চাঁদপুরে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন কর্মশালা

মা ও শিশু মৃত্যুরোধে সেবার মান আরো বাড়াতে হবে
…………… স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন
শাহ আলম খান
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন বলেছেন, আমাদের দেশে শিশুর মৃত্যুর হার অনেক কমেছে। আরো কমাতে হবে। একই সাথে মা-মৃত্যুর হারও কমাতে হবে। জনগণকে আমাদের স্বাস্থ্য সেবা সম্পর্কে উৎসাহ প্রদান করতে হবে। যাতে করে সরকারের এই সেবার জন্য মানুষ বেশি আগ্রহী হয়। তাহলেই আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে শহরের এলিট চাইনিজ রেস্টুরেন্টে দিনব্যাপী ‘পরিচালকদের জন্য দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষমতা মূল্যায়নে কর্মীদের তথ্য সম্পর্কিত বিষয়ক’ জেলা পর্যায়ের কর্মশালায় টেলিকনফারেন্সে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী চাঁদপুর জেলার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, জেলায় কার্যক্রম ভাল রয়েছে। সেবামূলক কাজের মান ঠিক রেখে অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আখম মহিউল ইসলাম বলেন, পরিবার পরিকল্পনার ক্লিনিকগুলোতে ডেলিভারি মানসম্মত সেবা দেয়া হয়। এই সেবা নেয়ার জন্য জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। আমরা চাই না নবজাতক বাসায় ডেলিভারি হোক। কারণ এই পদ্ধতিতে ভয়াবহতাই বেশি থাকে। বাসায় ডেলিভারি হলে যে ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়, এসব বিষয়গুলো আমাদের জানাতে হবে। কোনো রোগী যেন সেবা নিতে এসে খালি হাতে না ফিরে।
তিনি আরো বলেন, এ ধরনের কর্মশালায় যে ধরনের পরামর্শ আসবে সেগুলোকে গুরুত্ব সহকারে সঠিকভাবে পালন করতে হবে। আমরা এসব বিষয়ে যতই সভা কিংবা কর্মশালা হয়, পালন না করলে কোন লাভ হবে না। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত সারাদেশে ৫৭৬টি ভবন পুনঃসংস্কার করার জন্য জরুরিভিত্তিতে উদ্যোগ নেয়া হয়ছে। নতুন অবকাঠামগত উন্নয়ন হলে ক্লিনিকে ডেলিভারি ও অপারেশন থিয়েটারগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত থাকবে। এছাড়া কাজের সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি দেয়া হবে এবং ক্লিনিকের জন্য নিরাপত্তা কর্মীর ব্যবস্থা করা হবে।
অতিরিক্ত সচিব বলেন, মা ও শিশু স্বাস্থ্য ক্লিনিকে যেসব গর্ভবতী মা সেবা নিতে আসেন, ওইসব মা, চিকিৎসক, নার্স ও রোগীকে নিয়ে আসা মাধ্যম ব্যক্তিদের সম্মানি দেয়ার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। যাতে করে তারা সরকারি এইসব প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা নিতে আগ্রহী হন। চাঁদপুরের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ যোগ্য নেতৃত্বে ভাল মানের কাজ করে যাচ্ছে। এই জেলায় যেভাবে উৎসাহ-উদ্দীপনার মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। ঝিমিয়ে পড়লে চলবে না। যারা ভাল কাজ করবে, তিনি যে ধরনের কর্মকর্তাই হোক তাদের অভিজ্ঞাতার জন্য বিদেশ ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমানে সারাদেশে লক্ষাধিক ডেলিভারি হয় মা ও শিশু স্বাস্থ্য ক্লিনিকে। আগামিতে এই কার্যক্রম উন্নতি করা হবে। ১০ লাখ মাকে আমাদের ক্লিনিকগুলোতে ডেলিভারি করার লক্ষ্য নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। কাজের ক্ষেত্রে আমরা একে অপরকে সহযোগিতা ও বিশ^াস করতে হবে। পেশাগত কাজে সততা ও দেশপ্রেম অবশ্যই থাকতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান বলেন, আমাদের দায়িত্ব ঠিকমত পালন করতে হবে। নিজের পদ ছাড়াও অন্যের পদেরও কাজ করা যায়। আন্তরিকভাবে সবাই মিলে সেবার কাজগুলো করতে হবে। এ ধরনের কার্যক্রমের পাশে জেলা প্রশাসন সব সময়ই থাকব। চাঁদপুরের মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন জেলা প্রশাসক।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক এবং লাইন ডিরেক্টর (এমসিআরএএইচ) ডা. মোহাম্মদ শরীফের সভাপতিত্বে এবং চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. এমএ গফুর মিয়ার পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. মো. ইলিয়াছ।
প্রশিক্ষণ প্রদান করেন প্রশিক্ষক প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. এবিএম শামছুদ্দিন আহমেদ এবং ডুকুমেন্টারি প্রদর্শন করেন ন্যাশনাল কনসালটেন্ট ডা. রোকসান নানজিন।
কর্মশালায় চাঁদপুর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আওতাধীন ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।