মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা

মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের মনের গভীর বেঁচে থাকবে সারা জীবন
……….পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান
শাহ্ আলম খান
মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় চাঁদপুর পুলিশ লাইনস্রে ড্রিল সেডে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা কখনও মারা যায় না এবং মারা যাবেও না। তারা আমাদের মনের গভীরে সারা জীবন বেঁচে থাকবে। সম্মাননা অনুষ্ঠানে এসে শুধু অনুভূতি শুনলেই হবে না, তা বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চাঁদপুর জেলার পক্ষ থেকে আমি একটি পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম গেজেটভুক্তকরণের প্রক্রিয়া সহজীকরণের একটি সেল তৈরি করতে চাচ্ছি। এ সেলের প্রধান দায়িত্বে সেই-ই হবে, যার পরিবারের অন্তত একজন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে বা থাকবে। যদি আমি এটি তৈরি করতে পারি তাহলে আমি মনে করব, পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সঠিক সম্মান করতে পেরেছি। কারণ ব্যাথা সে বুঝে যে সাপের কামড় খেয়েছে। তাহলেই তিনি বুঝতে পারবেন পুলিশ মুক্তিযোদ্ধা গেজেটভুক্ত না হতে পারলে কতটা কষ্ট অনুভব করেন। আমি অন্তত একজনকে যদি গ্যাজেটভুক্ত করতে পারি তাহলে আল্লাহর কাছে জবাব দিতে পারবো। মন-মানসিকতা পরিবর্তন করতে পারলেই অনুষ্ঠান স্বার্থক হবে। স্বাধীনতা অর্জনের থেকে স্বাধীনতা রক্ষা করা অনেক কঠিন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্নিগ্ধা সরকারের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) কাজী আবদুর রহিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মো. আফজাল হোসেন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিলন, সাধারণ সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্লাহ, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহ আমল বকাউল।
সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত এএসআই আমির হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত এএসআই মো. ইউসুফ আলী, অবসরপ্রাপ্ত এএসআই রুহুল আমিনের মেয়ে রেবেকা সুলতানা, অবসরপ্রাপ্ত এএসআই আব্দুল মান্নান, অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল তোফাজ্জল হোসেন, মৃত এএসআই মোহন বাঁশির ছেলে অজিত দত্ত, মৃত পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল মোতালেবের ছেলে মো. বাবুল, মৃত এএসআই শহিদুল্লার মেয়ে ডলি বেগম, মৃত এএসআই আব্দুল বারেকের ছেলে জিয়াউর রহমান, মৃত কনস্টেবল শফিকুল ইসলামের স্ত্রী মিলন বেগম, মৃত কনস্টেবল আব্দুল করিমের পক্ষে শাহানাজ পারভিন, কনস্টেবল সেকান্দর আলীর ছেলে ফরহাদ আহমেদ ও আব্দুল মোতালেব প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে ৫৯ জনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন পুলিশ লাইনস্ জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাও. মোহাম্মদ আব্দুস সালাম এবং পবিত্র গিতা পাঠ করেন পার্থনাথ দাস।
উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) আবুল কালাম আজাদ চৌধুরী, সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাসিম উদ্দিন, পরিদর্শক (তদন্ত) হারুন আর রশিদ, জেলার বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সহ পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে কয়েকজন পুলিশ মুক্তিযোদ্ধা সদস্য এখনো গেজেটভুক্ত হতে না পারায় ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, জীবিত পুলিশ মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যারা ক্রেস্ট ও উপহার নিয়েছেন তারা হলেন- চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী, কচুয়া উপজেলার রহিমানগর-সকতবাড়ীয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি মো. মাসুদুল হক, মতলব উত্তর উপজেলা হাশিমপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি মো. সফিকুর রহমান, মতলব দক্ষিণ উপজেলার বহরী আড়ং গ্রামের মো. শাহ আলম বকাউল, চাঁদপুর সদর উপজেলার সাহেব বাজারের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল মো. শাহজাহান মিয়া, হাইমচর উপজেলার পশ্চিম চর-কৃষ্ণপুর এলাকার অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল মো. সেকান্দর আলী, মতলব দক্ষিণে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল মো. নাছির উদ্দিন তালুকদার, মতলব উত্তরে পুলিশ কনস্টেবল অবসরপ্রাপ্ত তোফাজ্জল হোসেন, হাজিগঞ্জ উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল মো. হাবিবুর রহমান, হাজিগঞ্জ উপজেলার রাজাপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল জহিরুল ইসলাম, শাহরাস্তি উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল মো. আবুল খায়ের, কচুয়া উপজেলা ফতেবাপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল আব্দুর রশিদ, ফরিদগঞ্জ উপজেলার ষোলদানা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল মো. জহিরুল হক ভূইয়া, কচুয়া উপজেলার নয়াকান্দি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত নায়ক (ব্যাটালিয়ন পুলিশ) চারু মিয়া, শাহারাস্তি উপজেলার খেড়িহর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান সহকারী আলী আহমেদ ভূঁইয়া, কচুয়া উপজেলার বারইয়ারা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত এএসআই (সশস্ত্র) আব্দুল মান্নান, হাইমচর উপজেলার চর শোলাদী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত এসআই (সশস্ত্র) মো. রুহুল আমিন মোল্লা, হাইমচর উপজেলার কমলাপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত এসআই (সশস্ত্র) মো. শহীদুল্লাহ রাঢ়ী, ফরিদগঞ্জ উপজেলার কাশারা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত এসআই (সশস্ত্র) মো. ইউসুফ আলী, হাজিগঞ্জ উপজেলার খান সুহিলপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত এসআই (সশস্ত্র) হাবিবুল্লাহ, শাহরাস্তি উপজেলা শুয়াপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত এসআই মো. আমির হোসেন ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা খাড়খাদিয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক (সশস্ত্র) মো. রহমতউল্লাহ।
মৃত শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে ক্রেস্ট ও উপহার সংগ্রহ করেন- ফরিদগঞ্জ উপজেলা ভোলাচৌ গ্রামের মৃত পুলিশ কনস্টেবল ফরিদ উদ্দিনের পক্ষে তার ছেলে মো. নুরুল ইসলাম, ডোমরা গ্রামের মৃত পুলিশ কনস্টেবল আ. মান্নানের ছেলে তাজুল ইসলাম, শেকদি গ্রামের মুন্সি বাড়ির মৃত পুলিশ কনস্টেবল মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে আবুল বাশার বাদশা, ভূলাচো (সাচনমেঘ) আ. ইদ্রিস মুন্সির নাতি জাহেদ হাসান, সুবিদপুর গ্রামের মৃত পুলিশ কনস্টেবল দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী শামছুন্নাহার লাকী, পশ্চিম গাব্দেরগাঁও