স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, চাঁদপুরের কৃতী সন্তান মিজানুর রহমান চৌধুরীর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) বাদ আছর পরিবারের পক্ষ থেকে চাঁদপুরে নিজ বাড়িতে মসজিদ মাদ্রাসায় দোয়ার আয়োজন করা হয়। এছাড়া চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনীতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুম মিজানুর রহমান চৌধুরীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তার বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।
শহরের পুরাণবাজার চৌধুরী বাড়ি বাইতুল হাফিজ জামে মসজিদে আয়োজিক মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানে মরহুম মিজানুর রহমান চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী সাজেদা মিজান এবং বড় ছেলে দীপু চৌধুরীর রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
দোয়ার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান রহমান চৌধুরী একজন সজ্জন ব্যক্তি, প্রথিতযশা রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। তিনি ছিলেন আমাদের জাতীয় নেতা এবং জাতীয় সম্পদ। তিনি একজন ব্যক্তিই নন, একটি একটি প্রতিষ্ঠান, একটি ইনস্টিটিউট ছিলেন। যে প্রতিষ্ঠান থেকে আমাদের অনেক কিছু শিখাার আছে। আমরা জানি রাজনীতি হল সমাজের সর্বোচ্চ সমাজসেবা। সেই সেবার কাজটি মিজানুর রহমান চৌধুরী করে গেছেন।
তিনি আরো বলেন, মরহুম মিজানুর রহমান চৌধুরী এক বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারি ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। যে সমাজে ভালো কাজের কদর নেই, সেই সমাজে ভালো কাজের সৃষ্টি হয় না। তাঁর মতো একজন প্রথিতযশা রাজনীতিবিদ চাঁদপুরের মাটিতে জন্মগ্রহণ করেছেন, এজন্য চাঁদপুরবাসী তাঁকে নিয়ে গর্ববোধ করে। মিজানুর রহমান চৌধুরীর জীবন ও কর্ম আমাদের মাঝে জিয়রে রাখতে হবে। জাতীয় স্বার্থে তাঁর মতো নেতাকে স্মরণ করতে হবে। আজকের এই দিনে আমরা জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।
আরো বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ ওসমান গনি পাটোয়ারী, চাঁদপুর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আলহাজ মিজানুর রহমান কালু ভূঁইয়া, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী, পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন মরহুম মিজানুর রহমান চৌধুরীর ছেলে ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আমানউল্লাহ মিজান রাজু চৌধুরী।
দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বাইতুল হাফিজ জামে মসজিদে ইমাম মাও. মোদাচ্ছের আলী।
এসময় উপস্থিত সবার দাবি এবং প্রস্তাবনার পেক্ষিতে মরহুম মিজানুর রহমান চৌধুরীর নামে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যার মাধ্যমে গরিব, অসহায় এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কাজ করা হবে।
অন্য বক্তারা বলেন, মিজানুর রহমান চৌধুরী আমৃত্যু দেশ এবং মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। মিজানুর রহমান চৌধুরী মত গণমানুষের নেতা বার বার জন্ম নেয় না। তাদের মতো মহাপুরুষরা ইতিহাসের সৃষ্টি। তাদের আদর্শকে ধারণ ও লালন করলে আমরা নিজেরাই সমৃদ্ধ এবং উপকৃত হবো। আমরা বিশ্বাস করি তার ভালো কাজের উছিলায় মহান আল্লাহ পাক তার কবরে রহমত নাযিল করবেন এবং তাকে জান্নাত দান করবেন। আগামিতে যেন আরো বড় পরিসরে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়। সেজন্য আমাদের সবার সহযোগিতা থাকবে।
দোয়া অনুষ্ঠানে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল্লাহ কোম্পানি, মরহুম বাচ্চু মিয়াজীর ছেলে মো. জামিনুল হক বিপুল, সাবেক কাউন্সিলর মাহফুজ বেপারী, পৌর আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুর আহমেদ মঞ্জু মাঝি, কৃষি বিষয়ক জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া, চাঁদপুর চেম্বারের সাবেক পরিচালক ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী, ব্যবসায়ী সেলিম মিজি, ফরিদ দিদার, মাহবুবুর রহমান মানিক, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম বিপ্লব, হারুনুর রশিদ বেপারী, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ শরিফ, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হাসিবুল হাসান মুন্না, আবু পাটোয়ারিসহ আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, মরহুমের আত্মীয়-স্বজন এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।
০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২২।
