হাটিলা পশ্চিমে যুবদলের ১৭ নেতার পদত্যাগ

হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়ন যুবদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি থেকে ১৭ জনের পদত্যাগের বিষয়টি তুলে ধরেন যুবদল নেতা মো. মাসুদ খন্দকার। -ইলশেপাড়

ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করায়

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জ উপজেলার হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়ন যুবদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করায় ৩২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির ১৭ জন পদত্যাগ করেছেন। উপজেলা বিএনপির সমন্বয়কসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও উপজেলা যুবদল নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শনিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে উপজেলায় কর্মরত সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে তারা পদত্যাগের বিষয়টি জানান দেন।
এর আগে উপজেলা যুবদল নেতৃবৃন্দের কাছে হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়ন যুবদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির ৫ জন যুগ্ম-আহ্বায়কসহ ১৭ জন সদস্য পদত্যাগ পত্র জমা দেন বলে সংবাদকর্মীদের জানান আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ খন্দকার। এদিন বিকেলে তিনি ওই ১৭ জনের পক্ষে সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে লিখিত পদত্যাগ পত্র পাঠ করেন।
পদত্যাগকারীরা হলেন- ইউনিয়ন যুবদলের নব-গঠিত আহবায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. মাসুদ খন্দকার, যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. শাহাদাত মজুমদার, মো. জিসান সর্দার, মো. কবির খান ও মো. মাসুদ মিয়াজী, সদস্য মো. মাসুদ খান, মো. রুবেল মোল্লা, মো. মহিউদ্দিন রিপন মজুমদার, মো. জয়নাল আবেদীন কাজী, মো. আরিফুল ইসলাম সুজন. মো. মনির হোসেন, মো. এমরান হোসেন. মো. মাসুদুর রহমান, মো. ওমর, মো. জুয়েল পন্ডিত, মো. কাউছার আলম, মো. আল-আমিন প্রধানীয়া ও ডা. ইকবাল হোসেন বাদল।
পদত্যাগের বিষয়ে মাসুদ খন্দকার বলেন, গত ৯ জুলাই ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারলাম হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়ন যুবদলের ৩২ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ঐ কমিটিতে আমিসহ উল্লেখিত ৫ জন যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ১২ জন সদস্য রয়েছি। উল্লেখিত কমিটি দেখে আমরা মর্মামত এবং ব্যথিত।
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে দল ও দেশ যখন অবরুদ্ধ এবং মামলা, হামলায় দলীয় ত্যাগী নেতা-কর্মীরা জর্জরিত, আওয়ামী লীগ ও পুলিশি নির্যাতনে সব নেতাকর্মী যখন নির্যাতিত, নেত্রী যখন অবরুদ্ধ, তারেক রহমান যখন প্রবাসে এবং সর্বোপরি দেশের মানুষ যখন কোভিড-১৯ আক্রান্ত, তখন কিভাবে সফল কমিটি ভেঙে অযোগ্য লোক দিয়ে নতুন করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, যাদের ভাইটাল পদবি দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে তারা কোনকালেই আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলো না। গত জাতীয় নির্বাচনে (২০১৮) তারা এলাকায় আসেনি। ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে এবং অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করে। এছাড়া যাকে আহ্বায়ক করা হয়েছে তিনি ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা একটি লোহার দোকানের কর্মচারী এবং যাকে সদস্য সচিব করা হয়েছে তিনি হাজীগঞ্জ বাজারের একটি মুদি দোকানের কর্মচারী ছিলেন।
আরো যাদের যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে তাদের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা নাই। যিনি দীর্ঘদিন ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তাকে সদস্য করা হয় নাই। যিনি সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তাকে যুগ্ম-আহ্বায়ক করা হয়েছে। অথচ যিনি ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তাকে নেতা বানিয়ে, নেতাদের কর্মী বানোনো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মাসুদ খন্দকার।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ইউনিয়নের অনেক নেতা রয়েছে, যারা মামলার আসামি। জেলে থাকার কারণে ব্যবসা হারিয়ে তারা আজ পথে বসেছে। মামলা-মোকাদ্দমা থাকার কারণে তারা না পারে ব্যবসা করতে, না পারে চাকরি করতে। অথচ কমিটিতে তাদের সদস্য পর্যন্ত করা হয়নি। তাই অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত এবং অযোগ্য লোক দিয়ে গঠিত কমিটি বাতিল ও যোগ্য নেতাদের মূল্যায়ন করে নতুন কমিটি ঘোষণা দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে মো. মাসুদ খন্দকার বলেন, দল থেকে নয়, আমরা উল্লেখিত ১৭ জন ইউনিয়ন যুবদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছি। আমরা হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক ইঞ্জি. মমিনুল হকের নেতৃত্বে রাজনীতি করছি এবং ভবিষ্যতেও করে যাবো। দলীয় কেন্দ্রিয় সিদ্ধান্ত ও ইঞ্জি. মমিনুল হকের দিক-নির্দেশনা মেনে আগের মতো আগামিদিনেও রাজনীতি করবো।

২৪ জুলাই, ২০২১।