গ্রামের মৃত পুলিশ কনস্টেবল মো. খলিলুর রহমান ভূঁইয়ার স্ত্রী আরাফতের নেছা, সাহেবগঞ্জ গ্রামের মৃত পুলিশ কনস্টেবল লিকাস ডি সিলভার ছেলে নুরুল ইসলাম নরেশ, কৃষ্ণপুর গ্রামের (ক্বারী বাড়ি) মৃত পুলিশ কনস্টেবল সিরাজুল হকের ছেলে তাফাজ্জল হোসেন খোকা, মতলব উত্তর উপজেলা পশ্চিম নাউরী গ্রামের মৃত পুলিশ কনস্টেবল আবুল হাশেম বেপারীর ছেলে আব্বাস উদ্দিন, ছেংগারচর ইউনিয়নের মৃত পুলিশ কনস্টেবল আব্দুল মান্নান মিয়াজীর ছেলে নুর মোহাম্মদ মিয়াজী, বেলতলী বাজারের হাপানিয়া ভূঁইয়া বাড়ির মৃত পুলিশ কনস্টেবল আ. করিম ভূঁইয়ার মেয়ে শাহানাজ পারভীন, ষাটনল ইউনিয়নের সুগন্ধি গ্রামের (প্রধান বাড়ি) মৃত পুলিশ কনস্টেবল (বর্তমান পদবী সুবেদার মেজর সেনাবাহিনী) শামছুল হকের স্ত্রী মাজিদা বেগম, আদুরভিটি গ্রামের মৃত পুলিশ কনস্টেবল মো. সাগরের ভাই মো. হযরত আলী ডালী, হাজীগঞ্জ উপজেলার অলিপুর গ্রামের মৃত পুলিশ কনস্টেবল আব্দুর রবের স্ত্রী সাফিয়া বেগম, কংগাইশ গ্রামের মৃত পুলিশ কনস্টেবল আবদুল মুমিনের ভাতিজা হাজি আবদুর রশিদ, শাহরাস্তি উপজেলার রাড়া গ্রামের মৃত পুলিশ কনস্টেবল নুরুল ইসলামের স্ত্রী আকলিমা খাতুন, কচুয়া উপজেলার মাঝিগাছা গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী মিলন বেগম, উজানি গ্রামের মৃত পুলিশ কনস্টেবল আইয়ুব আলীর ছেলে ফটিক মিয়া, চাঁদপুর পৌর এলাকার গুয়াখোলা রোডের মৃত পুলিশের হাবিলদার মোহন বাঁশি দত্তের ছেলে অজিত কুমার দত্ত, ফরিদগঞ্জ উপজেলার সবিদপুর গ্রামের বরকান্দাজ বাড়ির মৃত এএসআই আ. লতিফের ছেলে মো. শাহ আলম, মতলব উত্তর উপজেলার বায়েরচর পাঁচানী প্রধানীয়া বাড়ির মৃত এএসআই আ. বারিকের ছেলে মো. জিয়াউর রহমান, ফৈলাকান্দি গ্রামের মৃত এএসআই শহীদুল্লাহ’র মেয়ে ডলি বেগম, হাজীগঞ্জ উপজেলার অলিপুর গ্রামের মৃত এএসআই হাফিজ মিয়ার ছেলে আবুল বাশার কালু, কচুয়া উপজেলার সাকুরা গ্রামের মৃত এএসআই মো. শহীদুল্লাহ’র নাতি তানভীর হোসেন পলাশ, শাহরাস্তি উপজেলার সুরসই গ্রামের মৃত এএসআই মো. নুরুল হক মজুমদারের স্ত্রী রৌশনারা বেগম, সূচীপাড়া গ্রামের মৃত এএসআই মো. আনোয়ার উদ্দিন ভূঁইয়ার মেয়ে চাঁদ সুলতানা, চাঁদপুর সদর উপজেলার তরপুরচন্ডী ইউনিয়নের মৃত এসআই আবুল হোসেন খানের ছেলে রেদোয়ান হোসেন রাব্বী, হাজিগঞ্জ উপজেলার সোনাইমুড়ী গ্রামের মৃত এসআই রশিদ পাটোয়ারীর ছেলে গোলাম মোস্তফা, কচুয়া উপজেলার সাচার ইউনিয়নের মৃত এসআই জালাল উদ্দীন, মাঝিগাছা ইউনিয়নের মৃত এসআই হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. সোহেল মিয়া, কহলথুড়ী গ্রামের মৃত এসআই আবদুল বারীর ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম শাহিন, শাহরাস্তি উপজেলার নরিংপুর ইউনিয়নের মৃত পুলিশ পরিদর্শক মো. আলী আরশাদ ভূঁইয়ার স্ত্রী কুলসুমা আক্তার, চাঁদপুর সদর উপজেলার মদনা ইউনিয়নের মৃত পুলিশ পরিদর্শক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর মেয়ে নাফিসা নূর-ই-সাবা চৌধুরী, ফরিদগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের মৃত পুলিশ পরিদর্শক আ. মোতালেবের স্ত্রী জাহানারা বেগম, হাইমচর উপজেলা পশ্চিম চর কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত পুলিশ পরিদর্শক মো. রেজাউল করিমের মেয়ে, সদর উপজেলার লোধেরগাও গ্রামের মৃত পুলিশ সুপার আবদুল বারী মিয়ার ছেলে রিয়াজ আহমেদ কনক ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার পিংড়া ইউনিয়নের মৃত ডিআইজি বিনয় ভূষণ ঢালীর ভাই কৃষ্ণ পদ ঢালী।
২০ ডিসেম্বর, ২০২০।