এস এম সোহেল
ঈমান ও আমল সম্পর্কে আখিরাতকে সামনে রেখে মানুষ দুনিয়া-আখিরাতে কীভাবে সফলকাম হতে পারে এ নিয়ে আগামি বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে চাঁদপুরে তাবলীগ জামাতের আঞ্চলিক ইজতিমা। আসন্ন সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও ভোটগ্রহণ সন্নিকটের কারণে ইজেতমার তারিখ এগিয়ে এনেছেন তাবলীগ জামাতের মুরব্বিরা। গত ৯ নভেম্বর বাদ জুআ’য় তাবলীগ জামাতের সূরার সাথী ও মুরব্বিরা মিলে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। যদিও পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ি আগামি ২২, ২৩ ও ২৪ নভেম্বর ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এখন অনুষ্ঠিত হবে ১৫, ১৬ ও ১৭ নভেম্বর (বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার)। গতবার ৪০ একর জমির মধ্যে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হলেও এবছর ইজতেমার পরিধি কিছুটা ছোট করা হয়েছে। তবে ইজতেমা ঘিরে আশপাশের বাসিন্দাদের মাঝে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
বিশ্ব ইজতিমার তত্ত্বাবধানে এ ২য় বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে চাঁদপুরে জেলা পর্যায়ে তাবলীগ জামাতের ইজতিমা। আগামী ১৫, ১৬ ও ১৭ নভেম্বর এ তিনদিন চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার জাফরাবাদ মেঘনা নদীরপাড়ে অনুষ্ঠিত হবে এ ইজতিমা। এখানে কয়েক লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগম হবে বলে আয়োজকরা আশাবাদী। ইজতেমার মাঠের জিম্মাদারে দায়িত্বে রয়েছেন মো. আরিফ উল্লাহ হাজি।
গতকাল রোববার ইজতেমা মাঠ ঘুরে জানা যায়, চাঁদপুর শহরের এমদাদিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মেঘনা নদীরপাড়ে ঘেঁষে এবাও ২য় বারের মতো ইজতেমার আয়োজন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের বিশাল জমিতে ইজতেমার বিশাল প্যান্ডেল তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। প্রতিদিন গড়ে শতাধিক লোক স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে প্যান্ডেলসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণ কাজে সহযোগিতা করেছেন। এছাড়া মুসল্লিদের গোসল, ওজুর ব্যবস্থা এবং কয়েকশ’ টয়লেট নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার জাফরাবাদ মেঘনা নদীর পাড়ে ৮০ ভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশাল প্যান্ডেল, আমন্ত্রিত বিদেশী অতিথি ও মুখ বধিররা থাকার জন্যে আলাদা টিনসেট ঘর, বাথরুম ও ওযু খানা, বিশাল বাঁশের টাওয়ার তৈরি হয়েছে। এখন শুধু প্যান্ডেলে কাপড় লাগানো বাকি। এ ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাবলিগের নিজস্ব সাথীদের পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছেন পুলিশ, ডিবি, ডিএসবিসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
এছাড়াও অস্থায়ীভাবে স্থাপন করা হবে মেডিকেল ক্যাম্প, ফায়ার সার্ভিস ক্যাম্প, গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান, একটি পুলিশ বক্স, পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, নিজস্ব পাহারাদারী ক্যাম্প। এছাড়া মুসল্লিদের মাঠে প্রবেশের জন্য প্রধান তিনটি রাস্তা নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো এমদাদিয়া মাদ্রাসা রোড, পশ্চিম জাফরাবাদ বাইতুল হাম্দ মসজিদ রোড ও দোকানঘর সড়কের এমদাদিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন উত্তর পাশ। জেলার ৮ উপজেলার ৮৯টি ইউনিয়ন থেকে আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে বিশ্ব ইজতেমার মতো প্যান্ডেলের ভেতরে আলাদা আলাদা স্থান নির্ধারণ করা হবে বলে জানান ইজতেমার মুরুব্বীরা।
তাবলীগ জামাতের স্থানীয় মুরব্বিরা জানান, তাবলীগ জামাতের চাঁদপুর মারকাসের মুরব্বিদের তত্ত্বাবধানে আগামি বৃহস্পতিবার ফজর থেকে বয়ান শুরু হবে। বাদ যোহর থেকে বাকি তিনদিন কাকরাইল মারকাসের তত্ত্বাবধানে ইজতেমার কার্যক্রম চলবে। ১৭ নভেম্বর সকালে আখেরী মোনাজাতের মধ্যদিয়ে ইজতেমা শেষ হবে। এ আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো সমগ্র বিশ্বের মানুষকে যে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, তাকে যেনো সবাই চিনে-জানে। ঈমান আমল নিয়ে যেনো মানুষ কবরবাসী হয়ে জান্নাত লাভ করতে পারে।
চাঁদপুর আঞ্চলিক ইজতেমার মাঠের জিম্মাদার মো. আরিফ উল্লাহ হাজি জানান, ২য় বারের মতো অনুষ্ঠিত হবে চাঁদপুরে আঞ্চলিক তাবলীগ জামাতের ইজতিমা। আগামি বৃহস্পতিবার ফজর থেকে বয়ান শুরু হবে। বাদযোহর থেকে বাকি তিন দিন কাকরাইল মারকাসের তত্ত্বাবধানে ইজতেমার কার্যক্রম চলবে। ১৭ নভেম্বর সকালে আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ইজতেমা শেষ হবে। এবার ইজতেমা মাঠে এবার মুসলি¬দের জন্য প্রায় ৪ শতাধিক ওজুখানা ও সাড়ে ৩ শতাধিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। বিদেশী মেহেমানদের জন্য টয়লেট ও ওজুখানার সুব্যবস্থা রয়েছে।
নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. জিহাদুল কবির পিপিএম জানান, চাঁদপুরে তাবলীগ জামাতের আঞ্চলিক ইজতিমা তারিখ পরিবর্তন বিষয়টি এখন আমরা জানি না। ইজতেমায় কতজন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করবে, এ ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, ১৫ নভেম্বর থেকে ১৭ নভেম্বর তিনদিন চাঁদপুর জেলার ৮ উপজেলা, পৌরসভার, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, গ্রাম, পাড়া-মহল্লা ও চরাঞ্চল থেকে দল বেঁধে মুসলি¬রা নদী ও সড়ক পথে ইজতিমা মাঠে শরিক হবেন এছাড়াও জেলাই বাইরের থেকে এবং দেশের বাইরের ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, যুক্তরাজ্য থেকেও প্রচুর ধর্মপ্রাণ বিদেশী মেহমান উপস্থিত হবেন। সবাই সেখানে অবস্থান করে মহান আল¬াহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জনে দুনিয়া ও আখেরাতের বয়ান শুনবেন।

