কনকনে শীতে কষ্টে পাচ্ছে চাঁদপুরবাসী

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকৃতির দরজায় কড়া নাড়ছে শীত। চাঁদপুরে হঠাৎ করে কনকনে ঠান্ডা বাতাস বাড়িয়ে দিয়েছে শীতের তীব্রতা। হঠাৎ ঠান্ডা হাওয়ায় ও শীতে দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। বাংলা মাস পৌষের শুরু থেকেই সারা চাঁদপুরে বইছে শীতল হাওয়া। কনকনে ঠান্ডায় দৈনন্দিন কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যেতে হবে সবাইকে। ভোরের আকাশে যেন শীতের দেখা মিলছে। শীত অনেকের প্রিয় ঋতু হলেও এই সময়ই শরীরের ত্বকের বেশি ক্ষতি করে। সুতরাং শীত পুরোপুরি না আসতেই ঠান্ডার দিনগুলোকে কীভাবে মোকাবিলা করবেন সে ব্যাপারে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন চাঁদপুরের লোকজন। এতদিন যারা হালকা বা পাতলা কাপড় গায়ে জড়িয়ে বের হতেন তারা এখন শীতের ভারী কাপড় পড়ে বের হন। সকালে ঘাসের ডগায় আর বৃক্ষরাজির পাতায় পাতায় জমে থাকা শিশির বিন্দু জানান দিচ্ছে শীতের বার্তা।
কয়েকদিন ধরে চলা শৈত্যপ্রবাহ কেটে গেলেও ঠান্ডার দাপট রয়ে গেছে। ফলে প্রচন্ড শীতে কাবু হয়ে পড়েছে চাঁদপুরের চরাঞ্চল, নদী উপকূলীয় এলাকাসহ ৮ উপজেলার শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ। সকাল থেকে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ আর ঠান্ডা বাতাসে হিমশিম খেতে হচ্ছে জেলাবাসীকে। শীতের প্রকোপ বাড়ার কারণে গত কয়েকদিন চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে শ্বাসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বহু শিশু ভর্তি হয়েছে।
শীতকে সামনে রেখে অনেকেই যারা পুরনো শীত বস্ত্র তুলে রেখেছেন সেগুলো বের করে ফেলেছেন। শীতের এ মাসগুলো যেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিম্নআয়ের মানুষের কাছে কবির সেই কবিতার লাইনটির মত ‘কারো পৌষ মাস, কারো বা সর্বনাশ’ অভিশাপ হয়েই দেখা দেয়। অপরদিকে শীতের আগমনে বিত্তবানরা ছুটছেন শহরের নামী-দামী বিপণী বিতান ও কাপড়ের মার্কেটগুলোতে।
তবে শীত যে পর্যায়েই থাকুক না কেন, শীত মোকাবেলা করার জন্য ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে প্রস্তুতি। বাজারে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত বিপণী বিতানগুলোয়। বেচাকেনাও জমে ওঠেছে।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দোকানগুলোতে প্রতিদিনই বিক্রি হচ্ছে শীতের কাপড়। দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে উলের তৈরি সুয়েটার, ব্লেজার, টুপি, কাপড়ের জুতো, কেটস, জ্যাকেট, ট্রাউজার, গরম কাপড়ের তৈরি প্যান্ট, চাদরসহ নানা আইটেমের গরম কাপড়।
গতকাল রোববার চাঁদপুর রেলওয়ে হকার্স মার্কেটে শীতের কাপড় কিনতে আসা লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর এলাকার মিশলা ইয়াসমিন মুনিয়া ও ফারজানা ববি তার আত্মীয়-স্বজনদের জন্য শীতের কাপড় দেখছিলেন। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় তাদের কেনাকাটায় বেগ পোহাতে হয়।
এদিকে চাঁদপুর শহরের প্রেসক্লাব ঘাট ও ১০নং চৌধুরী ঘাটস্থ বেদে পল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, বেদে পরিবারের শিশু, বৃদ্ধ, নারী, পুরুষরা শীতের কাপড়ের অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন। শীতের হিমেল হাওয়া থেকে রক্ষা পেতে কারো-কারো গায়ে পুরান শীতের পোষাক থাকলেও অনেকের গায়ে দেখা গেছে তেমন কোনো ভালো কাপড় নেই। তবে বেদে পরিবারের শিশুদের চেয়ে শীতে বেশি কষ্ট ভোগ করছেন বয়বৃদ্ধরা। তাদের এই শীত কাটানোর জন্য শীতের পোষাক দেয়ার জন্য তেমন কেউই এগিয়ে আসেননি বলে জানা গেছে। তবে কয়েকজন বেদে জানিয়েছেন, কয়েকদিন আগে একটি সংস্থার লোকজন এসে প্রেসক্লাব ঘাটে গিয়ে তাদের ডেকে কয়েকটি কম্বল দিয়েছেন। কিন্তু সরকারিভাবে প্রশাসন থেকে এখনো কোন প্রকার সাহায্য-সহযোগিতা তারা পাননি বলে জানিয়েছেন দুই বেদে পল্লীর সর্দার আব্দুল মালেক বেপারী।
হাইমচর উপজেলা প্রতিনিধি জানান, হাইমচরে নদী উপকূলীয় এলাকায় শীতের তীব্রতা বেশি। এই এলাকার মানুষ জরুরি কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না। মেঘনা নদীতে জেলেদের সংখ্যাও খবুই কম। হাইমচরে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শীতার্ত মানুষের পাশে শীতবস্ত্র নিয়ে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। সরকারি কম্বলও বিতরণ করেছেন একাধিক জনপ্রতিনিধি।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি জানান, সকাল থেকেই সূর্য না উঠায় জনজীবন অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। শীতের কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যহত হচ্ছে। বিশেষ করে দিন মজুর ও দৈনিক হাজিরার শ্রমিকদের বেকায়দায় পড়তে হয়েছে। শীতের কারণে অনেকেই কৃষি জমিতে কাজ করতে পারছে না।
হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি জানান, গত দু’দিনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বস্তি ও ছিন্নমূল পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করেছেন।
চাঁদপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে চাঁদপুরের তাপমাত্রা ছিলো ১২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিকেলে আরো কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়া অফিস জানায়। তবে শৈত্যপ্রবাহ কেটে গেছে। শীতের তীব্রতা আরো বেশ কয়েকদিন থাকতে পারে।