জুতা ও পরনের প্যান্ট দেখে পরিচয় সনাক্ত করে পরিবার
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর মো. আরমান হোসেন (১৫) নামের এক কিশোর মিশুক (অটোরিকশা) চালকের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হাজীগঞ্জ-পিরোজপুর সড়কের সদর ইউনিয়নের দোয়ালিয়া গ্রামের দোয়ালিয়া পূর্বপাড়া আমগাছ তলায় নামক স্থানে রাস্তার পাশে থাকা বালুর স্তুফের নিচ থেকে গলিত লাশটি উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত ৩০ অক্টোবর দুপুরে মিশুক (অটোরিকশা) নিয়ে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় আরমান হোসেন। সে হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৪নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ এলাকার মেস্তুরি বাড়ির মো. আব্দুল মোতালেব দ্বিতীয় ঘরের বড় ছেলে। সে অটোরিকশা চালিয়ে বাবা-মা ও ছোট দুই ভাইসহ জীবিকা নির্বাহ করতো।
জানা গেছে, গত সোমবার রাতে আরমান নিখোঁজ হয়। এরপর আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে ১ নভেম্বর হাজীগঞ্জ থানায় নিখোঁজ ডায়রি (নং-৪৫) করে তার বাবা। সোমবার বিকালেই ইউনিয়নের দোয়ালিয়া গ্রামের হাজীগঞ্জ-পিরোজপুর সড়কের পাশে আমতলা নামক স্থানে বালুর স্ত‚প থেকে দুর্ঘন্ধ বের হয়।
লোকমুখে বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তফা আহমেদ পুলিশকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) পংকজ কুমার দে ও হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বালুর স্ত‚পের নিচ থেকে গলিত মরদেহটি উদ্ধার করে।
খবর পেয়ে নিখোঁজের বাবা আব্দুল মোতালেব ও মা পাখি বেগমসহ পরিবারের অন্যান্য লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে জুতা ও পরনের প্যান্ট দেখে আরমান হোসেনের পরিচয় সনাক্ত করে। পুলিশ তাৎক্ষনিক সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, আরমানকে হত্যা করে লাশটি বালুর নিচে চাপা দিয়ে অটোরিকশাটি নিয়ে নিয়ে যায়। এসময় তাঁর বাবা আব্দুল মোতালেব বলেন, আমার ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমার নিরীহ ছেলেকে কে বা কারা হত্যা করেছে- তা পুলিশ তদন্ত করে বের করুক। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।
তিনি আরো বলেন, পারিবারিকভাবে কারও সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা আমরা জানি না। ঘটনা তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচার চাই।
এমরান হোসেন নামের ওই এলাকার একজন অটোচালকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, যেদিন নিখোঁজ হয় ওই দিন (৩০ অক্টোবর) রাতে হাজীগঞ্জ রেলস্টেশনে আমি ও আরমান হোসেনসহ কয়েকজন মিশুক ও রিকশা চালক মেঘনা ট্রেনের অপেক্ষায় ছিলাম। তখন রাত আনুমানিক ৯টা বাজে। ওই সময়ে তার সাথে কথা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, পরদিন শুনেছি আরমানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সে (আরমান) খুব ভালো ছিল। এর আগেও একবার তার অটোরিকশা নিয়ে ঝামেলা (সম্ভবত চুরি) হয়েছিল বলে তিনি জানান।
এ দিকে বালুর স্ত‚পের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ওই এলাকার কয়েক শতাধিক নারী-পুরুষের ভীড় জমে। এসময় আরমানের বাবা ও মায়ের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। তার মা বার-বার মুর্ছা যান।
এ ব্যাপারে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কিশোর আরমানকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, লাশ উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
০৭ নভেম্বর, ২০২৩।
