মতলব উত্তরে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন

মনিরুল ইসলাম মনির

Exif_JPEG_420

১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নিজের জীবন বাজি রেখে দেশ ও জাতির জন্য যারা যুদ্ধ করেছিল তাদের মধ্যে একজন নূর ইসলাম। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি ভারত থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে নেমে পড়েন। বেশ কয়েকবার তিনি খণ্ড যুদ্ধে পাক-হানাদার বাহিনীর সাথে গোলাগুলি করেন এবং অল্পের জন্য রক্ষা পান।
মুক্তিযোদ্ধা নূর ইসলামের বাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের পাহাড়ের চক গ্রামে। তিনি ১৯৯৩ সালের ২ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে ও ৪ মেয়ে রেখে যান। বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা নূর ইসলামের স্ত্রী ও সন্তানরা মানবেতর জীবনযাপন করছে।
স্ত্রী মরিয়ম বেগম বলেন, আমার ২ ছেলে আল-আমীন ও জুয়েল। একজন রিক্সা চালায় ও অন্যজন অটো চালায়। ৪ মেয়ে আছে। তাদের খুব কষ্ট করে বিয়ে দিয়েছি। এক মেয়ে লিলি কোন রকম চলতে পাড়লেও বাকি ৩ মেয়ের অবস্থা খুবই করুণ। রিনা ও মিনা বিধবা। তারা মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করে। তাছলিমার স্বামী বাসের হেলপার। তারাও মানবেতর জীবনযাপন করছে। আমার স্বামীর মাত্র ২ শতাংশ জমি আছে। এখানেই ছোট ছেলে জুয়েল, তার স্ত্রী, সন্তান ও আমি একটি দোচালা ঘরে থাকি। জুয়েল ঋণ নিয়ে একটা অটো কিনছে। যা উপার্জন করে তা থেকে কিস্তি পরিশোধ করে যা থাকে তা দিয়ে কোনরকম খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাই।
বড় ছেলে আল-আমীন ঢাকায় রিক্সা চালায়। তার স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে স্বল্প আয়ে খুব কষ্টে আছে। বাড়িতে জায়গা ও ঘর না থাকায় সে বাড়িতে আসতে পারে না।
মতলব উত্তর উপজেলা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের জন্য আবাসন প্রকল্প বা ঘর নির্মাণের জন্য আবেদন করে। কিন্তু আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেও মেলেনি কাক্সিক্ষত আবাসন।
মরিয়ম বেগম আরও বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী হিসেবে নিজেকে ধন্য ও গর্ববোধ করি। কিন্তু যেভাবে মানবেতর জীবনজাপন করছি তাতে নিজেকে বড় অসহায় মনে হয়। তাই সরকারের কাছে আমার আবেদন, যদি আমারে একটা ঘর দিত তাহলে পরিবারের সবাইকে নিয়ে এক সাথে থাকতে পারতাম।
১১ নভেম্বর, ২০২০।