ইল্শেপাড়ে সংবাদ প্রকাশের পর নওহাটা ফাজিল মাদরাসায় যথাযোগ্য মর্যাদায় শোক দিবস পালন
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
দৈনিক ইল্শেপাড়ে সংবাদ প্রকাশের পর হাজীগঞ্জের নওহাটা ফাজিল (¯œাতক) মাদরাসায় আবারো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকালে মাদরাসার শিক্ষক মিলনাতয়নে যথাযোগ্য মর্যাদায় বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহাদাৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট উপজেলাধীন কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের নওহাটা ফাজিল মাদ্রাসায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়। কিন্তু শোক দিবসের ব্যানারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি নেই। এমনকি ব্যানারে জাতির জনকের নামটি পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়নি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না মাদরাসার অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ।
এ ঘটনায় দৈনিক ইল্শেপাড়ে ‘শোক দিবসের ব্যানারে, হাজীগঞ্জে নওহাটা ফাজিল মাদ্রাসায় বঙ্গবন্ধুর নাম ও ছবি না থাকায় সমালোচনার ঝড়’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ জামাল হোসেন মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভা ডাকেন। ওই সভায় পূণরায় এবং যথাযোগ্য মর্যাদায় শোক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
যার ফলে গতকাল বুধবার যথাযোগ্য মর্যাদায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, চিত্রাংকন, ৭ই মার্চের ভাষণ ও রচনা প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ এবং দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ জামাল হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে। আর বঙ্গবন্ধুকে জানতে হলে, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বইগুলো পড়তে হবে। যত বেশি পড়বে, তত বেশি জানবে। আর যত বেশি জানবে, তত বেশি বাংলাদেশকে ভালবাসবে। কারণ বঙ্গবন্ধুকে জানলেই ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে ঘটে যাওয়া ইতিহাস এবং স্বাধীন বাংলাদেশের ভূমিকা ও প্রেক্ষাপট জানতে পারবে।
তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে জানলেই আমাদের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের মাঝে তথ্যভিত্তিক সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। তাই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যতগুলো বই রয়েছে, সেগুলো লাইব্রেরিতে সংগ্রহে রেখে শিক্ষার্থীদের পড়ার ব্যবস্থা করতে হবে এবং ৭ মার্চ, ২৬ শে মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরসহ জাতীয় দিবসগুলোতে পত্রিকায় প্রকাশিত ক্রোড়পত্র পড়তে হবে। এসব দিবসের সাথে বাংলাদেশের অস্তিত্ব জড়িত।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সূর্ণিমল দেউড়ী, সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন। মাদরাসার পক্ষে বক্তব্য রাখেন পরিচালনা পর্ষদের সহ-সভাপতি মো. আলমগীর কবির পাটওয়ারী, অধ্যক্ষ আবু যোফার মো. আবু বকর সিদ্দিক, উপাধ্যক্ষ মাও. নুরুল আমিন, সহকারী অধ্যাপক হযরত আলী, এলাকাবাসীর পক্ষে মুক্তিযোদ্ধা মো. শহীদুল্লাহ, শিক্ষার্থীদের পক্ষে মো. সাঈদুর রহমান, মো. রায়হান প্রমুখ।
এর আগে কোরআন তেলাওয়াত করেন শিক্ষার্থী মো. সাঈদুর রহমান, নাতে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শিক্ষার্থী মো. নাজমুল হাসান এবং হামদ পরিবেশন করেন শিক্ষার্থী মো. মাকসুদ, বঙ্গবন্ধুর উপর কবিতা আবৃত্তি করেন শিক্ষার্থী মো. রায়হান ও আরিশা জাহান, ৭ই মার্চের ভাষণ পরিবেশন করেন শিক্ষার্থী সানজিদ আলম তক্বি।
সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হাই মজুমদার ও শিক্ষক মো. শাহ আলম প্রধানীয়ার যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অতিথিদের বক্তব্য শেষে বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টে নিহত সব শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন সহকারী মৌলভী মাও. আবু বকর। এরপর প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এসময় পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
২৯ আগস্ট, ২০১৯।