৬ ঘণ্টায় চাঁদপুরে কোরবানীর বর্জ্য অপসারণ

বর্জ্য অপসারণে কাজ করছে ৩শ’ পরিচ্ছন্নতাকর্মী

এস এম সোহেল
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে চাঁদপুর পৌর এলাকার কোরবানীর পশুর বর্জ্য শতভাগ অপসারণ করা হয়েছে। চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাড. মো. জিল্লুর রহমান জুয়েলের নির্দেশে পৌরবাসীর সহযোগিতায় মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যেই এবছর কোরবানীর পশুর বর্জ্য অপসারণের মতো একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ সাফল্যের সাথে শেষ করেছে চাঁদপুর পৌরসভা। বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) বেলা ১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকার অলি-গলিতে পশু জবেহ করার বর্জ্য অপসারণ করে পৌর কর্তৃপক্ষ।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজ আদায় শেষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ত্যাগের মহিমা ও সৃষ্টিকর্তার নৈকট্যলাভের আশায় পশু কোরবানি করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। এবছর পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকার অলি-গলিতে প্রায় ৩ হাজার পশু জবেহ করা হয়। চাঁদপুর পৌরসভার কোরবানির পশুর বর্জ্য দুপুর ১টার থেকে অপসারণ কাজ শুরু হয়। মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যেই এসব কোরবানীর পশুর বর্জ্য অপসারণ করা হয়। এ বর্জ্য অপসারণে পৌরসভার পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৩শ’ পরিচ্ছন্নতাকর্মী দায়িত্ব পালন করেন। এরমধ্যে পৌর এলাকার বর্জ্য সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শতভাগ অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান পৌরসভার কঞ্জারভেন্সী ইন্সপেক্টর মো. শাহজাহান খান।
চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাড. মো. জিল্লুর রহমান জুয়েলের নেতৃত্বে পৌরসভার কঞ্জারভেন্সী ইন্সপেক্টর মো. শাহজাহান খান বর্জ্য অপসারণ কাজের তরদারকি করেন। বিশেষ করে ওয়ার্ড পর্যায়ে কাউন্সিলররা স্ব-স্ব ওয়ার্ডে বজ্য অপসারণ কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
পৌরসভার কঞ্জারভেন্সী ইন্সপেক্টর মো. শাহজাহান খান বলেন, বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে চাঁদপুর পৌর এলাকার কোরবানীর পশুর বর্জ্য দুপুর ১টা থেকে অপসারণের কাজ শুরু করা হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করতে পেরেছি। কোরবানীর বর্জ্য অপসারণের লক্ষে ঈদের দিন পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের বিভিন্নস্থানে ৫ জন সুপারভাইজার, ৩শ’ পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করেছে। কোরবানীর বর্জ্য অপসারণের কাজে ১০টি ট্রাক, ৭০টি ভ্যান ছাড়াও ৩০টি ট্রলি নিয়োজিত ছিলো। মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের পর পৌর এলাকাকে দুর্গন্ধমুক্ত রাখার জন্য পরিচ্ছন্নকর্মীরা রাস্তায় ও ড্রেনে প্রায় আড়াই হাজার কেজি ব্লিচিং পাউডার ছিটায়ে দেয়। তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে কঞ্জারভেন্সী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ২৪ ঘণ্টাই খোলা ছিলো।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, বাড়ির পাশে অন্যান্য সময়ের মতো আবর্জনার স্তূপ নেই। মূল সড়কের পাশেও নেই তেমন বর্জ্য। পূর্ব নির্ধারিত সময়ের আগেই কোরবানীর বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করে সন্ধ্যা ৭টায় ৬ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয়।
চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাড. মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে চাঁদপুর পৌর এলাকায় বিভিন্ন স্থানে যারা কোরবানী দিয়েছেন, তারাও সচেতন ছিলেন। পৌরবাসী কোরবানীর বর্জ্য ড্রেনে না ফেলে ড্রেন ও রাস্তার পাশে স্তূপ করে রেখেছেন। এতে পরিচ্ছন্নকর্মী সহজে বর্জ্য সংগ্রহ করতে পেরেছে। পৌর এলাকা পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত রাখতে প্রায় ৩শ’ পরিচ্ছন্নকর্মী মাঠে কাজ করেছে। সন্ধ্যার মধ্যেই কোরবানীর বর্জ্য অপসারেণ করতে সক্ষম হয়েছে পৌরসভা। বর্জ্য অপসারণে পৌরবাসীর সহযোগিতা, কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ অবদানের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মেয়র।

২৯ জুন, ২০২৩।