চাঁদপুরের ৮ উপজেলায় ১১৫ গৃহ হস্তান্তর

বঙ্গবন্ধু গরিব অসহায় মানুষদের নিয়ে বেশি ভাবতেন
……….প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

শাহ আলম খান
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজ আমার অত্যন্ত আনন্দের দিন। ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও ঘর প্রদান করতে পারা বড় আনন্দের। তিনি শনিবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও ঘর প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
চাঁদপুরের ৮ উপজেলা ১১৫টিসহ দেশের ৪৯২ উপজেলার প্রায় ৭০ হাজার পরিবারকে পাকা ঘর হস্তান্তর করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, গৃহহীন পরিবারকে গৃহ দিতে পারছি, এটি আমার সবচেয়ে আনন্দের। আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানুষের কথাই ভাবতেন। আমাদের পরিবারের লোকদের চেয়ে তিনি গরিব-অসহায় মানুষদের নিয়ে বেশি ভাবতেন এবং কাজ করেছেন। এই গৃহ প্রদান কার্যক্রম তারই শুরু করা।
এ উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত গৃহ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বেগম অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন ঘোষণা দিয়েছিলেন বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না সেদিন আমরা কিন্তু চিন্তাও করতে পারিনি এটি বাস্তবায়ন হবে। কিন্তু তিনি এখন তা বাস্তবায়ন করে দেখাচ্ছেন। সে আলোকে আজ চাঁদপুরে ১১৫টি গৃহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া আজ আরেকটি আশ্রয়ন প্রকল্পে ৪৫টি ঘরসহ ১৬০টি ঘর হস্তান্তর হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, চাঁদপুর জেলা পর্যায় যেমন অনলাইনে গৃহ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়েছে, তেমনি ৮ উপজেলা প্রশাসনও একইভাবে যুক্ত হয়ে উপকারভোগীদের মাঝে দলিল হস্তান্তর করেছেন।
অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর মাথা থেকেই প্রথমে আশ্রয়ন প্রকল্পের বিষয়টি এসেছিলো। তিনি ১৯৭২ সালে ২০ ফেব্রুয়ারি প্রথম তৎকালীন নোয়াখালী ও বর্তমান লক্ষ্মীপুর জেলার চরপোড়াগাছা গ্রাম পরিদর্শনে যান এবং ভূমিহীন-গৃহহীন-অসহায় মানুষের পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রদান করেন। তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একই দিনে প্রায় ৭০ হাজার ঘর হস্তান্তর করলেন।
চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাড. মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর গৃহহীনদের ঘর হস্তান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উচ্চমাত্রায় পৌঁছে যাবে এবং রাষ্ট্রের নাগরিক প্রতি যে দায়িত্ব, তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অসীম চন্দ্র বণিক, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজ, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইমরান হোসাইন সজিব, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশাসহ জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ এবং সাংবাদিকবৃন্দ।
প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর চাঁদপুর জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে বেশ কয়েকজন উপকারভোগীর হাতে কবুলিয়াত রেজিস্ট্রিকৃত দলিল তুলে দেয়া হয়।
২৪ জানুয়ারি, ২০২১।