১৩০ বছরেও বয়স্ক ভাতা ও সন্তানের সেবা থেকে বঞ্চিত রহিমা!

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী

স্টাফ রিপোর্টার
শতায়ূ রহিমা বেগম ১৩০ বছরেও বয়স্ক ভাতা ও সন্তানের সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে এখন দিশেহারা জীবনে বিষণ্নতার মধ্যে দিন-রাত কাটাতে হচ্ছে তাকে। অসহায় বৃদ্ধা এ রহিমার জন্য তার পাশে এসে দাঁড়াতে ও তাকে সহায়তার হাত বাড়াতে এলাকাবাসী দেশনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
যার এ বয়সে আল্লাহ্ই একমাত্র ভরসা ও সঙ্গী। তার ৪ সন্তান বেঁচে থেকেও সে সন্তানহারা। একাকি একটি ছোট ঘরের চকিতে শুয়ে বসে বসবাস করতে হচ্ছে রহিমাকে।
তাকে দেখার যেন কেউই নেই। সে এখন যাবে কোথায়, সে বেঁচে থাকার প্রয়োজনে খাবে কি! নিজের স্বামীর দেওয়া সম্পত্তি ১ ছেলে নিয়ে যাওয়ায় সে এখন সবার কাছে ফেলনার পাত্রে পরিণত হয়েছেন তিনি। পরিবারের কেউ এখন তার দিকে ভাল চোখে দেখছে না। যে ছেলে সম্পত্তি নিয়েছে সেও এখন পর হয়ে গেছে। ঠিকমত মায়ের সেবা-যত্ন ও খোঁজ রাখছে না। শতায়ূ রহিমা রোগে-শোকে কাতর হয়ে ঠিকমত দু’মুঠো আহার (খাওয়া) না পেয়ে অতিকষ্টে যার জীবন কাটছে। এত বয়স হলেও যার জীবনে বয়স্ক ভাতা কপালে জুটেনি। রহিমার এলাকার জনপ্রতিনিধিদের চোখে পড়েনি তিনি। তারা আবার কেমন জনপ্রতিনিধি- তা’ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এলাকায়।
১৩০ বছর বয়সে স্বামী হারা এ বৃদ্ধা যদি বয়স্ক ভাড়া না পেয়ে থাকে তাহলে পাচ্ছে কারা- সরকারের এ ভাতা? যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বলাখাল ওলিউল্ল্যাহ সর্দার বাড়ির মৃত হাবিবউল্ল্যাহ মুন্সীর স্ত্রী রহিমা বেগম।
আমাদের দেশে বর্তমান এ সময়ে মানুষের বেঁচে থাকার গড় আয়ু যখন ৬০ থেকে ৭০ বছর। ঠিক তখনই যদি দ্বিগুণ বয়সী মানুষের দেখা মেলে তখন তার জীবন নিয়ে জানার কৌতূহল জেগে উঠে সবার মধ্যে।
সরেজমিনে বৃদ্ধার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৫০ বছর আগে তার জীবনসঙ্গী স্বামীকে হারিয়ে রহিমা একাকি হয়ে যায়। ৪ ছেলে ও ৪ মেয়েসহ বড় একটি পরিবারের দায়িত্বে ছিলেন রহিমা। কিন্তু বয়স যখন শত বছর পার করেছে তখন আর শরীরের সাথে দায়িত্বভার ঘরের এক কোণে লুকিয়ে যায়। আর সে থেকে আস্তে আস্তে পরিবারের লোকজন আলাদা হয়ে যায়। কিন্তু বৃদ্ধা রহিমার বয়স যত বাড়ছে ততই যেন তার সময়টা জটিল হয়ে উঠেছে। সন্তানদের পরিবারের মাঝে দেখা দেয় ভাগ-ভাটোয়ারার খেলা।
বৃদ্ধ রহিমা বেগমের বড় দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ থেকে ৮০ বছর। বর্তমানে দুই ছেলের মধ্যে সম্পত্তির জটিলতা দেখা দেওয়ায় রহিমার বাকি জীবনে দেখা দিয়েছে বাঁচার অনিশ্চয়তা। এর আগে স্বামী মৃত্যুর পর পাননি কোন বয়স্ক বা বিধবা ভাতা।
বৃদ্ধের দুই মেয়ে শাহিদা ও নূরজাহান বেগম বলেন, আমাদের ভাই আবুল বাসার ও খলিলুর রহমানের মধ্যে জায়গা-জমিনের বিরোধ দেখা দেয়। যে কারণে মাকে নিয়ে একপ্রকার টানাটানি শুরু হয়েছে। তার সেবা করার মত যেন কারও সময় নাই। তারা এখন মামলা-হামলায় জড়িয়ে মায়ের থাকার মত পরিবেশ নেই।
বৃদ্ধার নাতনী রাজিয়া সুলতানা বলেন, আমার জেঠা আবুল বাসার সু-কৌশলে শত বৎসর বয়সী দাদির কাছ থেকে প্রায় ১৩ শতাংশ জায়গা লিখে নেয়। আমার বাবা খলিলুর রহমান পরিবারের ছোট ছেলে হিসাবে দাদার ঘর পেয়ে মেরামত করেছে। কিন্তু গত মাসে আমার জেঠা আবুল বাসার ও তার ছেলে নুরে আলম জোরপূর্বক দাদার দেয়া ঘর উচ্ছেদ করে, সেখানে নতুন ঘর তৈরি করে দখল করেছে।
স্থানীয়ভাবে কয়েকবার সালিস হওয়ার পরেও তারা বলে আমরা নাকি কোন জায়গাজমি পাবো না। অথচ ফুফুদের কাছ থেকে ওয়ারিশ সম্পত্তি ৬ শতাংশ ও দাদার সম্পত্তির পাওনা ৪ শতাংশ আবুল বাসার জোরপূর্বক ভোগ দখল করে ভোগ করছে। তাই বাধ্য হয়ে থানায় ঘর উচ্ছেদের অভিযোগ দায়ের করেছি। দাদির বসবাসকৃত (বৃদ্ধা রহিমা বেগম) ঘরটি খোঁজখবর নেওয়ার জন্য তার স্বামীর বাড়ী থেকে এই ঘরে উঠিয়ে দিয়েছে। কিন্তু জেঠা আবুল বাসার সে ঘরের বিদ্যুতের সংযোগটি পর্যন্ত কেটে দিয়েছে।
আবুল বাসার বলেন, বৃদ্ধা মা আমার ঘরে থাকেন, আমার ঘরে খান তা সবাই জানে। মায়ের নিজ অংশ থেকে কিছু সম্পত্তি আমাকে দান করেছেন। আমার ভাই খলিলুর রহমান মায়ের কোন খোঁজখবর নেন না।
স্থানীয় কাউন্সিলর মাঈনুদ্দিন মিজি বলেন, এই পরিবারের ১৩০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মায়ের সন্তানরা যে যারমত জীবনযাপন করছেন। দুই ভাইয়ের জমিসংক্রান্ত জটিলতার কারণে মায়ের সেবা কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। এ ভেবে আমি নিজ উদ্যোগে সালিস বৈঠকে বসার আহ্বান করেছি।
০৬ অক্টোবর, ২০২১।