে পুলিশ প্রশাসন ও আনসার থাকবে। পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েনের জন্য আমি অনুরোধ জানিয়েছি। যাতে করে আমাদের সম্প্রীতির বাংলাদেশ সুন্দর ও শান্তিময় থাকে।
তিনি বলেন, গুজবে কান দিবেন না এবং গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিবেন না। এ ধরনের কোন কিছু হলে অথবা আপনাদের কাছে কোন তথ্য থাকলে আমাদেরকে ও আইন-শৃঙ্খলার বাহিনীকে জানান। আমরা তাৎখনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আমরা চাই সবার অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে এই দুর্গোৎসব পালন করবো।
এর আগে হিন্দু ধর্মালম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। আমরা সবাই যার ধর্মানুযায়ী নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব পালন করবো। এই উৎসব পালনের ক্ষেত্রে কেউ যদি বাধা দিতে আসে বা কোন কুচক্রি মহল আমাদের শান্তপ্রিয় পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পূজামন্ডপ কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বিভিন্ন সময় স্বার্থান্বেসী মহল বাংলাদেশের সুন্দর পরিবেশকে নস্যাৎ করতে অপচেষ্টা করে। তাই আমাদের সবাইকে এই বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। পূজামন্ডপগুলোতে ২৪ ঘণ্টা আপনাদের স্বেচ্ছাসেবকদের রাখবেন। পাশাপাশি আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করবে। আমরা আপনাদের পাশে আছি, আপনারা নির্বিঘ্নে উৎসব পালন করুন।
রাজা লক্ষ্মী নারায়ন জিউর আখড়ায় ত্রি-নয়নী সংগের পূজামন্ডপে সত্য ব্রত ভদ্র মিঠুনের পরিচালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) সুদীপ্ত রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ সার্কেল) মো. সোহেল মাহমুদ, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী।
উপস্থিত ছিলেন হাজীগঞ্জ উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌ. মো. জাকির হোসন, হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রোটা. রুহিদাস বনিকসহ পূজামন্ডপের নেতৃবৃন্দ।
১৪ অক্টোবর, ২০২১।
