মতলব উত্তরে মহসিন জামিন পেয়ে ফের বেপরোয়া

১৩ মামলা ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি

মনিরুল ইসলাম মনির
মতলব উত্তরকে আবারও অশান্ত করার মহাপরিকল্পনা করছে একাধিক মামলার আসামি মহসীন। মহসিন দেওয়ান ছেংগারচর পৌরসভার আদুরভিটি গ্রামের ফজলুল হক দেওয়ানের ছেলে।
ইতোমধ্যে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে এসে নিজ এলাকায় (বর্তমানে বসবাসরত সরদারকান্দিতে) ফের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও তাদের দলকে সংঘটিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আগের সাম্রাজ্য ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে মহসীন। মহসীনকেই মতলবের চোরাই মোটরসাইকেল আমদানীকারকের অঘোষিত জনক বলা হয়।
জানা যায়, ২০১৯ সালের ৫ এপ্রিল ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত ওই সময় এই দুর্বৃত্তকে অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পরিদর্শক (তদন্ত) মুরশেদুল আলম ভূঁইয়া, এসআই জসিম, এএসআই আবু হানিফ, এএসআই আনিসুর রহমান চৌধুরী ও ফোর্স সহযোগে মতলব উত্তর থানা পুলিশের টিম গোপনসংবাদের ভিত্তিতে সরদারকান্দি গ্রামে থেকে আটক করতে সক্ষম হয়। তার বিরুদ্ধে সিলেট, ঢাকা মহানগর ও চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ছিনতাই, দস্যুতা, খুন, মাদক ও পুলিশ এ্যাসল্ট মামলা রয়েছে বলে জানান পুলিশ।
সিডিএমএস রেকর্ড অনুযায়ী- শাহপরান থানার জি আর ৫০/১৯, ধারা- দ্রুত বিচার আইনের ৪/৫; এসএমপি কোতয়ালী জিআর ৮৭/১১, ধারা- দ্রুত বিচার আইনের ৪/৫; দক্ষিণ সুরমা জি আার ৫৭/০৯, ধারা- ৩৪১/৩৭৯/৩২৩ পিসি; ওসমানী নগর জি আর ৩৯/১৯, ধারা: ১৪৩/ ৩৩২/ ৩৩৩/৩০৭/৩৫৩/১৮৬; এসএমপি এয়ারপোর্টে থানার জি আর ১৫৭/১৬, ধারা: ৩৯৯/৪০২ পিসি ও জৈন্তাপুর থানার মামলা ০২(০৮)০৯ ধারা দ্রুত বিচার ৪/৫।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা: (৪টি): সাজা পরোয়ানা: মোগলাবাজার সিলেট, জিআর ৬/১৩, দ্রুত বিচার ৪, (সাজা ৪ বছর ১ মাস); শাহপরান থানা জি আর ১২৩/১২, ধারা-৩৯৪/৩০২/৩৪; জিআর ৯০১/১১, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন। জি আর ধারা- ৩৯৪/৪১১ ও চাঁদপুর সদর জি আর ৩৬৬/১৬ ধারা-৩৯২।
ডিবি সূত্র জানায়, তিন ভাই মহসিন, পারভেজ ও আল আমিনের বাড়ি মতলবে। বড় ভাই মহসিন সিলেটে থাকে। কলার ব্যবসার পাশাপাশি ছিনতাইয়ে হাত পাকায়। ২০১৩ সালে একবার ধরা পড়ে সিলেটের বিশ্বনাথ থানায়। সেখানেই পরিচয় হয় বিশেষ আনসার সদস্য সারজুলের সঙ্গে। ছিনতাই করে ধরা পড়ার পর দুইজনের সখ্য গড়ে ওঠে। ধীরে ধীরে অপর দুই ভাই পারভেজ ও আল আমিনও জড়িয়ে যায় ছিনতাই কাজে। এরপর এই তিন ভাই ঢাকা ছাড়াও সিলেট, চাঁদপুর, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই কাজ করে আসছে।
ওই চক্রটিকে গ্রেপ্তার অভিযানে থাকা ডিবি-উত্তর বিভাগের এডিসি বদরুজ্জামান জিল্লু বলেন, তিন ভাই মিলে ছিনতাইয়ের জন্য রীতিমতো গ্রুপ গঠন করে ফেলেছে। অপরাধ জগতে এই গ্রুপটি ‘ভাই-ব্রাদার’ গ্রুপ হিসেবে চিহ্নিত। তবে এই চক্রের গুরু সারজুল ওরফে বাদশা। তারা সাধারণত খুব ভোরে এবং মধ্যরাতে ফাঁকা সড়কে ছিনতাই করে থাকে। মোটরসাইকেল ব্যবহার করে রিকশা যাত্রীর ব্যাগ টান দেয়। কখনও অস্ত্র ঠেকিয়ে সব কেড়ে নেয়। পাশাপাশি তারা মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ইয়াবার ব্যবসাও করে থাকে। গ্রেপ্তারের সময়ে তাদের কাছ থেকে দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, ইয়াবা ও ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত দু’টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
০৩ নভেম্বর, ২০২০।