লকডাউন বাস্তবায়নে চাঁদপুরে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে: অঞ্জনা খান মজলিশ
এস এম সোহেল
চাঁদপুরে এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউনে ৬ দিনে জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৭৮৪টি মামলায় ৬ লাখ ২৭ হাজার ১শ’ ৭০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। লকডাউনে সরকারি বিধি-নিষেধ অমান্য করা এবং ভোক্তা অধিকার আইন লংঘন করে যারা বাইরে বের হয়েছে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মামলা দিয়ে এ অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের নির্দেশনায় চাঁদপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড, আব্দুল করিম পাটওয়ারী সড়ক, শপথ চত্বর, কালীবাড়ির মোড়, কুমিল্লা রোড, পাল বাজার মোড়, সদর হাসপাতাল রোড, কাজী নজরুল সড়ক, নতুন বাজার, ট্রাক রোড, পাওয়ার হাউস রোড, মিশন রোড, স্টেডিয়াম রোড, ওয়ারলেস রোড, বাবুরহাটসহ বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা সদরসহ ৭ উপজেলার ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি), সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের কঠোর অবস্থানে দেখা যায়। শহরে কিছু রিক্সা চললেও সিএনজি, অটোরিক্সা চলতে তেমন একটা দেখা যায়নি।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, লকডাউনের ষষ্ঠ দিন মঙ্গলবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরে কালীবাড়ি শপথ চত্বর এলাকায়, পালবাজার গেট, বাসস্ট্যান্ড, চেয়ারম্যান ঘাট, ওয়ারলেস ও বাবুরহাটসহ বিভিন্ন উপজেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সদর ও ৭ উপজেলার ইউএনও এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)। এসময় যারা লকডাউন অমান্য করে বিনা কারণে বাইরে বের হয়েছেন এবং দোকানপাট খোলা রেখেছেন তাদের বিরুদ্ধে পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১শ’ ২৩ মামলায় ৮২ হাজার ৩শ’ ৫০ টাকা অর্থদন্ড করা হয়েছে।
অপরদিকে লকডাউনের প্রথম দিন গত বৃহস্পতিবার যারা লকডাউন অমান্য করে বিনা কারণে বাইরে বের হয়েছেস এবং দোকানপাট খোলা রেখেছেন তাদের বিরুদ্ধে পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৫৬ মামলায় ৩৯ হাজার ৫০ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
লকডাউনের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার যারা লকডাউন অমান্য করে বিনা কারণে বাইরে বের হয়েছেন এবং দোকানপাট খোলা রেখেছেন তাদের বিরুদ্ধে পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১ শ’ ৩৫ মামলায় ৮৭ হাজার ৫শ’ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
লকডাউনের তৃতীয় দিন শনিবার যারা লকডাউন অমান্য করে বিনা কারণে বাইরে বের হয়েছেন এবং দোকানপাট খোলা রেখেছেন তাদের বিরুদ্ধে পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১শ’ ৬৭ মামলায় ১ লাখ ২৯ হাজার ১শ’ ৫০ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
লকডাউনের চতুর্থ দিন রোববার যারা লকডাউন অমান্য করে বিনা কারণে বাইরে বের হয়েছেন এবং দোকানপাট খোলা রেখেছেন তাদের বিরুদ্ধে পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১শ’ ৬০ মামলায় ১ লাখ ৫৭ হাজার ২শ’ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
লকডাউনের পঞ্চম দিন সোমবার যারা লকডাউন অমান্য করে বিনা কারণে বাইরে বের হয়েছেন এবং দোকানপাট খোলা রেখেছেন তাদের বিরুদ্ধে পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১শ’ ৪৩ মামলায় ১ লাখ ৩১ হাজার ৯শ’ ২০ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
এছাড়া এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউনের ষষ্ঠ দিনেও চাঁদপুর জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী। শহরের লোকজনকে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য মাইকিংসহ প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। জেলায় আশঙ্কাজনক হারে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলায় আক্রান্ত রোগী সংখ্যা বেশি। এ সময় যারা লকডাউন অমান্য করে বিনা কারণে বাইরে বের হয়েছেন তাদের আলাদা-আলাদাভাবে অর্থদণ্ড করা হয়।
চাঁদপুরে কঠোর লকডাউন চলমান পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এই মোবাইল কোর্ট নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজ জানান, জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসারসহ আমরা মাঠে আছি। প্রথমে কয়েকদিনের তুলনায় আজ রিক্সা, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মানুষের আনাগোনা একটু বেশি। তারা কি জন্য বের হয়েছে তা জিজ্ঞাসা করেছি। যদি কেউ অপ্রয়োজনে বের হয়েছে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড দিচ্ছি। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে লকডাউনে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর খায়ের দৈনিক ইল্শেপাড়কে জানান, করোনা পরিস্থিতি ভয়¦হ হওয়ার কারণে লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। সরকার প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে যে নির্দেশনা দিয়েছে, সে নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য মাঠ পর্যায়ে বেসামরিক প্রশাসনের সাথে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষদের ঘরে রাখা ও সরকারের নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করা। নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আমাদের যা-যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার আমরা তাই করবো।
জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেছেন, সারাদেশের মতো চাঁদপুরের লকডাউন বাস্তবায়নে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও ব্যাটালিয়ান আনসার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমরা সব বাহিনী মিলে শহরে টহল দিচ্ছি। চাঁদপুরের জনগণ আইন এবং লকডাউনের যে বিধিনিষেধ আছে তা মোটামুটি মেনে চলছে। তবে কিছু-কিছু ক্ষেত্রে আমরা দু’একটা ব্যত্যয় দেখছি। এসময় তাদের সতর্ক করা হয়েছে এবং সাথে সাথে জরিমানাও করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা চাই সবাই মিলে সমন্বিতভাবে এই লকডাউন সফল করতে। লকডাউন সফল করতে জনপ্রতিনিধিদের সাথে স্থানীয় জনগণদের এগিয়ে আসতে হবে। সবাই মিলে চেষ্টা করলে অবশ্যই এই লকডাউন আমরা সফল করতে পারবো এবং জনগণের স্বাস্থ্যের যে ক্ষতি হচ্ছে তা আমরা কাটিয়ে উঠতে পারবো।
০৭ জুলাই, ২০২১।
