
হাজীগঞ্জ ব্যুরো
হাজীগঞ্জে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে, তাৎক্ষণিক সেবা পেয়ে জোরপূর্বক সম্পত্তি দখল প্রতিরোধ করলেন আসমা বেগম (৩৫) নামের এক গৃহীনি। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে পৌরসভাধীন ৪নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আসমা বেগম ওই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী।
এ দিন ভোরে আজাদ হোসেন গং (৫৭) প্রায় ২০-৩০ জন লোক নিয়ে সিরাজুল ইসলামের দখলকৃত ভূমির টিনের বেড়া ভেঙ্গে নতুন ঘর তোলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন আসমা বেগম। প্রথমে তিনি বাঁধা দেন। কিন্তু তারা বাঁধা না মানায় তিনি জাতীয় জরুরি নম্বর ‘৯৯৯’ এ ফোন দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন এবং আজাদ ও আমার স্বামী সিরাজুল ইসলামকে থানায় নিয়ে আসেন।
আসমা বেগম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার পর প্রায় ২০-৩০ জন লোক এসে হামলা করে। তাদের বাঁধা দিলে, তারা ঘরে থাকা নারীদের মারধর এবং ঘরের মালামাল ভাঙচুর ও স্টিলের আলমারি খুলে নগদ ৪ লাখ টাকা এবং ৬ ভরি স্বর্ণ নিয়ে যায়। হামলাকারীদের মারধরে তিনি আহত হন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ বিষয়ে আইনের আশ্রয় নিবেন বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে থানায় সিরাজুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আজাদ ২০-৩০ জন লোক নিয়ে আমার দখলকৃত সম্পত্তির টিনের বেড়া ভেঙ্গে ঘর তোলার চেষ্টা করে। এর মদদদাতা হলেন, আব্দুল কাদের ও বিল্লাল। তারা দীর্ঘদিন ধরে এই সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছে। এজন্য আমি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আবেদন (নং- ৭৬৬/২০১৯) করি। আদালত গত ৪ আগস্ট ঐ নালিশী ভূমিতে স্থিতাবস্থা বজায়সহ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশন প্রদান করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আব্দুল কাদেরের সাথে আমার ব্যবসায়িক লেনদেন ছিলো। আমি তার কাছ থেকে ২২ লাখ টাকা পাই। সে ১৮ লাখ টাকা স্বীকার করে। এ বিষয়ে পৌরসভা, ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে বেশ কয়েকটি সালিসি বৈঠক হয়েছে। এরপর থেকেই আব্দুল কাদের গং লোকজন নিয়ে আমার দখলকৃত সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা চালায়।
একই বিষয়ে থানায় আজাদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এখানে আমার সম্পত্তি রয়েছে। তাই আমি আমার সম্পত্তিতে কাঠ-মিস্ত্রি নিয়ে ঘর নির্মাণ করতে গিয়েছে। তারা পুলিশকে খবর দিয়েছে। পুলিশ এসে আমাকে এবং সিরাজকে থানায় নিয়ে এসেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারাই (সিরাজুল ইসলামের পরিবার) তাদের ঘর ভাংচুর করে।
এ বিষয়ে আব্দুল কাদের জানান, সিরাজুল ইসলাম টাকা পাবে তো দূরের কথা, তার সাথে আমার কোন লেনদেন নেই। বরং আমি তার কাছ থেকে সাড়ে চার শতাংশ সম্পত্তি পাই। যার মূল্য ২২ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। এই ২২ লাখ টাকা পরিশোধ না করে, সিরাজুল ইসলাম তালবাহানা করে আসছে এবং বিভিন্নভাবে আমার নামে প্রপাকান্ডা ছড়াচ্ছে। যার ফলে আমি তার বিরুদ্ধে, পৌরসভা, ব্যবসায়ী সমিতির এবং সর্বশেষ থানায় লিখিত অভিযোগ করি।
তিনি বলেন, পৌরসভা এবং ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ের বৈঠকে আমার বিরুদ্ধে ছড়ানো একটি প্রপাকান্ডারও প্রমাণ দিতে পারেনি সিরাজুল ইসলাম। অথচ সে আদালতে স্থিতাবস্থা চেয়েছে, যা আমি আইনীভাবে জবাব দিচ্ছি। আজকের ঘটনায় (মঙ্গলবার) আমি বা আমার পরিবারের কোন লোকজন সেখানে ছিলেন না। আজও সিরাজুল ইসলাম আমার নামে মিথ্যে প্রপাকান্ডা ছড়াচ্ছে।
বিল্লাল হোসেন বলেন, আমরা চারজন মিলে সম্পত্তি ক্রয় করি। অথচ সিরাজুল ইসলাম আমাদের সম্পত্তি বুঝিয়ে না দিয়ে, আদালতে স্থিতাবস্থা চেয়েছে। আমি ও আব্দুল কাদের আইনীভাবে তার জবাব দিচ্ছি। এর সাথে আজাদ নেই। তাই আজ (মঙ্গলবার) আজাদ তার পাওনা সম্পত্তিতে ঘর তুলতে যায়। এতে সিরাজ ও তার পরিবার বাঁধা দেয়।
থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন রনি বলেন, ৯৯৯ নম্বরের ফোন পেয়ে থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মেদ বেলাল হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাগ্রহণ করে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
০৯ অক্টোবর, ২০১৯।
