৮ জেলায় ধান কাটতে ৩৭৮ শ্রমিক পাঠালো পুলিশ

হাজীগঞ্জ, শাহরাস্তি ও ফরিদগঞ্জ থেকে গেলো

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
দেশব্যাপী করোনায় এ পর্যন্ত দেড় সহস্রাধিক পুলিশ আক্রান্ত এবং নিহত হয়েছেন ৭ জন। পুলিশের যেসব সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন তাদের প্রায় সবাই ‘মাঠ পর্যায়ের’। কারণ, করোনা প্রাদুর্ভাবে মানুষ যখন বাড়িতে নিরাপদে আশ্রয়ে, তখন রাস্তায় পুলিশ সদস্যরা। দিনে এবং রাত-বিরাতে নিজেদের জীবন বাজি রেখে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন একের পর এক। চাঁদপুরেও পিছিয়ে নেই পুলিশ।
শুধুমাত্র চোর, ডাকাত, দস্যু কিংবা মামলার আসামি ধরতে নয়, নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি করোনায় কেউ মারা গেলে তার দাফনের ব্যবস্থা করছেন, আবার আক্রান্ত হলে নিয়ে যাচ্ছেন হাসপাতালে। রাত-বিরাতে ঘুরছেন, আর খোঁজ নিচ্ছেন, কেউ খাদ্য সঙ্কটে বা অন্য কোনো সমস্যায় ভুগছেন কি না। খাদ্য সংকটে থাকলে তুলে দিচ্ছেন অসহায় মানুষের হাতে উপহার (খাদ্য) সামগ্রী।
শুধু তাই নয়, করোনা পরিস্থিতিতে পেশাগত গন্ডি পেরিয়ে বেশকছিু সামাজিক দায়িত্ব পালনেও এগিয়ে এসেছে পুলিশ। তারই ধারাবাহিকতায় উত্তরের জনপদ নীলফামারী, নেত্রকোনা, নওগাঁ, পঞ্চগড়, নোয়াখালী, সাতক্ষীরা, রংপুর ও রাজশাহী জেলার কৃষকের ধান কাটতে শ্রমিক সরবরাহ করেছে হাজীগঞ্জ, শাহরাস্তি ও ফরিদগঞ্জের পুলিশ। উত্তরের জনপদে কৃষকের পাকা ধান কাটতে শ্রমিক সঙ্কট দূর করতে চাঁদপুর পুলিশের এ ব্যবস্থাপনা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মো. আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে এ পর্যন্ত ৮টি জেলায় বোরো ধান কাটার জন্য হাজীগঞ্জ, শাহরাস্তি ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ৩৭৮ জন শ্রমিক সংগ্রহ করে পুলিশের ব্যবস্থাপনায় দুপুরের খাবার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্কসহ বাসযোগে তাদের পাঠানো হয়েছে। এর আগে প্রত্যেক শ্রমিকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও যাওয়ার আগে থার্মাল স্ক্যানার দ্বারা শারীরিক তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হয়।
হাজীগঞ্জ সার্কেল অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ৩৭৮ ধান কাটার শ্রমিক পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে নীলফামারী জেলায় ১৯৮ জন, নেত্রকোনা জেলায় ৯৪ জন, নোয়াখালী জেলায় ১৫ জন, পঞ্চগড় জেলায় ৩৬ জন, নওগাঁ জেলায় ১০ জন, রাজশাহী জেলায় ৮, সাতক্ষীরা জেলায় ৯ ও রংপুর জেলায় ৮ জন শ্রমিক পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে শাহরাস্তি থানা পুলিশের ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বেশি শ্রমিক পাঠানো হয়েছে। এ থানা থেকে ২২৩ জন, হাজীগঞ্জ থেকে ১৩১ জন ও ফরিদগঞ্জ থেকে ২৪ জন ধান কাটার শ্রমিক বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।
শাহরাস্তি থানার ব্যবস্থাপনায় ২২৩ জন শ্রমিকের মধ্যে ১০ মে নীলফামারী জেলায় ২৫ জন ও রংপুর জেলায় ৮ জন, ৭ মে নীলফামারী জেলায় ৩০ জন ও সাতক্ষীরা জেলায় ৯ জন, ৬ মে নেত্রকোনা জেলায় ৪৬ জন, ১ মে নীলফামারী জেলায় ৮ জন ও নেত্রকোনা জেলায় ২৬ জন, ৩০ এপ্রিল নোয়াখালী জেলায় ১৫ জন, ২৭ এপ্রিল নীলফামারী জেলায় ২৯ জন ও ২৫ এপ্রিল নীলফামারী জেলায় ২৭ জন শ্রমিক পাঠানো হয়।
হাজীগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থাপনায় ১৩১ জন শ্রমিকের মধ্যে ১০ মে নেত্রকোনা জেলায় ২২ জন, ৫ মে নীলফামারী জেলায় ৪১ জন, ২৮ এপ্রিল নেত্রকোনায় ২২ জন ও নওগাঁও জেলায় ১০ জন এবং ২৩ এপ্রিল পঞ্চগড় জেলায় ৩৬ জন শ্রমিক পাঠানো হয়। এছাড়া ফরিদগঞ্জ পুলিশের ব্যবস্থাপনায় ২৪ জন ধান কাটার শ্রমিক পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩ মে নীলফামারী জেলায় ১৬ জন ও ২ মে রাজশাহী জেলায় ৮ জন শ্রমিক পাঠানো হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মো. আফজাল হোসেন আরো জানান, করোনা পরিস্থিতিতে দেশের উত্তরাঞ্চলে শ্রমিক সংকটে ইরি-বোরো পাকা ধান কাটতে পারছে না কৃষকরা। তাই পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমানের নির্দেশে চাঁদপুর পুলিশের ব্যবস্থাপনায় আমরা হাজীগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশ, শাহরাস্তি ও ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। এ পর্যন্ত ৮ জেলায় ৩৭৮ জন শ্রমিক পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, স্ব-স্ব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহযোগিতায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং যাওয়ার আগে থার্মাল স্ক্যানার দ্বারা তাদের শারীরিক তাপমাত্রা পরীক্ষা করে পাঠানো হয়েছে।
আর এসব কাজে তাকে সহযোগিতা করেছেন হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন রনি, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর তালুকদার আলম মামুন, শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহআলম ও ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রকিবসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা এবং পুলিশ কনস্টেবলরা।

১১ মে, ২০২০।